সোনারগাঁয়ের বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত হচ্ছে!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৪৬ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২০, বুধবার
সোনারগাঁয়ের বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত হচ্ছে!

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি গঠনের পর থেকেই একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে। এই আহবায়ক কমিটির শীর্ষ পদে থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও করে আসছেন স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতারা। এবার তাদেরই এলাকায় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভেঙ্গে দেয়ার ঘটনায় আহবায়ক কমিটির নেতাদের নিরবতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে শোকজেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ফলে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা যায়, গত ১৭ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিকের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার নির্দেশে সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজে প্রবেশের পরে স্কুলের মূল ফটকের পাশে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নাম দেখে বেশ রাগান্বিত হন। এসময় উপস্থিত শিক্ষকদের উপর চটে যান। আর আনোয়ার হোসেনের নাম কেন লেখা হয়েছে সেটা জানতে চান। আশেপাশের অনেক লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে তিনি চলে গেলে তার ছাবিক নামে এক অনুগামী সেই ফলক ভেঙে ফেলে।

আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের ঝড় উঠে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠতে শুরু করে। তারা লিয়াকত হোসেন খোকাকে কোনোভাবেই ছাড় দিবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।

কিন্তু এ সময়ে একেবারেই নিরব ভূমিকা পালন করেছেন সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায়ক সামসুল ইসলাম ভূইয়া ও যুগ্ম আহবায় মাসুদুর রহমানসহ অন্য সদস্যরা। নিজ দলের শীর্ষ নেতার নামফলক ভেঙ্গে দিলেও প্রতিবাদে কোনো কর্মসূচিতেই তাদের দেখা যায়নি।

এদিকে এ ঘটনায় গত ২৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন যান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপির কাছে। যুবলীগের সাবেক এ সাধারণ সম্পাদক এখন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়িত্বে রয়েছেন। আনোয়ার হোসেন দীর্ঘক্ষণ মির্জা আজমের সঙ্গে কথা বলে সোনারগাঁয়ের ঘটনা সম্পর্কে জানান। ওই সময়ে মির্জা আজম সব শুনে বলেন, ‘আমি বিষয়টা জানি।’

এক পর্যায়ে মির্জা আজম ফোন দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের কাছে। তাঁর কাছ থেকেও ঘটনা সম্পর্কে ধারণা নেন আজম। ওই সময়ে মির্জা আজম মুঠোফোনেই আবদুল হাইয়ের কাছ থেকে সোনারগাঁও থানা আওয়ামী লীগের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চান। এবং তাদের কোন উদ্যোগ না নেওয়াতে প্রয়োজনে শোকজের নির্দেশ দেন।

সকালে আজমের সঙ্গে দেখা শেষে বিকেলে সাক্ষাৎ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে। ওই সময়ে আনোয়ার হোসেন নিজেই ওবায়দুল কাদেরকে সব জানান। তখন ওবায়দুল কাদের জানান যে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজেই ওয়াকিবহাল। এ বিষয়ে কিছু করতে হলে কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে প্রধামন্ত্রী নিজেই নিবেন। আর এ বিষয়টি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে দুইজন শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও কথোপকথনের বিষয়টি স্বীকার করেন।

আর এসকল বিষয় মিলিয়ে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায় কমিটির নেতারা বেশ চাপে রয়েছেন। তাদের কমিটি ভেঙ্গে দেয়ারও প্রবল সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ১৫ জুলাই এ কমিটির অনুমোদন দেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল।

কমিটিতে সামসুল ইসলাম ভূইয়া আহবায়ক এবং সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক প্রফেসর ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বাবু ওমর, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার ফেন্সী ও সামসুদ্দিন খান আবু।

এদের মধ্যে জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর ও মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবুও এই কমিটির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে দেয়া অভিযোগে স্বাক্ষর করেছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর