একজনকে তিরস্কার অন্যজনকে পুরস্কার কাম্য নয় : জাহাঙ্গীর


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:২৭ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২১, শুক্রবার
একজনকে তিরস্কার অন্যজনকে পুরস্কার কাম্য নয় : জাহাঙ্গীর

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইকে উদ্দেশ্য করে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আপনি হচ্ছেন সর্বোচ্চ অভিভাবক। আপনার কাছে সুবিচার কামনা করি। আপনি একজনকে পুরস্কৃত করবেন আর অন্যজনকে তিরস্কার করবেন সেটা কাম্য নয়। আমরা সকলেই সমান।

কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ৪ মার্চ বৃহস্পতিবার বেলা ১১ থেকে দুপুর সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন। ২নং নং রেলগেইট এলাকার জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনে নামফলক ভেঙ্গে দেয়ার ঘটনায় একটি কর্মসূচিতে ব্যক্তব্য দিতে গিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের স্লিপ অব টাং হয়ে যায়। যার কারণে জাহাঙ্গীর আলম বিবৃতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়েরর নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু তারপরেও গত ২৪ নভেম্বর জাহাঙ্গীর আলম বরাবর ওই চিঠি ইস্যু করা হয়। চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককে (ঢাকা বিভাগ)।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল সাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘আপনি জাহাঙ্গীর আলম, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে স্বাধীনতা বিরোধী দল হিসেবে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে বক্তব্য রাখার অপরাধে আপনাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।’

যদিও এই অব্যাহতি পরে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তারপরেও এই প্রত্যাহার করাতে গিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে।

কিন্তু জাহাঙ্গীর আলমের বেলায় এই শাস্তি দেয়া হলেও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলের বেলায় তা প্রযোজ্য ছিল না অভিযোগ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগে গত ৬ ফেব্রুয়ারী ১৪ নং ওয়ার্ডের দেওভোগ জিউস পুকুরের পাশের সড়কে গণসমাবেশের আয়োজন করেছে জেলা হিন্দু সম্প্রদায়।


আর এই সমাবেশে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল বলেন, কেউ যদি দলে থেকে দলের বদনাম করে তাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিবেন না। যারা মসজিদে মন্দিরে গির্জায় যায় ওদের বিরুদ্ধে মেয়র কথা বললে ভয় পাবেন না। আপনাদের সাথে আমি ভিপি বাদল আছি শামীম ওসমান আছেন খোকন সাহা আছে সেলিম ওসমান সাহেব আছেন। এই নারায়ণগঞ্জে মেয়র নমিনেশন চাওয়ার আছে এই দেবোত্তর সম্পত্তিটা দোবোত্তর সম্পত্তির নামে লিখে দেন। আর নয়তো আপনারা কি তাকে আর ভোট দিবেন। এসময় উপস্থিত নেতাকর্মী সহ সবাই বলে উঠে, ‘না’।

তার এই বক্তব্য নিয়ে সারা নারায়ণগঞ্জ জুড়েই আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বাদলের পক্ষে এ বক্তব্য দেয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। কিন্তু তার বেলায় কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর