হাতে চুড়ি পড়া নিয়ে ‘কুসংস্কারে’ দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ


রূপগঞ্জ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৪:৫২ পিএম, ০৬ মার্চ ২০২১, শনিবার
হাতে চুড়ি পড়া নিয়ে ‘কুসংস্কারে’ দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে ধরে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে।

শনিবার (৬ মার্চ) সকালে উপজেলার কাঞ্চন পৈারসভার কেন্দুয়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন শারমিন বেগম, আরিফ হোসেন, মাসুদ, আবুল হোসেন, রূপা, নুরু মিয়া, নুরউদ্দিন মিয়া, আখলি বেগম।

আহত ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ৭ বছর আগে কেন্দুয়া এলাকার হারুন মিয়ার ছেলে নুরু মিয়াকে একই এলাকার আবুল হোসেনের মেয়ে শারমিন বেগম প্রেম করে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে সাহেদ (৪) নামের একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পর কয়েক বছর পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়াদি নিয় শারমিন ও নুরু মিয়ার ঝগড়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে আসছিল। এর জের ধরে গত শুক্রবার বিকেলে গৃহবধূ শারমিন বেগম স্বামী নুরু মিয়াকে দুপুরের খাবার খেতে দেন। এসময় হাতে চুরি না পড়ে খাবার দেওয়ায় মৃত্যু কমে যায় এমন কুমংস্কারে নুরু মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে গিয়ে শারমিন বেগমকে মারধর করেন। মারধর করায় শারমিন বেগম তার বাবার বাড়ি চলে যায়। শনিবার সকালে শারমিন বেগম ও তার পরিবারের লোকজনসহ কাপড় আনতে স্বামী নুরু মিয়ার বাড়িতে যায়। এসময় শারমিন বেগম ও নুরু মিয়ার মাঝে বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে শারমিন বেগমের পরিবারের লোকজন ও নুরু মিয়ার পরিবারের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে একপক্ষ অপরপক্ষে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে।

শারমিন বেগমের মা লাকী বেগম জানান, নুরু মিয়া মাদক সেবন তার মেয়ে শারমিন বেগমকে প্রায় সময় মারধর করে। এর জের ধরে শুক্রবার বিকেলে স্বামী নুরু মিয়া গৃহবধূ শারমিন বেগমকে মারধর করলে সে মা লাকী বেগমের বাড়িতে চলে যায়। শনিবার সকালে শারমিন ও তার দুই ভাই আরিফ হোসেন ও মাসুদসহ স্বামী নুরু মিয়ার বাড়িতে কাপড় আনতে গেলে নুরু মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন তাদের উপর হামলা চালিয়ে তাদের ৫ জনকে আহত করেন।

অপরদিকে স্বামী নুরু মিয়া জানান, হাতে চুড়ি না পড়ে খাবার দেওয়ায় শারমিন বেগম ও তার মাঝে বাকবিতন্ডা হলে সে তার বাবার বাড়ি চলে যায়। শনিবার সকালে শারমিন বেগম আসে তার পরিবারের লোকজন নিয়ে কাপড় নেওয়ার জন্য আসলে শারমিনের পরিবারের লোকজন তাদের উপর হামলা চালিয়ে তাদের তিনজনকে আহত করেন।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর