ডিম পাড়া হাঁসে ভর বিএনপির


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৪০ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২১, বৃহস্পতিবার
ডিম পাড়া হাঁসে ভর বিএনপির

অনেকদিন ধরেই ক্ষমতার বাইরে রয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। আর এই ক্ষমতার বাইরে থাকাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে অনেক বিতর্কিত নেতার জন্ম হয়েছে। সেই সাথে অনেক ডিম পাড়া হাঁস খ্যাত নেতারও জন্ম হয়েছে। যাদেরকে বিগত দিনের কোনো আন্দোলন সংগ্রামেই দেখা যায়নি। কিন্তু তাদের কাছ থেকে একটি পক্ষ সবসময় সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও সেই ডিম পাড়া হাঁস খ্যাত নেতাদের উপর নির্ভর করতে যাচ্ছে জেলা বিএনপি। দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে কোনো ভূমিকা না রাখলেও তাদেরকেই প্রাধান্য দিয়ে যাচ্ছে জেলা বিএনপি।

সূত্র বলছে, ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী ঘোষিত নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ২৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে সভাপতি পদে দায়িত্ব পান কাজী মনিরুজ্জামান আর সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। আর তাদেরকে এই পদে অধিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে বিএনপির শিল্পপতি খ্যাত নেতা শাহ আলমের হাত ছিল বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতাদের। আর এর বিনিময়ে তারা শাহ আলমের আনুগত্য স্বীকার করে চলবেন। একই সাথে জেলা বিএনপির কমিটিতে শাহ আলমের অনুসারী অনেকেই পদায়ন করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন তারা।

এরপর ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী দলীয় পদবী থেকে পদত্যাগ করেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ সভাপতি শাহ আলম। তবে তিনি পদত্যাগ করলেও তার অনুসারীদেরকে ছায়া হিসেবে রেখে যাওয়াও চেষ্টা করেন। তারই অংশ হিসেবে শাহ আলমের পদত্যাগের একদিন পরই ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আর এতে যাদেরকে পদায়ন করা হয়েছে তাদের অধিকাংশ নেতাই শাহ আলমের অনুসারী। আর এই কমিটি অনুমোদন দেন শাহ আলমের আনুগত্য স্বীকারকারী জেলা বিএনপির বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। যা নিয়ে বিএনপির তৃণমূলে তীব্র ক্ষোভ থেকে যায়।

কিন্তু এই কমিটি গঠনের কিছুদিন পরই জেলা বিএনপির কমিটি বাতিল করা হয়। সেই সাথে জেলার অধীনে থাকা বিভিন্ন থানা উপজেলা পৌরসভারও কমিটির ক্ষমতা কমে যায়।

এরই মধ্যে গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর এতে আহবায়ক করা হয় অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে এবং সদস্য সচিব করা হয় অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে। সেই সাথে জেলা বিএনপিতে নতুন মাত্রা ফিরে আসতে শুরু করে। দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে গতি ফিরে। কিন্তু এখনও সেই শিল্পপতি খ্যাত নেতা শাহ আলমের প্রাধান্য থেকেই যাচ্ছে।

জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারী বিকালে মধ্যনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন স্থানে এক সভায় ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস বলেন, জনগণ ভোট দিতে পারে নাই। আমরা দেশের আইন মেনে চলবো। বিএনপি জনগণের দল। সময়ের প্রয়োজনে বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসবে। দেশের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত খালেদা জিয়া। শাহ আলম এমপি ও মন্ত্রী হবেন ইনশাআল্লাহ। আর এই আজাদ বিশ্বাস জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবেও রয়েছেন।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন আফিয়া জালাল ফাউন্ডেশন ক্লিনিকের উদ্বোধন করা হয়। আর এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন রাজনীতি থেকে দূরে থাকা নারায়ণগঞ্জের বহুল বিতর্কিত বিএনপি নেতা শাহ আলম। যাকে দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে একেবারেই দেখা যায় না। কিন্তু সেদিন শাহ আলমের সাথে আর তার সাথে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সদস্য আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, রিয়াদ মো. চৌধুরী। ফলে তাদের উপস্থিতিই বলে দিচ্ছে জেলা বিএনপি ফের ডিম পাড়া হাঁস খ্যাত নেতাদেরই উপর নির্ভর করতে যাচ্ছে বিএনপি।

জানা যায়, বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ সভাপতি শাহ আলমের কোন অংশগ্রহণ ছিল না। রাজপথে নেয়া দলীয় কোন কর্মসূচিতেই তার অংশগ্রহণ থাকতো না। মাঝে মধ্যে ঘরোয়া কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে থাকলেও সেটা খুব বেশি সময়ের জন্য না। এমনকি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতেও শাহ আলমের সক্রিয় কোন ভূমিকা ছিল না। তার অবস্থা অনেকটা ‘কিতাবে আছে গোয়ালে নেই’ প্রবাদের মতো। কিন্তু বরাবরই জেলা বিএনপিতে তারা প্রাধান্য থেকে যাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর