সোনারগাঁয়ে হত্যা মামলায় আসামী সাংবাদিক


সোনারগাঁ করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:১৩ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, বুধবার
সোনারগাঁয়ে হত্যা মামলায় আসামী সাংবাদিক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নিউজ প্রকাশের জের ধরে শাহজালাল নামের এক সাংবাদিককে হত্যা মামলায় আসামী করার অভিযোগ উঠেছে। মামলায় দৈনিক আমাদের নতুন সময় পত্রিকার সোনারগাঁ প্রতিনিধি শাহজালালকে আসামী করা হয়। সাংবাদিক শাহজালাল প্রতিকার চেয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলমের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে সাংবাদিক শাহজালাল উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের ২৪ জুন শুক্রবার হাজী আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে শতাধিক কৃষকের স্বাক্ষরিত দৈনিক নতুন সময় পত্রিকায় ‘সোনারগাঁয়ে কৃষিজমি রক্ষায় কৃষকদের স্মারকলিপি’ শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশ করেন।

ওই সময়ে সাংবাদিক শাহজালালকে হাজী আলাউদ্দিন হামলা ও মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। গত শুক্রবার রাতে নয়াগাঁও গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও ১০-১২জন সাংবাদিকের সঙ্গে তথ্য সংগ্রহ করতে যাই। ওখানে আমাকে আলাউদ্দিন দেখতে পেয়ে পুলিশের সামনেই পুনরায় মামলায় আসামী করার হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়টি সোনারগাঁ থানার ওসি তদন্ত তবিদুর রহমানকে অবগত করেন। পরদিন শনিবার সকালে পুনরায় ওই গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওইদিন তিনি উদ্ভবগঞ্জ বাজারে অবস্থান করেন। সংঘর্ষে আহত সমর আলীকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি মারা যান। ওই সময় আমি তথ্য সংগ্রহ করতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত সমর আলীর ভাই আব্দুল আলী বাদি হয়ে ১৭ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করনে। এ মামলায় তাকে উদ্যেশ্য প্রণোদিতভাবে এ মামলায় ১৭ নং আসামী করা হয়েছে।

সাংবাদিক শাহজালাল বলেন, হাজী আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে নিউজ প্রকাশ করার জের ধরে হত্যা মামলায় আমাকে জড়ানো হয়েছে। পুলিশও কোন প্রকার তদন্ত ছাড়াই মামলা নিয়েছেন। আমি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এ মামলা থেকে অব্যাহতি ও পুলিশ হয়রানী বন্ধের দাবি করছি। অন্যথায় সত্য সাংবাদিকতা হুমকির মুখে পড়বে বলে বিশ্বাস করি।

মামলার বাদী মো. আব্দুল আলী বলেন, শাহজালাল এ সংঘর্ষের লাঠিসোঠা যোগানদাতা। তার কারণেই এ সংঘর্ষ হয়েছে। ফলে আমার ভাই মারা গিয়েছে।

সোনারগাঁ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, বাদির অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা গ্রহন করা হয়েছে। এ মামলাটি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে ছাড় পাবে না। নির্দেষ হলে এ মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম বলেন, এ মামলায় তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ দোষী প্রমাণিত না হলে কোনভাবেই হয়রানী করা হবে না। তাদেরকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর