চাচা ভাতিজাকে মাইনাস!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২৫ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০২০, সোমবার
চাচা ভাতিজাকে মাইনাস!

নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের শরীক দল জাতীয় পার্টি দীর্ঘ তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকলেও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন কার্যালয়বিহীন অবস্থার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি পালন করে আসছে। জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর তার ভাই সেলিম ওসমান দুই মেয়াদে সাংসদের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে জাতীয় পার্টির দুই এমপি ও প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমানসহ পরিবার সদস্যদের মাইনাস করে জাতীয় পার্টির কার্যালয় উদ্বোধন করেছেন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পার্টি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও ব্যবসায়ী মো. জয়নাল আবেদীন।

এতে করে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টি থেকে সাংসদ সেলিম ওসমান ও ভাতিজা আজমেরী ওসমানকে মাইনাস করার মিশনে আল জয়নাল রাজনীতি করছে বলে নেতাকর্মীরা মনে করছেন। আর আল জয়নালের এহেন মাইনাসের মিশনে বাড়ছে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্দতা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় পার্টির বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমান ও প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমান ও তার ছেলে আজমেরী ওসমান নারায়ণগঞ্জে থাকা অবস্থায় তাদের মাইনাস করে জাতীয় পার্টির কার্যালয় এখন ব্যবসায়ী আল জয়নালের দখলে। অথচ এক সময়ে নারায়ণগঞ্জের জাতীয় পার্টি বলতে প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানকে বোঝানো হতো। কিন্তু এখন তার পরিবার সদস্যদের এবং তার ভাই সাংসদ সেলিম ওসমানকে মাইনাস করে জাতীয় পার্টির কার্যালয় আল জয়নাল প্লাজার ৩য় তলায় উদ্বোধন করা হয়।

২১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরের আল-জয়নাল প্লাজার ৩য় তলায় সংবর্ধনা ও নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়। আর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পার্টি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে মো. জয়নাল আবেদীনকে উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মোতালিবকে সহ-সভাপতি ও মো. গোলাম কাদিরকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এখানে উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ ৬ বছর যাবত নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের শরীক দল জাতীয় পার্টির কার্যালয় নেই। এ নিয়ে নানান সময়ে নানান প্রশ্নের সম্মুখি হতে হচ্ছে নেতাকর্মীরা। আর নেতাকর্মীরা কার্যালয়হীন অবস্থার মধ্য দিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে এক সময়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে জৌলুস ছিল। শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে জাতীয় পার্টি কার্যালয় থাকতো সরগরম। প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমান যখন এমপি ছিলেন তখন এ কার্যালয়ে কর্মীদের ভীড় থাকতো একটু বেশী। কিন্তু তাঁর প্রয়াণের পর কান্নার রোল সৃষ্টি হয় কর্মীদের মধ্যে। কারণ ছোট ভাই সেলিম ওসমান এমপি হওয়ার কিছুদিন পরেই ভেঙ্গে দেওয়া হয় কার্যালয়। এতে করে দলটির নেতাকর্মীরা ধীরে ধীরে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এমনকি পদধারী নেতারাও ব্যাকফুটে চলে যায়।

সংসদ নির্বাচনের আগে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রয়াত বড় ভাই নাসিম ওসমানের নামে নামকরণ করা নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সেলিম ওসমান বলেন, আমরা নতুন দিনের প্রোগ্রাম বানাবো। প্রোগ্রামে কোন ভুল হলে আমরা দুই জাতীয় সংসদ সদস্য সেটা ঠিক করব। আমরা জেলা ভিত্তিক অফিসের জন্য কোন জায়গা দখল করে নেবো না। তবে আমরা অত্যাধুনিক অফিস তৈরী করব। যারা জাতীয় পার্টির সাথে সংযোগ রাখেনি তাদেরও একটা লিস্ট করা হবে।

দলের নেতাকর্মীদের সূত্রে জানাগেছে, পুরো জেলায় এখন জাতীয় পার্টির অফিস নেই। পুরোনো অফিসটিও অকার্যকর অবস্থায়। কেন্দ্র থেকে ৩ দফা চিঠি দেয়া হলেও ব্যবস্থা হয়নি জেলা ও মহানগরের নেতারা জাতীয় পার্টি কোন অফিস নিতে পারেননি।

সূত্র বলছে, জাপা নেতা ও ব্যবসায়ী আল জয়নাল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টিকে তার দখলে নিতে চেয়েছে। একারণে এমপি সেলিম ওসমানের সাথে এর আগে বাকযুদ্ধও দেখা গেছে। তবে এবার নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির কার্যালয় তার ভবনে উদ্বোধন করে সেই পথে এগোচ্ছে। আর জাতীয় পার্টি থেকে ওসমান পরিবারের সাংসদ ও প্রয়াত নেতা নাসিম ওসমানের পরিবারকে মাইনাস করার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর