এবার স্ত্রীকে মেয়র বানাতে চান জাতীয় পার্টির এমপি খোকা


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:২৬ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার
এবার স্ত্রীকে মেয়র বানাতে চান জাতীয় পার্টির এমপি খোকা

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের শেষের দিকে সোনারগাঁও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাথে দিন যাওয়ার সাথে সাথে ঘনিয়ে আসছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভা নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নিজেদের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছেন। পিছিয়ে নেই বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শরিক দল জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও।

সোনারগাঁ পৌরসভা নির্বাচনে অন্য কোনো সময় জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাঠে না থাকলেও এবারের পৌরসভা নির্বাচনে স্বয়ং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার স্ত্রী ডালিয়া লিয়াকত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বানীয় সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা অন্য সময় অন্য দলের প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকলেও এবার নিজের স্ত্রীকে নিয়েই নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সেই সাথে নির্বাচনী মাঠও জমে উঠতে শুরু করছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে তিনশ` পৌরসভা রয়েছে। এদের মধ্যে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একযোগে ২৩৪টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া অন্যান্য পৌরসভাগুলোর ভোট মেয়াদ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর যে পৌরসভাগুলোর ভোট হয়েছিল, তার বেশিরভাগের মেয়র ও কাউন্সিলররা পরের বছর (২০১৬ সাল) জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নেন। আর ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

পৌরসভা আইন অনুযায়ী, পৌরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই যেসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে, সেগুলোতে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোট করতে হবে।

তারই অংশ হিসেবে কমিশন সভায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোটগ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ডিসেম্বরেই ভোট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে সোনারগাঁ পৌরসভা নির্বাচনও রয়েছে।

আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনী সভা সমাবেশ করে যাচ্ছেন। তবে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন পর্যন্ত তেমন কেউ আলোচনায় আসেনি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তাদের শরীক দল জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরাই নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে রয়েছেন। আর এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার স্ত্রী ডালিয়া লিয়াকতও জাতিয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাজুড়ে বন্যার ফেস্টুন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এর আগে তিনি ২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনে ফজলে রাব্বীকে নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন কায়সার হাসনাত। ওই সময় নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু ও সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাত রীতিমত মনোনয়ন যুদ্ধে নেমেছিলেন ফজলে রাব্বীর পক্ষে। এই দুইজন মিলে তুমুল লড়াইয়ের পর ফজলে রাব্বীর হাতেই মনোনয়ন আসছিল নৌকা প্রতীকের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় পাননি ফজলে রাব্বী।

কারণ ওই সময় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাদেকুর রহমানকে মাঠে নেমেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। ফলশ্রুতিতে নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে শেষ পর্যন্ত সাদেকুর রহমানেরই জয় এসেছিল। কিন্তু এবার আর তিনি সাদেকুর রহমান নিয়ে মাঠে থাকবে না। নির্বাচনী মাঠে থাকবেন তার স্ত্রী ডালিয়া লিয়াকতকে নিয়ে।

প্রসঙ্গত সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি খোকার দেওয়া সম্পদের হলফনামা অনুযায়ী অর্ধেক সম্পদের মালিক এ ডালিয়া লিয়াকত। প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারী ভ্যালেন্টাইন দিবসে ‘প্রেমিক জুটি’ রোমন্থন করার সময়ে আলোচনায় উঠে এসে দুইজনের নাম। একে অপরের প্রতি অগাধ প্রেম আর ভালোবাসার এতটাই জোর ছিল যেন ডালিয়ার জন্য আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন লিয়াকত হোসেন খোকা।

সোনারগাঁয়ে পৌরসভার মেয়র সাদেকুর রহমান। তিনি টানা কয়েকবারের জনপ্রতিনিধি। আগামীতেও তার পরিবারের একজন এ মেয়র পদে আগ্রহী। ইতোমধ্যে প্রচারণায় নেমেছেন এর আগে নির্বাচন করা যুবলীগ নেতা গাজী মুজিবুর। পোড় খাওয়া এ ত্যাগী নেতার বড় দুর্বলতা ‘আর্থিক অস্বচ্ছলতা’ মনে করেন অনুগামীরা। তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার ‘ত্যাগ’ নিয়ে কারোই কোন সন্দেহ নাই। সবশেষ নির্বাচনে তিনি দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে সরে যান।

প্রার্থী হতে চান গত নির্বাচনে প্রার্থী হয়েও পরাজয় বরণ করা আইনজীবী এটি ফজলে রাব্বি। তিনি আড়াইহাজারের এমপি এক সময়ের তুখোড় ছাত্রলীগের সেক্রেটারী নজরুল ইসলাম বাবুর ভগ্নিপতি। প্রার্থীর তালিকাতে আছেন ছগির আহমেদও।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের শেষের দিকে সোনারগাঁও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাথে দিন যাওয়ার সাথে সাথে ঘনিয়ে আসছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভা নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নিজেদের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছেন। পিছিয়ে নেই বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শরিক দল জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও।

গত সপ্তাহে সোনারগাঁয়ের একাধিক বৈঠক হয় জাতীয় পার্টির। সেখানে পদ না থাকার পরেও উপস্থিত জন ডালিয়া লিয়াকত। উপস্থিত নেতাকর্মীরা স্লোগান তুলেন, ‘মেয়র পদে ডালিয়া লিয়াকততে চাই’। মুখরিত স্লোগানে হাসি দেখা মিলে ডালিয়ার ঠোটের কোনে।

মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে উঠে একটি পোস্টার। সেখানে ডালিয়াকে ‘মেয়র হিসেবেই দেখতে চাই’ লাল কালির দাবী লেখা হয়। সোনারগাঁয়ে এখন আলোচিত ডালিয়া লিয়াকত।

নারায়ণগঞ্জ-৩ তথা সোনারগাঁও আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। ২০১৮ সালে হলফনামা অনুযায়ী তার পেশা ব্যবসা। তার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে কালীরবাজার চারারগোপ যাবতীয় কাচা পাকা ফলের আড়ৎ ও মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় লাবিবা ট্রেড লিংক আইউব প্ল¬াজা। তার ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪০ টাকা ও স্ত্রীর ব্যবসা হতে আয় ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

ব্যাংকে সুদ ও শেয়ার থেকে তিনি আয় করেন ৬১ হাজার ৬৩৪ টাকা ও তার স্ত্রী আয় করেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৮১৪ টাকা। এছাড়া জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তার বাৎসরিক আয় ২২ লাখ ৪৩ হাজার ১৭৫ টাকা।

অস্থাবর সম্পত্তির ভেতর তার নিকট নগদ অর্থ ব্যবসা থেকে রয়েছে ৮১ লক্ষ ৬ হাজার ২৮৮ টাকা ও ব্যবসা বহির্ভূত সম্পত্তি ১৭ লাখ ৫ হাজার ৭৫০ টাকা। এছাড়া একই ভাবে তার স্ত্রীর নিকট ব্যবসা থেকে নগদ অর্থ ৫৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৫ টাকা।

লিয়াকত হোসেন খোকার নামে ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ রয়েছে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৯৪২ টাকা, তার স্ত্রীর নামে ৯ লাখ ৪ টাকা ও তার উপর নির্ভরশীলদের নামে ১৫ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮৫ টাকা রয়েছে।

খোকার নামে শেয়ার রয়েছে ৮ লাখ টাকার ও তার স্ত্রীর নামে শেয়ার রয়েছে ২ লাখ টাকার।

লিয়াকত হোসেন খোকার নিজের কোন গাড়ি নেই। তার স্ত্রীর একটি গাড়ী রয়েছে যার বাজার মূল্য ২৪ লাখ ৩৫ হাজার ২৯ টাকা।

স্বর্ণালংকার তার নিকট উপহার হিসেবে রয়েছে ৩০ ভরি ও তার স্ত্রীর নিকট উপহার হিসেবে রয়েছে ৮৪ ভরি। ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ তার নামে রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার ও তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার।

এছাড়া অন্যান্য আসবাবের ভেতর তার নামে রয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পত্তি ও তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সম্পত্তি। লিয়াকত হোসেন খোকার সৈয়দপুরে ৮ শতাংশ জমি রয়েছে যার মূল্য ২০ লাখ টাকা। তার নিজস্ব কোন বাড়ি নেই তবে তার স্ত্রীর শেয়ারে একটি ৩ তলা বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে যার মূল্য ২০ লাখ ৭২ হাজার ৬৭৯ টাকা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর