রাজনীতি এখন আর ভাল লাগে না নোংরা হয়ে গেছে : খোকন সাহা


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৫:১৮ পিএম, ০৬ মার্চ ২০২১, শনিবার
রাজনীতি এখন আর ভাল লাগে না নোংরা হয়ে গেছে : খোকন সাহা

মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেছেন, সেলিম ওসমান উন্নয়ন করেন দৃশ্যমান। উনি নিজের টাকায় উন্নয়ন করেন। কিন্তু উনার মাঝে আমিত্ব ভাব নাই। ব্যক্তিগত ভাবে জানি বিশাল সম্পদ থাকা সত্যেও উনি একটা খামারের টাকায় চলেন। বাকি টাকা উনি জনগনের মাঝে দান করেন নীরবে। করোনাকালীন সময়ে হাজার হাজার মানুষের খাবার যুগিয়েছেন তিনি। আর নারায়ণগঞ্জে অনেকে আছেন উন্নয়ন করে বলেন আমি করেছি, আমি করেছি। এই আমিত্ব ভাবটা বাদ দিতে হবে রাজনীতিতে। রাজনীতিতে আমিত্ব ভাব বাদ দেন। সেলিম ওসমানকে অনুসরন করেন কিভাবে উন্নয়ন করতে হয়। রাজনীতি এখন আর ভাল লাগে না। নোংরা হয়ে গেছে রাজনীতি। এই রাজনীতি আর করতে ইচ্ছা করেনা। সর্বত্র শুধু মিথ্যাচার আর মিথ্যাচার। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি আর আগের রাজনীতি নাই মিথ্যায় ভরে গেছে। তার আমার দলের দুই একজনের মিথ্যাচারের কারণে জনগন বিভ্রান্তি হচ্ছে। সেলিম ভাইয়ের ডিও লেটারের কারণে একনেক থেকে কদমরসুল সেতু পাস হলো। আর নারায়ণগঞ্জে একজন জনপ্রতিনিধি বললেন উনি কদম রসুল সেতু করে দিচ্ছেন ছি ছি ছি। কতবড় মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক মিথ্যা কথার ফুলঝুড়ি ছেড়ে জনগনকে বিভ্রান্তি করেন। বাদ দিতে হবে। আমার বক্তব্য রাজনীতিতে মিথ্যাচার বাদ দিতে হবে।

শুক্রবার ৫ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪টায় নবীগঞ্জের টি-হোসেন গার্ডেনে বন্দর ইউনিয়নবাসীর সাথে উন্নয়ন নিয়ে মত বিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

মেয়রকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখলাম মাননীয় মেয়র সাহেব বলেছেন সম্পত্তি উনার নানায় কিনেছেন। ছি... ছি... ছি..। এতো বড় সত্য গোপন। উনাকে বলতে হবে। সম্পত্তি কিনেছেন ওনার নানা। ৩৮৩ শতাংশ দেবোত্তর সম্পত্তি। ভুয়া লোকদের থেকে কিনেছেন উনার নানা। ১০ হাজার টাকা দিয়ে ৫৭ শতাংশ। বক্তব্য ভুল হলে মামলা করে দিতে বলবেন। উনি আমাকে বলেছেন গত ১৬ ডিসেম্বর দায়িত্বশীল পদে আছেন দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেন। আরে ভাই আমরা তো এই দেশের সৎ রাজনীতিবিদ। সত্য কথাই আমরা বলি। উনার নানা কিনেছেন ৫৭শতাংশ পুকুরের। বাকি সম্পত্তি গেল কোথায়? এইটা বলেন না কেন? একটা দলিলে আপনার নানা কিনেছেন ৫৭। আপনার মা কিনেছেন। আপনার ভাই কিনেছেন। আপনার জমি চাচা কিনেছেন। আপনার মামারা কিনেছেন। ওই মাহাতাব উদ্দিন সাহেব মারা গেছেন অনেক আগে। কেন আজকে তাকে দেবোত্তর সম্পত্তির ৩৮৩ শতাংশের দায় উনার কাধে দিচ্ছেন। এতে আপনার গুনা হবে। পাপ হবে। জ্বলে পুড়ে ছাড় খাড় হয়ে যাবেন আপনি। আপনার নানা কিনেছেন ৫৭ শতাংশ। যদি মিথ্যা কথা বলে থাকি তাহলে আগামী কাল থেকে আর রাজনীতি করবো না। আপনার মা ৬০ শতাংশ। আপনার ভাইয়েরা সম্ভব ৪৫ না যেন ৫৮ শতাংশ। আপনার জম্মু চাচা আমার আরেক নেতা চুনকা ভাইয়ের ভাই জম্মু ভাই কিনেছেন। এখন চাপে বলছেন আমার নানার থেকে ওয়ারিশ পেয়েছেন আমার মা এটা আমার দোষ না। আর আপনার মা যে কিনেছেন। আপনার নানা তো আপনার মাকে দেয় নাই। যারা অবৈধ ভাবে বিক্রি করেছে ১০ হাজার টাকায় তারা আপনার নানাকেও দিয়েছে, আপনার মাকেও দিয়েছে, আপনার ভাইকে দিয়েছে। চাচা চাচী মামাদের দিয়েছে এটাই হচ্ছে সত্য। ওই বয়স্ক লোকটা শুনেছি অনেক ভাল মানুষ ছিলেন উনার উপর ৩৮৩ শতাংশের দায় কেন চাপান? ভাগ করে দেন। ভাগ না করলে এটাও অন্যায় করবেন আপনার পরিবারের কাছে।

তিনি আরো বলেন, অনেকে অনেক কিছু বলে বেড়ান। আমার দেখা ৫০ বছরের রাজনীতিতে ওসমান পরিবার হচ্ছে একটা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান থেকে সৎ রাজনীতিবিদ সৃষ্টি করা হয়। এই ওসমান পরিবার থেকে সৃষ্টি হয়ে আজকে নারায়ণগঞ্জে অনেকে বড় বড় কথা বলেন। গত ৫০ বছরে যারা নারায়ণগঞ্জে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের অনেকেই সৃষ্টি হয়েছে এই ওসমান পরিবার থেকে। এতো বাড়াবাড়ি ঠিক না। সত্য ন্যায়ের পথে আসেন। সাংবাদিক ভাইদের দেখলাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন। উনাদের পরিবার থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৩/৪টা মামলা করেছেন। সেটা করেছেন ২০১৮ সালে আমিও সেটা জানতাম না। সাংবাদিক আমার সাথে যোগাযোগ করেছে আমি বলেছি ডিজিটাল আইনে মামলা করেছেন। আমি মামলা রিসিভ করেছি। আমি দেখবো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক ভাইদের আপনি কি করতে পারেন। ভুয়া মামলা করেছেন এটা আমি প্রমাণ করে দিবো। আর আমার বিরুদ্ধে তো আপনি করছেনই। দেন না ঝুলাইয়া দেন। আমার ৩১জন উকালতি জীবনে ৩০ জন জুনিয়র সৃষ্টি করেছি। তারা মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা করতে চেয়েছে। আমি বলেছি দরকার নাই। মেয়র ভূল করতে পারে। আমরা ভুল করতে পারি না।

তিনি বলেন, যা কিছু উন্নয়ন দৃশ্যমান সেখানে ওসমান পরিবারের অবদান। কারন সেলিম ভাই মন্ত্রনালয় থেকে টাকা আনার জন্য কন্ট্রাকটারকে দেওয়ার জন্য পার্সেন্টিস নেন না। শামীম ওসমান নেন না। ওনারা বললেই ঢাকা থেকে রাস্তা নারায়ণগঞ্জে চলে আসে। অনেক কিছু বলবো। দুই একটা পত্রিকা আমার বিরুদ্ধে লিখে। লিখতে থাকেন। আপনাদের অভয় দিয়ে বলতে চাই আপনার বিরুদ্ধে আমি মামলা করবো না। ৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও কারা এই অঞ্চলে লুট করেছিলো আমি সব বলে দিবো। বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না। লুটেরার দল গোষ্টি যারা আছেন আমি সব বলে দিবো। এই শহরের ৫০ বছরের ইতিহাস আমি জানি।

বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন এর সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, সিনিয়র সহ সভাপতি চন্দন শীল, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম.এ রশিদ, সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানা উল্লাহ সানু, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক আকরাম আলী শাহীন, সদস্য সচিব আফজাল হোসেন, মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, বন্দর উপজেলার নারী ভাইস চেয়ারম্যান ছালিমা ইসলাম শান্তা, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ সালাম, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি, গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন সহ অন্যান্যরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর