‘ডায়নামিক লিডার’ জুয়েল এবারও সরব


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:২১ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার
‘ডায়নামিক লিডার’ জুয়েল এবারও সরব

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ‘ডায়নামিক লিডার’ খ্যাত সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল এবারও সরব রয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্যানেল নিয়ে। প্যানেলের জয়ের লক্ষ্য নিয়ে শুরু থেকেই তিনি মাঠে রয়েছেন এবং দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। সেই সাথে একটি শক্তিশালী প্যানেলও গঠন করেছেন যাতে করে সমিতির নির্বাচনে তাদের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হয়।

আগামী ২৮ জানুয়ায়ী অনুষ্ঠিতব্য নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়াকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে প্যানেল চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মনোনয়ন ফরম জমাদানকালে আর এই প্যানেলের রূপকার হিসেবে সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলকে উল্লেখ করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা। সেই সাথে এদিন অ্যাডভোকেট খোকন সাহা হাসান ফেরদৌস জুয়েলকে আইনজীবী সমিতির বারবার নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ডিজিটাল বারভবনের উদ্যোক্তা হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিয়েছেন সকলে মিলে একটি প্যানেল গঠন করার জন্য। আমরা বিশ্বাস করি এই প্যানেল সবদিক দিয়ে ব্যালেন্স প্যানেল। আইনজীবী সমিতিকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করবে। আমরা সব আইনজীবীদের কাছে অনুরোধ করবো আমাদের জয়ী করেন। অতীতে যেভাবে আপনাদের দেয়া কথা রেখেছি ভবিষ্যতেও কথা রাখবো।

আদালতপাড়া সূত্রে জানা যায়, সমিতির সদস্যদের কাছে একটি অনুপ্রেরণার নাম হচ্ছে সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল। তার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের হাজারো আইনজীবী আলোকিত স্বপ্নের ছোঁয়া পেয়েছে। তিনি নারায়ণগঞ্জে আইনজীবীদের দেখিয়েছেন কিভাবে সকল বাধা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে নিজ লক্ষ্যপানে এগিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় হাসান ফেরদৌস জুয়েলকে নিজ দলীয় সমর্থিত আইনজীবীরাও বিভিন্নভাবে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তারপরেও তিনি তার লক্ষ্য অর্জনে স্থির ছিলেন। আর এই কার্যকরি ভূমিকায় অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলকে এনে দিয়েছে আইনজীবী সমিতির ‘ডায়নামিক’ সভাপতি।

আর এই ডায়নামিক সভাপতি হিসেবেই নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীদের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল। নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরা সবসময় তাকে অনন্য উচ্চতায় জায়গা দিয়ে থাকবেন।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল আইনজীবী সমিতির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সবশেষ টানা দুই মেয়াদ ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির কান্ডারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর এর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির উন্নয়নে সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে দিয়েছেন অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল। তার হাত ধরে আইনজীবী সমিতিতে ডিজিটালাজেশনের ছোঁয়া লেগেছে। সমিতির ওয়েবসাইট হয়েছে অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলের সময়ে।

অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও অ্যাডভোকেট মোঃ মোহসীন মিয়ার মেয়াদে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ৮ তলা বিশিষ্ট ডিজিটাল বার ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। আর এই কাজের শুরু করতে গিয়ে তাদেরকে বহু বাধা বিপত্তির মোকাবেলা করতে হয়েছে। অনেক সময় নিজ দলীয় সমর্থিত আইনজীবীরাও তাদেরকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছেন। ইতোমধ্যে ৮ তলা বিশিষ্ট ভবনের ১ম তলা কাজ শেষে ২য় তলার কাজে হাত দেয়া হয়েছে। এই ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছেন সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোহসীন মিয়া। ফলে ভবন নির্মাণের জন্য সমিতির ফান্ডে হাত দিতে হবে না। পাশাপাশি আদালতপাড়ার আইনজীবীদের অন্যতম সমস্যা দুই কোর্ট একসাথে রাখার ব্যাপারেও কার্যকরি ভূমিকা রাখা হয়েছে জুয়েলের সময়ে।

তরুণ আইনজীবীদের প্রথম পছন্দের তালিকাতেও সভাপতি হিসেবে অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল শীর্ষে ছিলেন। সকলেই সাথেই তিনি বন্ধুসুলভ আচরণ করতেন। কাধে হাত রেখে কথা বলতেন তিনি। তার ভিতরে অহমিকা দাম্ভিকতা নেই বলে দাবি কবতেন সাধারণ আইনজীবীরা। নারী আইনজীবীদের যে কোন সমস্যায় জুয়েল সবার আগে এগিয়ে আসতেন। সেই সঙ্গে সিনিয়র আইনজীবীদের সম্মান ও শ্রদ্ধা করে চলার কারনে আদালতের সিনিয়র আইনজীবীদেরও পছন্দের সভাপতি ছিলেন জুয়েল। দল মত নির্বিশেষে সকলের সাথেই তিনি সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতেন।

নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ও কল্যাণকর বেনাভোলেন্ট ফান্ড করেছেন অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল। কিন্তু এ ফান্ড করতে গিয়ে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়েছিল জুয়েলকে। অথচ আইনজীবী সমিতিতে আইনজীবীদের কল্যাণে যে সব ফান্ড হয়েছিল ওইসব ক্ষেত্রে বেনাভোলেন্ড ফান্ডই সবচেয়ে বেশি কল্যাণকর হিসেবে পরিণত হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে অনেকেই বিরোধীতা করলেও পরবর্তীতে সকলেই মত দেন। সিনিয়র অনেক আইনজীবীরাও এ ফান্ড গঠনে বিরোধীতা করেছিলেন। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের অনুষ্ঠানে এ ফান্ড নিয়ে কথা বলতে গেলে জুয়েলের মাইক কেড়ে নেয়া হয়েছিল। আইনজীবীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও হয়েছিল। কিন্তু হাল ছাড়েনি জুয়েল। আজ সেই জুয়েলের আপ্রাণ চেষ্টার কারনেই এ ফান্ড হয়েছে। আজকে একজন আইনজীবী মৃত্যুবরণ করলে যিনি ২০ বছরের বেশি আইন পেশায় ছিলেন তার পরিবার সাড়ে ১১ লাখ টাকা পান। এটা আগে কখনও ছিল না।

আইনজীবীদের জন্য ডিপিএস হয়েছে। ফলে একজন আইনজীবী যখন খুশি এই টাকা ভাঙ্গাতে পারবে আবার এই টাকা রেখে দিতে পারবে। একটা অংকের টাকা বারে জমা দিবে আবার বার তার সম অংকের টাকা ওই আইনজীবীকে প্রদান করবে। তার যখন ইচ্ছা ভাঙ্গাতে পারবেন। কাজেই আইনজীবীদের যেসব ন্যায্য দাবি রয়েছে তা জুয়েল মোহসীনের নেতৃত্বেই হয়েছে। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীদের আয়ের উৎস কেবল হাজিরা, ওকালতনামা এগুলো। বাকী যেগুলো সমন নোটিশ ছাড়া হয় সবগুলো আইনজীবী সমিতি থেকে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকা প্রতি বছর আয় হয়ে থাকে। আর এই টাকা চলে যায় আইনজীবীদের স্বার্থে আইনজীবীদের ডিপিএসে। তাদের কল্যাণের জন্য।

একই সাথে আইনজীবীদের জন্য স্মার্ট, আইডি কার্ড ও ডাইরেকটরি তৈরি করা হয়েছে অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলের মেয়াদে। ডাইরেক্টরিতে সকল আইনজীবীদের ছবি সহ সংক্ষিপ্ত পরিচয় উল্লেখ করা থাকবে। সেই সাথে প্রত্যেক আইনজীবী সম্পর্কে তথ্য আইনজীবী সমিতির ওয়েব সাইটে দেয়া থাকবে। যার মাধ্যমে বিচার প্রার্থী যে কোন সময় আইনজীবীকে মুহুর্তেই খুুজে পাবেন। যে কোন বিচারপ্রার্থী পৃথিবীর যে কোন জায়গা থেকে মোবাইল কিংবা কম্পিউটারের মাধ্যমে গুগুলে সার্চ দিয়েই নারায়ণগঞ্জের যে কোন আইনজীবীকে খুজে পাবেন এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। কিন্তু অন্য কোন মেয়াদে আইনজীবীদের সে সকল স্বপ্ন ধরা দেয়নি।

প্রতিবারই নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির উন্নয়ণের আশ্বাস দিয়ে নির্বাচনী চৈতরণী পার করতেন প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী আইনজীবীরা। কিন্তু কোন বেলায়ও আইনজীবীদের সে সকল স্বপ্ন পূরণ হতো না। এর আগেও বহুবার সমিতির নতুন ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনবারই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। আর সেটা বাস্তবায়ন হয়েছে অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলের হাত ধরে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর