দেলোয়ার চেয়ারম্যান ও মেম্বারের উন্নয়নের মুলা


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৩৪ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০২১, মঙ্গলবার
দেলোয়ার চেয়ারম্যান ও মেম্বারের উন্নয়নের মুলা

বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড গঠিত ফরাজিকান্দা ও বালিয়া এলাকা দুটি নিয়ে। স্থায়ী বাসিন্দা রয়েছেন প্রায় এক হাজারের বেশি। এছাড়া কর্ম সুবাধে আরও বেশ কিছু মানুষ বসবাস করেন এই ওয়ার্ডে। সিটি করপোরেশনের ঠিক সাথেই এই ওয়ার্ডের অবস্থান। কিন্তু এখানকার চলাচলের জন্য নির্মিত সড়ক একেবারেই অনুপযোগী। ব্যক্তিগত গাড়ি তো দূরে থাক রিক্সাও ঠিকমত চলাচল করতে পারে না।

সরেজমিনে ওয়ার্ডের বালিয়া, ফরাজিকান্দা ঈদগাহ, মাদ্রাসা রোড ও উপজেলা সড়ক ঘুরে দেখা যায় সড়কের বেহাল চিত্র। সিটি করপোরেশন থেকে কলাগাছিয়া ইউনিয়নে প্রবেশ করতে হয় ১ নং ওয়ার্ডের মধ্য দিয়েই। কিন্তু প্রবেশ পথ এতটাই খানা খন্দকে জর্জরিত যে সিএনজি এবং ইজিবাইক চালকরা মদনগঞ্জ ঘুরে প্রবেশ করেন কলাগাছিয়ায়। ভাঙ্গা সড়কের কারনে সিএনজি এবং ইজিবাইকের পার্টস খুলে রাস্তায় পরে যাওয়ারও ঘটনা আছে অহরহ। গত ৫ বছরে এই সড়ক সংস্কারের মুলা ঝুলিয়ে রেখেছেন জনপ্রতিনিধিরা।

মূল সড়কের পাশ দিয়েই ফরাজিকান্দায় যাবার পথ। মাদ্রাসা রোড এবং উপজেলা থেকে ফরাজিকান্দা ঈদগাহ সড়কের অবস্থাও বেসামাল। মাদ্রাসা রোডে প্রবেশ পথে ইজিবাইক কিংবা রিকশার চাইতে হেঁটে দ্রুত চলাচল করা যায়। অন্তত ৮’শ মিটার সড়ক জুড়ে কেবল ইটপাথর বিছানো এবরো থেবরো সড়ক। বৃষ্টির পর সড়কের অবস্থা হয় আরও শোচনীয়। কাদাপানিতে মাখামাখি হয়ে চলাফেরা করতে হয় পথচারীদের। রিক্সা চালকরাও যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া হাঁকেন দুই থেকে তিনগুন। আবার কোন কোন রিক্সা বাড়তি ভাড়াতেই আসতে চান না মাদ্রাসা রোডে। ফলে অসুস্থ রোগী ও মহিলাদের জন্য এই সড়ক অভিশাপ রূপে আবির্ভুত হয়েছে।

ফরাজিকান্দা মাদ্রাসা থেকে ঈদগাহ মাঠের দিকের সড়কের অবস্থাও শোচনীয়। কতদিন ধরে এসব সড়ক সংস্কার করা হয়নি তা বলতে পারেননা এলাকাবাসীও। উপজেলা সড়ক থেকে ফরাজিকান্দা ঈদগাহ সড়ক এককালে আরসিসি ঢালাই দিয়ে নির্মান করা হলেও তা ভেঙ্গে হেলে পড়েছে একপাশে। সড়কে আরসিসি ঢালাই অর্ধেক শেষ করে বাকি অংশ এখনও কাঁচা রেখে দেয়া হয়েছে।

এমন অর্ধেক সংস্কারের চিত্র দেখা গেছে বালিয়া গ্রামেও। প্রবেশপথে আদর্শ গ্রাম হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও বালিয়ার ভেতরের সড়ক সংস্কার করা হয়েছে অর্ধেক। দক্ষিন পাশের সড়ক নির্মান হলেও নেই ড্রেন। আর উত্তর পাশে ড্রেন নির্মান হয়েছে কিন্তু সড়ক নেই। বাঁধ্য হয়ে ড্রেনের উপর দিয়েই গ্রামবাসীকে চলাচল করতে হয়। রিক্সা তো দূরে থাক সাইকেলও প্রবেশ করানো যায়না বালিয়া-ঈদগাহ সড়কে। অর্ধেক কাজ করে ফেলে রাখায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বাসিন্দারা।

বালিয়া এলাকার বাসিন্দা রাসেল বলেন, রাস্তা না বানায়া শুধু ড্রেন বানায়া রাখছে। কোন কিছু আনা নেয়া করা যায়না। সব মালামাল হাতে অথবা মাথায় নিয়া চলাচল করতে হয়। সাইকেল রিক্সা কিছু ঢুকেনা এই রাস্তায়। ঠিক করার কথা বইলা কাজ ধরছে। এখন বলে পাশের পুকুরে মাছের ক্ষতি হইবো। এই মাছ উঠাইবো তারপরে রাস্তা করবো। মানে আগামী ৫/৬ মাসে রাস্তা আর হইবো না।

ফরাজিকান্দা মাদ্রাসা রোডের দোকানি মনিরুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তা ২ বছর ধরে নষ্ট। মেম্বার চেয়ারম্যানের কাছে জিগাইলে কয় টেন্ডার হইসে। কয়দিন পর কাম ধরবো। এই পর্যন্তই শ্যাষ। আমরা মালামাল আনতে পারিনা, আইতে যাইতে কষ্ট হয়। হেরা হেগো কাম লইয়াই আছে। সেলিম ওসমান এত কিছু করে এই রাস্তাগুলা ঠিক কইরা দিতে পারে না? মাইনষে কতদিন কষ্ট করবো? সবগুলা রাস্তা অর্ধেক কাম কইরা দেখাইতাছে যে সামনে কাম হইব

এই ব্যাপারে কলাগাছিয়া ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মোমেন কচির কাছে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। বেশ কিছু প্রশ্নের পরে তিনি বলেন, রাস্তার জন্য সবগুলো সড়কেরই টেন্ডার হয়ে আছে। কিন্তু ফান্ডে পর্যাপ্ত টাকা নাই। তাছাড়া করোনার কারনে ঠিকঠাক কাজ করতে পারিনাই আমরা। যদি আরেকবার এলাকাবাসি জিতায় তাইলে কাজ কইরা দিতে পারবো।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, করোনা আর টেন্ডারের দোহাই দিনে জনপ্রতিনিধিদের এমন আচরণ বছর জুড়ে দেখে এসেছেন তারা। গত ৫ বছরে এই কলাগাছিয়া বাসি রাস্তার জন্য যেই পরিমান কষ্ট করেছেন তা অন্য কোথাও করেনি কেউ। সিটি করপোরেশনের লাগেয়া ইউনিয়ন হয়েও এমন দুর্ভোগ হতাশ করেছে বাসিন্দাদের।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর