জিএম কাদেরের খোঁচা ও সোনারগাঁয়ের রাজনীতি


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:১২ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০, রবিবার
জিএম কাদেরের খোঁচা ও সোনারগাঁয়ের রাজনীতি

সমালোচনার পাত্র হলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। কারণ তাঁর দেয়া বক্তব্য ও খোঁচা। জিএম কাদেরের বক্তব্য নিয়ে অবশ্য অনেকেই মাথা ঘামায় না। কিন্তু এবার তাঁর দেয়া বক্তব্য নিয়ে সোনারগাঁও আওয়ামীলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কঠোর সমালোচনা করছেন। যদিও জাপা’র এমপি খোকা নিয়ন্ত্রিত সোনারগাঁও এলাকার জাপা নেতাকর্মীরা বিষয়টা ধামাচাপা দিতে চাইছে। বিষয়টা ধামাচাপা দেয়া যাচ্ছেনা। উল্টো তুষের আগুণের মত ঘষে ঘষে জ্বলে উঠছে বলে মনে করছেন বোদ্ধামহল।

তাদের মতে, জিএম কাদের বলে গেছেন, আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা অনেক অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন। জাপা নেতাকর্মীরা নাকি ৩০ বছর ধরে অনেক অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে টিকে আছে। কোথায় জাপা নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হলেন, নিপীড়িত হলেন তার কোন রূপ বর্ণনা নেই।

সোনারগাঁয়ের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা মনে করছেন, আসলে কাঁচের ঘরে দাঁড়িয়ে ঢিল ছুঁড়েছেন এরশাদের ভাই জিএম কাদের। তিনিতো ঘরের খবরই ঠিক রাখেন না। সোনারগাঁয়ে দল ক্ষমতায় অথচ রাজত্ব করছে জাপা নেতাকর্মীরা। গ্রামে গ্রামে জাপার লোকজনের প্রাধান্য, প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ। বিভিন্ন সেক্টরে জাপার নিয়ন্ত্রণ। এখানে জাপার লোকজনের ভয়ে আওয়ামীরীগের কর্মীরা দূরে সরে থাকেন। অথচ জিএম কাদের বলেছেন উল্টো কথা।

এরশাদ কন্যা মৌসুমী যেন এখানে মৌসুমী পাখি। অথচ সে সোনারগাঁয়ের অধিবাসী। মৌসুমীর ভাষ্যমতে উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন এমপি মহোদয়। তিনি আবার পৌরসভায় বসাতে চাইছেন তার স্ত্রী ডালিয়াকে। সোনারগাঁয়ের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা দাঁতে দাঁত চেপে সবকিছু নিরবে সইছে। কেননা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাপা’কে সাথে রেখেছেন বলে। নইলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারতো।

প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মতে, জিএম কাদের খুব আপত্তিকর কথা বলে গেলেন। যা নিরবে হজম করার মত নয়। তিনি হয়তো এসেছিলেন এমপি খোকার স্ত্রীকে দলের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিতে। কিন্তু দলের ভেতরের অবস্থা দেখে হয়তো তা পারেননি। তাঁর মত কেন্দ্রীয় নেতার আরো সংযত হয়ে কথা বলা সমীচিন। নইলে উভয় দলের ঐক্যে ফাঁটল ধরতে পারে। সোনারগাঁয়ের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা এমনিতেই এমপি খোকাকে মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। তার উপর ডালিয়া লিয়াকতকে মেয়র বানানোর কসরতকে ভালো চোখে দেখছেনা দলীয় লোকজন। তারা সাদেকুর রহমানকে ম্যানেজ করার কৌশল দেখেও বিরক্ত।

একাধিক সূত্র জানায়, সোনারগাঁও পৌরসভার বর্তমান মেয়র সাদেকুর রহমানকে ম্যানেজ করার জন্য এমপি খোকা কি কৌশলটাই না দেখালেন। স্ত্রী ডালিয়া লিয়াকতকে নিয়ে সাদেকুর রহমানের বাসায় গেলেন। সেখানে মেয়রের পা ছুঁয়ে সালাম করেন ডালিয়া লিয়াকত। একবার নয় দু’বার পা ছুঁয়ে সালাম করেছেন। একবার এমনিতেই। দ্বিতীয়বার মিডিয়ার সামনে। ক্যামেরায় ধারণ করার জন্য। সেদিন ধন্য হয়েছেন মেয়র সাদেকুর রহমান। মাথায় হাত বুলিয়ে তিনি আশীর্বাদ করেছেন ডালিয়া লিয়াকতকে। সবাই ভেবেছিল তিনিই জাপা’র প্রার্থী। জিএম কাদের এসে সেই ঘোষণাই দিয়ে যাবেন। এতেকরে ডালিয়া লিয়াকতের পথ আরো প্রশস্ত ও মসৃণ হবে। কিন্তু তেমনটা ঘটেনি। জিএম কাদের ধান ভানতে গিয়ে গাইলেন শিবের গীত। তাও আওয়ামীলীগকে খোঁচা দিয়ে। নিজের দলকে কতটা জনপ্রিয় দাবি করলেন। বিএনপি’র গুণকীর্তন করলেন হালকা সুরে। বোঝালেন জাপা একাই একশো। শুধু মাঝখানে অন্য সমস্যা।

জিএম কাদের সেদিন বলেছেন, আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা অনেক অপকর্ম জড়িয়ে পড়েছেন। জাতীয় পার্টি গত ৩০ বছর ধরে অনেক নির্যাতন নিপীড়ন সহ্য করে টিকে আছে। জাতীয় পার্টি একটি সম্ভাবনাময় দল। সামনের দিকে এই পার্টির অনেক ভবিষ্যৎ রয়েছে। বালাদেশে ৩০-৪০টি নিবন্ধিত দল আছে। কিন্তু মানুষ চিনে মাত্র তিনটি দলকেই। সরকারি দল আওয়ামীলীগের বিকল্প হিসাবে দেশে বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকেই মানুষ চেনে। বিএনপির সংগঠন ও সমর্থন থাকলেও নেতৃত্ব সংকটের কারণে ঘুরে দাড়াতে পারছে না। তাই তাদের সম্ভাবনা আর নেই। এ কারণেই মানুষ জাতীয় পার্টিকে বেছে নিয়েছে।

পর্যবেক্ষক মহলের মতে, জিএম কাদের এর বক্তব্য মোটেও সঠিক নয়। বরং তা শঠতায় পরিপূর্ণ। তিনি ভেবেছেন তিনি হাওয়ায় কথাগুলো বলেছেন আর তা হাওয়াতেই মিলিয়ে যাবে। বিষয়টা অত সহজ নয়। যতটা সহজ তিনি মনে করছেন। আওয়ামীলীগ জনগণের অধিকার রক্ষায় বুঝে শুনেই কাজ করে। আওয়ামীলীগ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছে আবার জাপা নেতৃবৃন্দ নিজেদের ভুল শুধরে নেয়ায় তাদের সাথে ঐক্য গড়েছেন। এখন সুযোগ পেয়ে বড় কথা বলে লাভ নেই। একা ঘুরে দাঁড়ানোর অবস্থা জাপা’র নেই।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর