শামীম ওসমানের এলাকার সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:২৬ পিএম, ১০ জুন ২০২১, বৃহস্পতিবার
শামীম ওসমানের এলাকার সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে

বিগত দিনে বেশ কয়েকটি আলোচনা সভায় বেশ দৃঢ় কণ্ঠেই এমপি শামীম ওসমান বলে আসছিলেন, নারায়ণগঞ্জকে নববধূর বেশে সাজাতে আর বেশীদিন সময় নাই। অচিরেই নারায়ণগঞ্জ সাজবে নববধূর রূপে। আর গত সংসদ নির্বাচনের পর পরই তিনি চাষাঢ়ায় রাইফেল ক্লাবে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখন আর রাজনীতির দরকার নাই। সকলকে নিয়েই রাজনীতি করা হবে আর সেটা হবে উন্নয়নের। আগামী ১ মাসের মধ্যে ফতুল্লার সকল এলাকার অনুন্নত রাস্তাঘাটের তালিকা তৈরি করা হবে। ৬ মাসের মধ্যে কাজ ধরা হবে। ১ ইঞ্চি সড়কও কাচা থাকবে না। ড্রেন রাস্তা সব নির্মাণ হবে। কিন্তু ফতুল্লার সেই বেহাল দশা। একটু বৃষ্টি হলেই জমছে পানি। ডিএনডি প্রকল্পের বাইরের তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

ফতুল্লা। নারায়ণগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি থানা। জেলার ব্যবসা বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান এবং সাংসদ শামীম ওসমানের এলাকা হিসেবে এর ব্যাপক নামধাম রয়েছে। দেশের মানুষ নারায়ণগঞ্জ জেলার নাম ভুলে গেলেও অন্তত প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমানকে কখনও ভুলে না। অথচ তিনি যেই এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সেই এলাকার চিত্র দেখলে রীতিমত বিষ্ময় প্রকাশ করবেন অন্য জেলার বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যাচ্ছে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট। প্রভাবশালী এই সাংসদ নিজ এলাকায় ৩ বার নির্বাচিত হবার পরেও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করতে পারেননি।

নারায়ণগঞ্জে জলাবদ্ধতা এবং ফতুল্লার নাম একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। সামান্য বৃষ্টিতে জেলার অন্য কোথাও জলাবদ্ধতা না হলেও ফতুল্লায় নিশ্চিন্তে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়েছে তা চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারেন বাসিন্দারা। কোথায় হাটু পানি আর কোথায় গোড়ালি পানি জমেছে তাও মুখস্থ সকলের। রিক্সাওয়ালারাও যাত্রীদের গন্তব্যের নাম শুনে দাম হাঁকান ইচ্ছেমত।

থচ এই এলাকার এমপি শামীম ওসমান প্রায়ই সভা সমাবেশে বলেন, নারায়ণগঞ্জের মত উন্নয়ন আর কোথাও হয়নি। তবে সেটি সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভীর হাতে গড়া উন্নয়নকে স্মরণ করে বলেন নাকি জলাবদ্ধতাকেই উন্নয়ন বলে চালিয়ে দেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চলতি বছরের জুন মাসের শুরু থেকেই জলাবদ্ধতা বাড়তে থাকে। অত্র ফতুল্লার মাসদাইর, বিসিক, ইসদাইর, উত্তর ইসদাইর, আল আমিন নগর, পৌষারপুকুর পাড়, লালপুর, দাপা ইদ্রাকপুর, ফতুল্লা স্টেশন রোড, হাজী বাড়ি রোড, উকিলবাড়ি, লালখা, শিয়াচর, সস্তাপুর, রামারবাগ, কাঠেরপুল এলাকার বাসিন্দারা পানিতে বন্দি হয়ে আছেন। কোথাও হাটু পানি আবার কোথাও গোড়ালি সমান পানি। এমন পরিস্থিতিতে পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন লাখো শ্রমজীবী মানুষ নিজ কর্মস্থলে আসা যাওয়া করেন। গত কয়েক বছর ধরে এমন ভোগান্তি অব্যহত থাকলেও সমাধান করতে পারেননি সাংসদ শামীম ওসমান। প্রতিবারই ডিএনডি প্রজেক্টের উপর দায় চাপিয়ে দিলেও একাধিকবার খরচ বাড়িয়েও এর কাজ সমাপ্ত হয়নি। আদৌও এই সমস্যা সমাধান সম্ভব কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ন ২ টি এলাকা হচ্ছে সিটি করপোরেশন এবং ফতুল্লা। এর ভেতর সিটি করপোরেশনের ভেতর যেসকল সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা যায় তা ঘন্টাখানেক পরেই নেমে যায়। কিন্তু ফতুল্লায় এক বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরী হলে তা নেমে যেতে লাগে অন্তত ৩ দিন। গত ২০ বছর ধরে ফতুল্লার ভঙ্গুর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে ভোগান্তি সহ্য করে আসছে বাসিন্দারা। অথচ কথা ছিল সাংসদ শামীম ওসমানের এলাকার বাসিন্দাদের গর্ববোধ করা। একের পর এক আশার বানীতে বাসিন্দারা যেভাবে আশায় বুক বেঁধে ছিলেন তা এখন নিভু নিভু দশা।

স্থানীয়দের দাবী, জলাবদ্ধ এলাকাগুলো যতদিন পর্যন্ত ডিএনডি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না হচ্ছে ততদিন অস্থায়ী ভাবে পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা করা। একই সাথে এলাকার ড্রেনগুলো আকারে বড় এবং গভীর রূপ দিয়ে স্থায়ী সংস্কার করলে মুক্তি মিলতে পারে বাসিন্দাদের। শামীম ওসমানের যেখানে সভা সমাবেশে বলেন ১ ঘন্টায় লাখো কর্মী জড়ো করে ফেলতে পারেন সে কেন তার কর্মীবাহিনী সাথে নিয়ে সমস্যা দূর করতে পারেন না? ডিএনডি প্রজেক্ট এনে যেভাবে মানুষের সামনে বক্তব্যের পর বক্তব্য দিয়েছেন তার বিন্দুমাত্র সুফলও ভোগ করতে পারেনি।

সমালোচকদের মতে, সাংসদ শামীম ওসমান প্রায়ই সভা সমাবেশে উল্ল্যেখ করেন নারায়ণগঞ্জের জন্য এই এই প্রজেক্টে টাকা আসছে। অমুক অমুক প্রজেক্টের কাজ সম্পন্ন হলে নারায়ণগঞ্জ হবে স্মার্ট সিটি। কিন্তু পর পর দুইবার সংসদ সদস্য হয়েও তার ছিটেফোটা নিজ এলাকায় দেখাতে পারেননি। যা দেখিয়েছেন তা কেবল মেয়র আইভী তার নাসিক এলাকায় দেখাতে পেরেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তার এসব মুখের বাণী শুনতে শুনতে মানুষ এখন আর কিছুই বিশ্বাস করে না। কাঠামোগত উন্নয়নের চাইতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ভোগান্তি দূর করা যে জরুরী তা হয়তো ভুলে যেতে পারেন। মানুষ প্রতি বর্ষায় যেই পরিমান ভোগান্তির শিকার হন সেই সমস্যার সমাধান করতে কার্যত ব্যর্থ শামীম ওসমান। ডিএনডি প্রজেক্টের কথা বলে মানুষকে যতটা সময় ধরে অপেক্ষায় রেখেছে তাতে হিতে বিপরীত হয়েছে। জলাবদ্ধ এই ফতুল্লায় ডিএনডি প্রজেক্টের কারনে অতীতে শুকনো থাকা এলাকাগুলোতেও পানি প্রবেশ করছে। এমন পরিস্থিতি অব্যহত থাকলে আগামীতে ফতুল্লার সড়কে বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় থাকবে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর