মারা গেলে দায়ী সাখাওয়াত


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:২১ পিএম, ০৪ মে ২০২১, মঙ্গলবার
মারা গেলে দায়ী সাখাওয়াত

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট শহীদ সারোয়ার অভিযোগ করে বলেন, আমাকে মেরে ফেলার জন্যই পূর্র্ব পরিকল্পনা করে হামলা করা হয়েছে। আমার অবস্থা খুবই গুরুতর। কয়েকদিন ধরে রক্ত বমি হয়েছে। যদি মরে যাই তাহলে এ জন্য দায়ী থাকবেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও আনোয়ার প্রধান সহ তার অনুসারীরা।

গত ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের নিকটবর্তী চেম্বারে ঘটে যাওয়ার ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ৩ এপ্রিল সোমবার দুপুরে অ্যাডভোকেট শহীদ সারোয়ার বলেন, আমাকে গত ২৮ এপ্রিল ফোন দিয়ে বলা হয় সাখাওয়াত হোসেন খানের চেম্বারে যাওয়ার জন্য। এক পর্যায়ে তার মুহুরী দিয়ে খবর দেয় চেম্বারে যাওয়ার জন্য।

সারোয়ার বলেন, আমি সরল মনে তার চেম্বারে যাই। চেম্বারে যাওয়ার পরপরই অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন দরজা আটকিয়ে দেয় এবং আমাকে জিজ্ঞসা করতে থাকেন তুই দুদকে নাড়া দিয়েছিস কেন? আমি আরেকটা বিয়ে করছি এই কুৎসা রটনা করছস কেন? আমি বলি ভাই এসব জানি না। আমাকে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। এভাবে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ করে সাখাওয়াত চিৎকার দিয়ে বলে ‘ধর’। এই কথা বলার সাথে সাথেই অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান, অ্যাডভোকেট সামসুল আরেফিন টুটুল, হিরণ ও বাদশা সহ কয়েকজন মিলে হামলা করে। অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নিয়ে লাটি হাতে নিয়ে আমাকে মারতে থাকে। এরপর তাদের সাথে আরও ২০ থেকে ২৫ জন যুক্ত হয়। এভাবে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আমার উপর মারধর চলে। আমার পড়নে থাকা শার্ট ছিড়ে ফেলে। পরে চেম্বারে থাকা অন্য একটি শার্ট পরিয়ে আমাকে ছাড়ে। আমাকে মারধর করে সে প্রচার করেছে আমি নাকি তাকে গাড়ি কলে তুলে নিয়ে আসতে গেছিলাম। সেখানে অনেকগুলো সিসি ক্যামেরা আছে। সিসি ক্যামরা চেক করলেই বুঝা যাবে আমি সাখাওয়াতকে তুলে আনতে গিয়েছিলাম কিনা।

সারোয়ার আরও বলেন, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন হিংস্র হয়ে গেছে। সে আরও কয়েকজন আইনজীবীকে মারধর করবে বলেছে। অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষানী ও অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকেও মারবে বলেছে। আমি অন্য আইনজীবীদের অনুরোধ করবো কেউ যেন সরল মনে তার চেম্বারে না যায়। চেম্বারে গেলেই আমার মতো অবস্থা করবে।

তবে সেদিনের ঘটনার পর সাখাওয়াত অভিযোগ করেছিলেন, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, একজন আইনজীবীর নেতৃত্বে আমার উপর হামলা করা হয়। হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আমি বাসায় অবস্থান করছি।

তার অনুগামীদের অভিযোগ, সেদিন দুপুরে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নিকটবর্তী চেম্বারে বসে আইন পেশার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। এরই মধ্যে হঠাৎ অ্যাডভোকেট শহীদ সারোয়ারের নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে সাখাওয়াতের উপর হামলা করেন। এক পর্যায়ে সাখওয়াত হোসেন খানকে রক্তাক্ত করে সাথে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে অপহরণের চেষ্টা চালান।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর