মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল করে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি!


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৬ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার
মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল করে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি! বায়ের মুক্তিযোদ্ধা, মাঝে জমি ও ডানে অভিযুক্ত মজিবর।

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা জুলহাস মিয়ার জমি অবৈধ ভাবে দখল নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে চলেছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও কোন সুফল পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনায় সহযোগিতা ও জীবনের নিরপত্তা চেয়ে মুক্তিযোদ্ধা জুলহাস মিয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা জুলহাস মিয়া হলেন সফতুল্লার সস্তাপুর পূর্বপাড়া এলাকার মৃত হাতেম আলীর ছেলে।

লিখিত অভিযোগ তিনি উল্লেখ করেন, ‘সস্তাপুর পূর্বপাড়া এলাকার মজিবর রহমান (৫১), জুয়েল (৩৫), আনোয়ার হোসেন (৫২), খোরশেদ আলম খুশু (৫১), রাজ্জাক (৩৫), রাজু ওরফে গাজু (২৮), জহিরুল আলম জহু (৫৩) সহ অজ্ঞাত আরো ১০ থেকে ১২জন বিভিন্ন ভয়ভীত ও মামলা দিয়ে হয়রানী করে আমার ৯ শতাংশ সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করেছে। এখন আসামিরা নির্মাণাধীন বাড়ি সহ অন্যান্য সম্পত্তি ও ৯ শতাংশ জায়গা লিখে দেওয়ার জন্য পায়তারা করে চলেছে।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘এ বিষয়ে স্থানীয় গনমাণ্য ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে মিমাংসা করার জন্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।এখন নতুন করে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি সহ প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে আসামীরা আমার বাসায় এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি সহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য বলে। এর প্রতিবাদ কলে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমার পরিবারের লোকজনদের মারধর করতে আসে। পরে আমাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় বলে যায় আমাদের পরিবারের লোকজনদের যেখানে পাবে সেখানে শেষ করে ফেরবে। এরা সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু এবং খারাপ লোক। নিজেদের ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় দিয়ে এলাকায় অপকর্ম করে বেড়ায়। তাদের এ হুমকিতে আমি সহ পরিবারের সবাই আতংকিত ও জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

জুলহাস মিয়া বলেন, ‘এর আগেও পুলিশ সুপার ও ফতুল্লা মডেল থানার ওসিকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা কোন সমাধান করে দিতে পারেনি। এখন আমরা বাড়ির মালিক হয়েও নিজের বাড়িতে উঠতে পারি না। সব সময় জীবন নিয়ে ভয়ে থাকি। কখন আবার পরিবারের ক্ষতি করে। তাই বাধ্য হয়ে আবারও পুলিশ সুপারের কাছে এসেছি। আমার বিশ্বাস তিনি সহযোগিতা করবেন।’

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর