মটর বন্ধ হলেই বিপদ


সাবিত আল হাসান,স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৪৮ পিএম, ১০ জুন ২০২১, বৃহস্পতিবার
মটর বন্ধ হলেই বিপদ

ডিপিডিসি থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরদিনই নতুন করে সংযোগ দেয়া হয়েছে বৃহত্তর লালপুর, পৌষারপুকুর পাড় এবং বাংলাদেশ খাদ এলাকার পানি নিষ্কাশনের মটর। কিছু সময় পর পর বৃষ্টি হওয়া পানি নিষ্কাশনের জন্য মটর চালুর বিকল্প নেই। আর তাই বৈধ-অবৈধের চিন্তা না করে মটরে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন স্থানীয়রা।

বুধবার (৯ জুন) সরেজমিনে বাংলাদেশ খাদ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পানি নিস্কাশনের ৩টি মটরের মধ্যে ২টি চালু রয়েছে। এর ভেতর একটি ৫০ হর্স পাওয়ার অপরটি ২৫ হর্স পাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন। প্রায় ঘণ্টাখানেক অবস্থান করে দুটো পাম্পই চালু থাকতে দেখা যায়। পাইপের মাধ্যমে পানি সরিয়ে নেয়া হচ্ছে খালে। পুরো পাম্পের সার্বক্ষনিক তদারকিতে আছেন পাম্পের ম্যানেজার আলী হোসেন।

আলী হোসেন জানান, ৩ দিন আগে ডিপিডিসির লোকেরা এসে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তাদের বিল বাকি। কিন্তু এই পাম্প বন্ধ থাকলে তো মানুষের বাসা বাড়িতে উঠে যাওয়া পানি নামবে না। বাধ্য হয়ে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে চালু করতে হয়েছে মটর। দিন রাত মিলিয়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টা মটর চালু রয়েছে। মটরগুলোকে বিশ্রাম দেয়ার জন্য ২টা চালানো হয়। বেশী সময় ধরে চললে মটর জ্বলে যাবে। একটা বন্ধ করে আরেকটা ছাড়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা হালিমা বেগম বলেন, ‘‘মটর তো দেখি চলে আবার বন্ধ রাখে। অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়াইসে যে মটর না চালাইলে আমাগো খাদ (বাংলাদেশ খাদ) এলাকায় পানি উইঠা যাইব। এখন লালপুরের মত আমাগো জন্যেও মটর চালানো দরকার। কয়েকদিন পর পরেই মটর নষ্ট হয়। তখন মানুষের কষ্টও বাড়ে। মাঝখানে দেখছি মটরের লাইন বন্ধ কইরা দিসে সরকারি লোকেরা। এখন আবার চালু করছে। এমনে আর কতদিন চলবো কে জানে।’’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃহত্তর লালপুর, পৌষারপুকুর পাড়, আল আমিন নগর এলাকার সকল পানি এই মটরের মাধ্যমেই নিষ্কাশিত হয়। ৩টি মটরে দীর্ঘ সময় পানি নিষ্কাশনের জন্য চালিয়ে রাখা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তার উপরে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল। জমে জমে এর অংক দাঁড়িয়েছে ৬২ লাখ টাকায়। এমন বিপুল পরিমান অর্থ কিভাবে পরিশোধ করা হবে তা নিয়ে যেমন চিন্তা রয়েছে, তেমনি এত টাকা ভর্তুকি দিয়েও স্থায়ী সমাধান না মেলায় হতাশা জন্ম নিয়েছে বাসিন্দাদের মাঝে।

মটর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আলী হোসেন বলেন, এই ৩টি মটর ৩ভাবে যুক্ত হয়েছে। বড় মটরটি (৫০ হর্স পাওয়ার) শাহ আলম সাহেব দিয়েছেন। বাকি ২টি মটরের ভেতর একটি স্বপন চেয়ারম্যান আরেকটি এলাকাবাসী মিলে কিনে দিয়েছে। লালপুর এলাকায় বসবাস করা বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে আরও ২টি মটর বসানোর কথা রয়েছে। যদিও এর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

স্থানীয় বাড়িওয়ালা আক্তার হোসেন বলেন, মটরের জন্য যেই ঘর নির্মাণ করা হয়েছে তা মটর ছাড়লেই কাঁপে। শুনতে পাচ্ছি এই বছরের শেষে নতুন মটর যুক্ত করাহবে আর নতুন করে মটরের ঘর নির্মাণ করা হবে। সেই কাজ সম্পন্ন হলে দ্রুত পানি সরানো যাবে এবং কোন মটর জ্বলে গেলেও পানি নিষ্কাশনের কাজ বন্ধ থাকবে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর