ভোট আসলেই জাগেন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৬:৩৬ পিএম, ১৫ মে ২০২১, শনিবার
ভোট আসলেই জাগেন

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের স্বভাবতই চাহিদা থাকে জনপ্রতিনিধি হওয়া। সে হিসেবে তারা জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য সবসময় জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়ার চেষ্টা করে থাকেন। তেনমনিভাবে নারায়ণগঞ্জেও এমন কয়েকজন নেতা রয়েছেন যাদের জনপ্রতিনিধি তথা সংসদ সদস্য হওয়ার খুব ইচ্ছা রয়েছে। এর আগেও তারা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নেমেছিলেন। কিন্তু তাদের যেন স্বভাব হয়ে দাাঁড়িয়েছে ভোট আসলে জেগে উঠেন। ভোট শেষ তো তারাও জনগণ থেকে বিদায় নিয়ে নেন।

তাদের এই তালিকায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান নাগরিক ঐক্যের নেতা এস এম আকরাম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। এদের মধ্যে এস এম আকরাম ও মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন। আর মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। কিন্তু দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

একাদশ জাতীয সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই যেন তারা ঘুমিয়ে গেছেন। নির্বাচন শেষ তো তারা এলাকা থেকে উধাও হয়ে গেছেন। জনকল্যাণে তাদের কোনো কর্মসূচি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সবশেষ করোনা পরিস্থিতিতেও তাদের দেখা মিলছে না। যেন তারা জনগণের কোনো ধারদারি না।

সূত্র বলছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের দ্বিতীয় ধাপে দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। দিন দিন নতুন রেকর্ড হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যায় পিছিয়ে নেই নারায়ণগঞ্জ। সংক্রমন কমিয়ে আনতে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও লকডাউন বলবৎ রয়েছে। সেই সাথে এই লকডাউন ক্রমে ক্রমে বৃদ্ধি পেয়েই যাচ্ছে।

এমতাবস্থায় দুস্থ, অসহায় কর্মহীন হয়ে পড়া খেটে খাওয়া দিনমজুর, শ্রমিক ও রিক্সচালকরা বিপাকে পড়েছেন। তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জীবন যাপন করতে বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে। কিন্তু তাদের সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। যারা নির্বাচন এলেই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি দিয়ে জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে থাকেন তাদেরও দেখা মিলছে না। নির্বাচনের পর থেকেই তারা সংশ্লিষ্ট এলাকার সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েন। যেন নির্বাচন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তারা ঘুমিয়ে গেছেন।

জানা যায়, ১৯৯৫ সালে এস এম আকরাম হোসেন আওয়ামী লীগের যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে তিনি আওয়ামীলীগের এমপি নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক নির্বাচিত হন। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হন। এরপর তিনি দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় ছিলেন।

২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কেন্দ্রের নির্দেশ উপেক্ষা করে তিনি পক্ষ নেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর। নির্বাচনে আইভী জয়লাভের পরদিন তিনি জেলা আওয়ামীলীগের আহবায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি যোগ দেন মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যে।

হলফনামা অনুযায়ী এস এম আকরাম বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক। তবে এগুলোর বেশীরভাগই তার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। তার বিরুদ্ধে তেমন কোন অভিযোগ নেই। এক কথায় তিনি ক্লীন ইমেজের লোক হিসেবে পরিচিত। সবশেষ গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ঐক্যফ্রন্ট থেকে এস এম আকরামকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। তবে তিনি নির্বাচনের বৈতরনী পার হতে পারেন নি।

কিন্তু এই নির্বাচনের পর থেকেই তিনি তার সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে আকরামকে মনোনয়ন দেয়া হলেও নির্বাচন পর বিএনপির নেতাকর্মীদের কোন খোঁজ খবর রাখছেন না। বিশেষ করে করোনাকালিন সময়েও তার আর দেখা মিলছে না। অন্যসময় মাঝে মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় দেখা মিললেও এই কারোনা কালিন সময়ে এস এম আকরাম যেন অনেকটা গাঁ ঢাকা দেয়ার মতো অবস্থানে রয়েছেন।

এর আগে তিনি এই এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও এবার মনে এলাকার জনগণের জন্য তারা মায়া মমতা একেবারেই উঠে গেছে। যদিও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালিন সময়ে তিনি জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন একাদাশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ জোরেসরেই মাঠে নেমেছিলেন। জনগণকে নানা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়িতে ভাসিয়ে আবারও সংসদ সদস্য ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। দলীয় মনোনয়নে জনসাধারনের সমর্থন পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়য় নানা সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে তাকে আর দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

আর এই মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার সাথে সাথে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনও যেন জনসেবা থেকে পিছিয়ে এসেছেন। জনসাধারণের কল্যাণে তার তেমন কোনো কর্মসূূচি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ফলে তার এই তৎপরতা নির্বাচন কেন্দিকই হয়ে গেছে। নির্বাচন আসলেই তিনি মাঠে নেমে থাকেন। যদিও এর আগে তিনি একবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি নিয়ে মাঠে মেমেছিলেন। শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়নও পেয়েছিলেন। কিন্তু এই মনির হোসাইন কাসেমী সম্পর্কে তার নির্বাচনী এলাকার সকল জনসাধারণ ছিলেন অজ্ঞ। তার কোনো চেনা জানা পরিচিতি ছিল না। হঠাৎ করেই উড়ে জুড়ে বসে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নামেন। কিন্তু নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় শেষ পর্যন্ত জয় তো দূরের কথা জয়ের ধারে কাছেও যেতে পারেননি।

নির্বাচন শেষ হওয়ার সাথে সাথে মনির হোসাইন কাসেমীও এলাকা থেকে উধাও হয়ে গেছেন। জনসাধারণের সুযোগ সুবিধায় কোনো কিছুতেই তার দেখা নেই। যেন নির্বাচন আসল তিনি আসলেন নির্বাচন চলে গেল তিনি চলে গেলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর