বিলের পাহাড় অপর্যাপ্ত সংগ্রহ


সাবিত আল হাসান,স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৩৮ পিএম, ১০ জুন ২০২১, বৃহস্পতিবার
বিলের পাহাড় অপর্যাপ্ত সংগ্রহ

ভরা বর্ষার মাঝেও শুষ্ক সড়ক লালপুর ও পৌষারপুকুর পাড়ের বাসিন্দারা দেখতে পেয়েছিলো ২০১৮ সালে। সেবার ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে লালপুরের ব্রাজিল বাড়িতে ছুটে এসেছিলেন রাষ্ট্রদূত জোয়াও তাবাজারা ডি অলিভিরা জুনিয়র। তার আগমনের ৩ দিন পূর্বেও লালপুরের সড়কে চলতো নৌকা। এক রাতের ভেতর ড্রেজার বসিয়ে নিষ্কাশন করা হয় সড়কে জমে থাকা পানি। বছরের পর বছর মটর চালিয়ে যেই পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হয় না সেই পানি একরাতেই উধাও।

এরপর কেটে গেছে ৩ বছর। নির্ধারিত বর্ষা মৌসুমে সড়কে জমে যাচ্ছে হাটু সমান পানি। আর শুষ্ক মৌসুমে পানিবিহীন সড়কের দেখা পান বাসিন্দারা। এভাবে চলে আসছে বছরের পর বছর। এই সমস্যা থেকে নিস্তার পাবার জন্য মটর বসানো এবং মাসে মাসে চাঁদা প্রদান করলেও সুরাহা পাচ্ছেন না কেউই। উল্টো সেই মটর দীর্ঘ সময় চালু রাখার কারনে দ্রুতই নষ্ট হয়ে বিপত্তি ডেকে আনছে।

প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে মটর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আলী হোসেন বলেন, ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ খেলার সময় আমিই প্রথম ড্রেজার বসানোর পরামর্শ দেই ব্রাজিল বাড়ির মালিক টুটুলকে। সে আমার পরামর্শে ড্রেজার বসায়। সেই ড্রেজারে পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব আমিই পালন করি। আমার কাজে খুশি হয়ে চেয়ারম্যানরা বলে মটর পরিচালনার দায়িত্ব নিতে। কিন্তু মটর আর ড্রেজারের ভেতর অনেক পার্থক্য। ৩ টা মটর ২ দিনে যেই পরিমান পানি সরাবে একটা ড্রেজার ১ রাতে তার চেয়ে বেশী পানি সরিয়ে দিতে পারবে।

তবে মটর এবং ড্রেজারের খরচের তফাৎ জানাতেও ভুলেননি। তিনি জানান, ৩টি মটর সারাদিন চললে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা বিল উঠে ১ দিনে। যেহেতু এই মটর বাণিজ্যিক মিটারে পরিচালিত হচ্ছে। আর ড্রেজার সেখানে একদিনে ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা বিল তুলে ফেলবে। তাছাড়া ড্রেজার কিনে আনা বা ভাড়ায় নিয়ে আসলে তার খরচও রয়েছে। যদি এলাকার মিল মালিক, চেয়ারম্যান, এমপি সবাই মিলে চেষ্টা করে যে লালপুরের পানি রাখবে না তাহলেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।

মটর পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকা নেতারা জানান, বর্তমানে সাড়ে ৩ শত বাড়ি থেকে প্রতি মাসে ২০০ টাকা চাঁদা আদায়ের টার্গেট থাকে আমাদের। কিন্তু সর্বসাকুল্যে ২০০ বাড়ি থেকে আমাদের টাকা উঠে। শুষ্ক মৌসুমে এর পরিমান আরও কমে যায়। তাতে আমাদের মোট টাকা উঠে ৪০ হাজারের মত। সেখান থেকে চাঁদা তোলা এবং বেতন ভাতা ও অন্যান্য খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকা চলে যায়। বাকি ২০ হাজার টাকা পাম্পের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং পাম্প নষ্ট হলে সেই কাজে লাগানো হয়।

তারা আরও জানান, কোন একবার পাম্প নষ্ট হলেই ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাগে ঠিক করতে। কমিটির ফান্ডে সেই টাকা না থাকলে স্থানীয় কারও মাধ্যমে টাকা নেয়া হয়। পরে সেই টাকা কমিটি থেকে উত্তোলন করে পরিশোধ করা হয়। এই উত্তোলন করা চাঁদা থেকে কেউ টাকা নেয় না। প্রতি মাসেই চেয়ারম্যান এই খাতে ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। চাঁদার টাকায় মটর পরিচালিত হয়, এই টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ বিল দেয়ার কোন কথা বলা হয়নি। বিদ্যুৎ বিলের বিষয় চেয়ারম্যান নিজের কাঁধে দায়িত্ব নিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে ড্রেজার বসানো ব্যয়বহুল স্বীকার করে আলী হোসেন জানান, শুনতে পাচ্ছি আরও ২টি মটর বসানো হবে এখানে। সেক্ষেত্রে আমার পরামর্শ থাকবে ১২ ইঞ্চি পাইপের ১টি মটর এবং ৮ ইঞ্চি পাইপের ২টি মটর যাতে বসানো হয়। তাহলে দ্রুত পানি সরবে। বর্তমানে ৮ ইঞ্চি পাইপের ১টি মটর এবং ৬ ইঞ্চি পাইপের ২টি মটর চালু আছে।

দীর্ঘদিনের জমে থাকা বিদ্যুৎ বিল কিভাবে পরিশোধ করা হবে তা জানতে চাইলে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুতফর রহমান স্বপন বলেন, বিদ্যুতের বিল ৬০ লাখ টাকার উপরে চলে গেছে। এত বিল তো হঠাৎ করে পরিশোধ করা সম্ভব না। আমরা চেষ্টা করছি কিভাবে এই বিল পরিশোধ করা যায়। এমপি সাহেবের সাথে কথা বলে বিল সংক্রান্ত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর