রাজাকারপুত্রের শাস্তি দাবী খোকন সাহার


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:২৫ পিএম, ০৪ মে ২০২১, মঙ্গলবার
রাজাকারপুত্রের শাস্তি দাবী খোকন সাহার

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলেকে মুছাপুরের চেয়ারম্যান মারধরের ঘটনায় পুলিশ মামলা না নেওয়ার পেছনে বলেছেন চেয়ারম্যান মারধর করেনি বরং শাসন করেছে।

যুগান্তরের সংবাদে বলা হয়, মসজিদে যাওয়ার জের ধরে ছেলেকে মারধরের ঘটনায় কুখ্যাত এক রাজাকার পুত্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। গত ২৭ এপ্রিল রাতে বন্দর হরিপুর চাপাতলী এলাকার বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইসলাম পলুর একমাত্র ছেলে আল-আমিনকে (১৫) বেদম মারধর করে ওই রাজাকারপুত্র।

এ ঘটনায় ওই রাজাকার পুত্রের প্রভাবে থানায় মামলা পর্যন্ত করতে পারেননি ইসলাম পলু। এ নিয়ে ওই এলাকায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করলেও ভয়ে সবাই নিশ্চুপ। কারণ মামলার বিবাদী বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন। যার পুরো পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকার সব কিছু।

এদিকে গত ২৬ এপ্রিল এই মাকসুদ চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতেই এ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি মজিবুর রহমানের বাড়িতেও হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় মামলা হলেও মাকসুদ চেয়ারম্যান বা তার লোকজনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি পুলিশ। উল্টো হামলাকারীদের পক্ষ থেকেও অপর একটি মামলা নেয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, রোববার নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মাকসুদ চেয়ারম্যানসহ ৪ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন আওয়ামী লীগ নেতা ইসলাম পলু।

বাদী জানান, গত ২৭ এপ্রিল রাতে একমাত্র ছেলে আল-আমিন (১৫) তারাবির আদায় করতে মসজিদে যায়। নামাজ শেষে আল- আমিন মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় তাকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মেরে গুরুতর জখম ও আহত করে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কুখ্যাত রাজাকার রফিকের ছেলে মাকসুদ হোসেন।

এ সময় মাকসুদ বলেন- তুই ইসলামের ছেলে তোদের এ মসজিদে আসা নিষেধ, তোরা এই মসজিদে নামাজ পড়তে আসতে পারবি না, কেন এসেছিস। এই বলেই কিছু বুঝে উঠার আগেই তিনি আল-আমিনকে চড়-থাপ্পড় মারা শুরু করে দেন।

ইসলাম পলু অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করলে আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আর বন্দর থানা পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্ত করে মামলা নেয়ার মতো কিছু পাইনি। দুজন ছেলে মারামারি করায় চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন তাকে একটু শাসন করেছেন।

এ ব্যাপারে মুছাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, আমার বাড়িতে হামলা লুটপাট হলেও মাকসুদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কারণ তার ওপর একজন জনপ্রতিনিধির ছায়া আছে। আমরা কিছু বলতেও পারি না, সহ্যও করতে পারি না। মোট কথা, এই রাজাকারপুত্র ও তার পরিবারের কারণে পুরো ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা জানিয়েছেন, ইসলাম পলু একজন ত্যাগী নেতা ও দলের ভালো সংগঠক। তার শিশুপুত্রের গায়ে হাত দেয়া ঠিক হয়নি। এ ব্যাপারে আদালতে মামলা হয়েছে এবং কঠোর শাস্তি দাবি করছি।

অপরদিকে অভিযুক্ত মাকসুদ হোসেনের মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে ফোন কেটে দেন।

তবে বন্দর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা জানান, মজিবুর রহমানের বাড়িতে হামলার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পেয়েছিলাম, তদন্ত করে উভয়পক্ষের অভিযোগ মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে।

আর ইসলাম পলুর ছেলেকে মারধর ও মামলা না নেয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ইসলাম পলু অভিযোগ দিয়েছিলেন কিন্তু আমরা তদন্ত করে মামলা নেয়ার মতো কোনো ঘটনা পাইনি। মসজিদে দুজন ছেলে মারামারি করায় স্থানীয় চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন শাসন করেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর