তৈমূরের পর দিপু


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৩৩ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার
তৈমূরের পর দিপু

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় বিএনপির কোনো নেতাকেই সহ্য করা হচ্ছে না। বিএনপির যে কোনো নেতাই কোনো কর্মসূচি নিতে তাকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। হামলা মামলা সহ বিভিন্নভাবে তাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের অনুষ্ঠানে হামলার পর এবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কার্য্যকারী সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর বাড়ির অনুষ্ঠানে বাঁধা দেয়া হয়েছে। সেই সাথে মামলাও দায়ের করা হয়েছে দিপুর বিরুদ্ধে।

জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের জন্মদিন ও বিএনপির বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠারে আয়োজন করা হয়। আর এই আলোচনার শেষ মহুর্তে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা করার অভিযোগ করা হয়। এসময় মঞ্চ থেকে টেনে হিচড়ে মাটিতে ফেলা হয় তৈমূর আলম খন্দকার, তার মেয়ে মার-ই-য়াম খন্দকার, নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর মান্না প্রমুখদের। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে অনুষ্ঠানের ওই মঞ্চে থাকা চেয়ার টেবিল ও সাউন্ড সিস্টেম।

হামলা প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিককে জানিয়েছিলেন, হামলায় তাঁর মেয়ে ব্যারিস্টার মারিয়াম খন্দকারসহ অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। অনুষ্ঠান চলার সময় হেলমেট পরে রামদা, লাঠিসোঁটাসহ ৪০-৫০ লোক অনুষ্ঠানে হামলা করে চারটি গাড়ি, মোটরসাইকেল, অনুষ্ঠানের মঞ্চ, সাউন্ড সিস্টেম ও চেয়ার ভাঙচুর করেন। হামলায় উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী ফাতেমা, বিএনপির নেতা পিন্টু আহমেদ, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম আহত হয়েছেন।

এদিকে সেই ঘটনার রেস কাটতে না কাটতেই এবার মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর বাড়ির অনুষ্ঠানে বাঁধা দেয়া হয়। গত ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪২ তম প্রতিষ্ঠা বাষির্কী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় যুবদল কর্তৃক আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কেন্দ্রীয় যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় এই আলোচনায় সারাদেশ থেকেই যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তারই অংশ হিসেবে রূপগঞ্জের মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু বাড়িতে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু ওই ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত সফল করা সম্ভব হয়নি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে।

ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক নেতা জানান, পুলিশের একটি টিম দিপু ভূইয়ার বাড়ি ঘিরে ফেলে। তারা ভেতরে প্রবেশ করে লোকজনদের সরিয়ে দেয়। যে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টরে ভার্চুয়াল বৈঠক হচ্ছিল সেগুলো নিয়ে যায়। একই সাথে রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল এলাকায় মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর বাড়ির সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুর রহমান স্বপনকে আটক করা হয়।

এই ঘটনায় নাশকতার পরিকল্পনা করার অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া সহ ১০১ জনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রূপগঞ্জের ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমিনুর রহমান আমান বাদী হয়ে ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে রূপগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে দিপু সহ ১১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৯০ জনকে আসামী করা হয়েছে। আর এভাবেই রূপগঞ্জ এলাকায় বিএনপির সম্ভাবনাময় নেতাদেরকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর