সোনারগাঁয়ে হেফাজতের তান্ডব : আঘাত এসেছে এবার প্রতিঘাত


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৬:০২ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০২১, বুধবার
সোনারগাঁয়ে হেফাজতের তান্ডব : আঘাত এসেছে এবার প্রতিঘাত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে নারী সহ অবরুদ্ধের ঘটনার পর আওয়ামী লীগ অফিস সহ নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

বুধবার ৭ এপ্রিল দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিদর্শন শেষে ব্রিফিং ও এর আগে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি ওই নির্দেশ দেন।

ওই সময়ে হানিফের সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযম এমপি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মৃনাল কান্তি দাস, এমপি শামীম ওসমান, নজরুল ইসলাম বাবু সোনারগাঁয়েল সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু প্রমুখ।

সকালে তাঁরা সোনারগাঁয়ে এসে প্রথমে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, ভাঙচুরের শিকার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি সোহাগ রনির বাড়িতে যান। তারা ভাঙচুরের চিত্র দেখে হতবাক হয়ে পড়েন।

পরে মাহাবুবুল আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করা মানে সব নেতাকর্মীর বাড়িঘরে হামলা করা, যারা এই কাজ করেছে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। আমি ভাঙচুরের ক্ষতিগ্রস্ত সহ আওয়ামী লীগের নেতাদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও অনুরোধ করছি হেফাজত বিএনপি ও জামায়াতের যেসব সন্ত্রাসীরা এসব ভাঙচুর, জ্বালাও পাড়াও করেছে তাদের সুনির্দিষ্ট নাম ঠিকানা সংগ্রহ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে মামলা করুন। আমরা আইনের সর্বোচ্চ সাজা দাবী করছি।

তিনি বলেন, ধর্মের নামে হেফাজতে ইসলাম অধর্মের কাজ করছে। আঘাত এসেছে প্রতিঘাত করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করবো। এসব ব্যবসায়ীদের হাত থেকে ধর্মকে রক্ষা করতে হবে। এই ধর্ম ব্যবসার দোহাই দিয়ে যারা ভাঙচুর করেছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই করোনাকালে দুর্যোগে সময় মাস্ক পরে মানুষকে সহায়তা করার আহবান জানান।

প্রসঙ্গত ৩ এপ্রিল মামুনুল হককে নারী সহ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় রয়েল রিসোর্টে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় তুলকালাম কান্ড ঘটে। সন্ধ্যা ৭টায় মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে খবর পেয়ে স্থানীয় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা রয়েল রিসোর্টের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা রিসোর্টের প্রধান ফটক ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর করতে শুরু করে। এসময় রিসোর্টের বাইরে থাকা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। আর একদল বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মী উপজেলার মোরগাপাড় মোড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাশ, কাঁঠে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। সকলের হাতে লাঠিসোটা, রড। একে একে আওয়ামী লীগের কার্যালয়, যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম নান্নুর বাড়ি, গাড়ি, চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। বাদ পড়েনি দোকানও। রাতের আঁধারে ওই ভাঙচুরের পরে রোববার দিনের আলোতে সেই ধ্বংসলীলা দেখে তাজ্জব সেখানকার লোকজন। তারাও বুঝতেও পারেনি রাতের আধারে কিভাবে এ নৃশংস ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েকটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে গ্লাস ভাঙচুর করে। রাত পৌনে ৯টায় পুলিশ গিয়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে সরিয়ে দেয়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর