ত্বকীর খুনীরা অনেক অভিজ্ঞ


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৫৫ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২১, শুক্রবার
ত্বকীর খুনীরা অনেক অভিজ্ঞ

অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ প্রতিবছর এবং প্রতিমাসে এখানকার সাংস্কৃতিক জোট এবং নারায়ণগঞ্জের মানুষ যে প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছেন ত্বকী হত্যার বিচারের জন্য যে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন, উচ্চারণ করে যাচ্ছেন, বিভিন্ন কর্মসূচি নিচ্ছেন তার সুদূরপ্রসারিত তাৎপর্য আছে। নারায়ণগঞ্জবাসীর এ অধ্যম কর্মসূচি এর ভূমিকা রফিউর রাব্বী ও তার সহযোদ্ধারা যেভাবে করছেন সেটা শুধু মাত্র ত্বকী হত্যার বিচারই নিশ্চিত করবে না এটা সারা বাংলাদেশে সকল খুন, গুম, নির্যাতন, নিপিড়নের মানুষের যে আন্দোলন সেই আন্দোলনে একটা অসাধারণ প্রতিক হয়ে থাকবে। অসাধারণ প্রেরণা হয়ে কাজ করবে, করছে। সেজন্য সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ ত্বকী হত্যার বিচারের সাথে সাথে আরো অনেক হত্যার বিচারের দাবি মানুষের সামনে নিয়ে আসছে।’

৫ মার্চ শুক্রবার বিকেলে শহরের ডিআইটি এলাকায় সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের উদ্যোগে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ৮বছর উপলক্ষ্যে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এখানে যারা উপস্থিত সবারই ঘরে শিশু কিশোর আছে। সবারই আত্মীয় স্বজনের মধ্যে শিশু কিশোর আছে। আমরা যেখন শিশু কিশোর দেখি তখন একটি আদরের, ভালোবাসার অনুভূতি হয়। একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে শুধু শুধু একটি শিশু কিশোরকে বাকাবকি করা বা মারধর তো দূরের কথা তাকে ধমক দেয়া বা বকা দেয়া কোন স্বাভাবিক মানুষের কাজ হতে পারে না। সেটা স্বাভাবিক মানুষের বৈশিষ্ট। ত্বকী সেখানে এরকম একজন কিশোর। সেই কিশোরকে তুলে নিয়ে গেলো। শুধু তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করলো না, তাকে নির্মম ভাবে নির্যাতন করলো। নির্যাতন করে খুন করলো। যাদের প্রতি ত্বকীর কোন রকম ভূমিকা নাই। ত্বকী তাদের কোন বকা দেয় নাই, ত্বকী তাদের কোন খারাপ ব্যবহার করে নাই। অথচ কিছু লোক সংঘবদ্ধ ভাবে তাদের অর্ধেক বয়সের কম বয়সী একটা ছেলেকে ক্রমাগত আক্রমন, নির্যাতন করে হত্যা করেছে। কিভাবে সম্ভব। যেকেউ চিন্তা করেন এটা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব। কতটা পাষন্ড হলে, কতটা নির্দয় হলে, কতটা অমানুষ হলে, কারো পক্ষে এক কাজ করা সম্ভব। সেটাই নারায়ণগঞ্জের এ খুনীরা করেছে। তারা শুধু ত্বকীকে নয়, এ ধরনের খুনের অভিজ্ঞতা তাদের আরো আছে। তারা খুন করে, গুম করে, তারা জালিয়াতি করে, প্রতারণা করে, দখল করে, লুণ্ঠন করে, চাঁদাবাজী করে, ধর্মকে ব্যবহার করে। তারা নিজেদের ধার্মিক বলে পরিচয় দেয় অথচ তারা ধর্মের নামে মিথ্যা কথা বলে। ধর্মের নামে মানুষের উপর নির্যাতন করে। ধর্মের নামে মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেয়। সব কিছুই তারা করে। সুতরাং তারা মানুষ কার্যত্ব নয়। কিন্তু এরাই সমাজের ক্ষমতাবান যারা তাদের কাছে প্রিয় পাত্র। তাদের পক্ষে কি করে কিছু মিডিয়া, ক্ষমতাবান লোক কিভাবে তাদের পক্ষে থাকতে পারে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তিনি তার স্বজনদের হারিয়েছেন একটি ভয়ংকর ঘটনার মধ্যে দিয়ে। তিনি কি করে এরকম পাষন্ড পরিবারের, খুনী পরিবারের পক্ষে সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে পারেন। আমরা জানি প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পরে এ বিচার কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশের কোন প্রতিষ্ঠান আসলে কাজ করে না। বাংলাদেশে আইন কাজ করে না।’

তিনি বলেন, ‘সরকার ও খুনীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, অনেক বিচার জমে গেছে। এ বিচার বাংলাদেশর মানুষ করবে। জনতার আদালত যে রায় দিবে, সে রায় রাষ্ট্রকে, সরকারকে বাস্তবায়ন করতেই হবে। তখন আমরা রায় পাবো। সেটা ত্বকীর ক্ষেত্রে হবে, সাগর রুনি, তনু সবার ক্ষেত্রে হবে। এ বিচার না করলে মানুষের কাছে বাংলাদেশকে ফেরত আনা যাবে না। বাংলাদেশ এখন বেদখল। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর মানুষ একটি দেশ পেয়েছিল। কিন্তু সেই দেশ এখন বেদখল হয়ে আছে। বেদখল হয়ে আছে লুটেরা ও দখলদারদের হাতে, ধর্ষকদের হাতে, নির্যাতকদের হাতে, ডাকাতদের হাতে, সম্পদ প্রচারকারীদের হাতে এবং দেশি বিদেশী দুষ্ট চক্রের হাতে। সেই দেশকে আমাদের হাতে আনার জন্য আমাদের সেই শক্তি অর্জন করতে হবে। সেই শক্তি অর্জনের মধ্যে দিয়ে একদিন জনতার আদালতে যে রায় সেটা বাস্তবায়ন হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি, প্রধানমন্ত্রী জানেন কারা ত্বকীকে হত্যা করেছে। তাঁর কাছে সমস্ত কাগজপত্র আছে। সব কিছু জেনেও যে কিছুই করছেন না এ অপরাধ তো তাঁর। এর দায় তাকে নিতে হবে।’

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম, সদস্য সচিব কবি হালিম আজাদ, নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক, সিপিবি জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম প্রমুখ।

পরে সন্ধ্যায় ডিআইটি থেকে বঙ্গবন্ধু সড়কে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের উদ্যোগে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে মিছিলটি চাষাঢ়া শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

প্রসঙ্গত ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে ত্বকী শহরের শায়েস্তাখান সড়কের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে ৮ মার্চ সকালে চাড়ারগোপে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ত্বকী হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে ৮জনই পলাতক। আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ধেহে ৫জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে দুইজন আসামি ইউসুফ হোসেন লিটন ও সুলতান শওকত ভ্রমর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু এ হত্যাকান্ডের ৮ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত এ মামলার অভিযোগ পত্র দেয়া হয়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর