নেতৃত্ব দুর্বলতার ফসল জোসেফ


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৬:৩৩ পিএম, ১২ জুন ২০২১, শনিবার
নেতৃত্ব দুর্বলতার ফসল জোসেফ

নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় প্রায় চার মাস অতিবাহিত হতে চলেছে। বিলুপ্ত হওয়ার কিছুদিন পর কমিটি ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এখন পর্যন্ত মহানগর যুবদলের কমিটি হয়নি। এমতাবস্থায় পদ পদবীর বাইরে থেকেও নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কয়েকজন সাবেক নেতা দলীয় কর্মসূচিতে বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। কর্মসূচিতে পালনে তারা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

আর তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এক সময়ের আলোচিত ও তুখোর ছাত্রনেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফ। মহানগর যুবদলের সাবেক নেতারা জোসেফকেই তাদের নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছেন। তার নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি। সবশেষ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তারা ব্যাপক কর্মসূচি পালন করেছেন।

এক্ষেত্রে যুবদলের পদে থাকা নেতারা কেউ মহানগর যুবদলের হাল ধরতে পারেননি। সকলেই মাজহারুল ইসলাম জোসেফকেই তাদের নেতা হিসেবে মেনে নিয়ে তার নেতৃত্বেই কর্মসূচি পালন করতে আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। জোসেফের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল সকল কোন্দলের উর্ধ্বেও রয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির সহ সভাপতি মনোয়ার হোসেন শোখন বলেন, আমরা যখন ছাত্র রাজনীতি করতাম তখন থেকেই মাজহারুল ইসলাম জোসেফের সাথে জড়িত। তার সাথে আমরা ছাত্র রাজনীতি করেছি। সেই সাথে তিনি একজন যোগ্য নেতা সুবক্তা। মাঝখাকে কিছুদিন প্রশাসন ও নানা প্রতিবন্ধতার মুখে রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও বর্তমান তিনি আবার সক্রিয় হয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে বর্তমানে তিনি যোগ্যতার দিক দিয়ে সকলের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার নেতৃত্বে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করেছি আমরা। এ উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের কোথাও উদযাপন কমিটি হয়নি। কিন্তু আমরা মাজহারুল ইসলাম জোসেফের নেতৃত্বে উদযাপন করেছি। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমর্সূচি পালিত হয়েছে। সকল দিক বিবেচনা করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আগামী দিনের জন্য জোসেফই যোগ্য নেতা। আর তাই আমরা মহানগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির নেতৃবৃন্দ জোসেফের নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।

বিলুপ্ত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদুর রহমান রশু জানান, মহানগর যুবদলের আগামী দিনে মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের আসার সুযোগ নেই। বলা হচ্ছে সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা মনতাজ উদ্দিন মন্তুর কোন্দলের কারণে কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। তাহলে এখানে দুইজনেই ব্যর্থ। সে হিসেবে মনতাজ উদ্দিন মন্তুরও আগামী দিনে সুযোগ নেই। পাশাপাশি সাগর প্রধান ছিল কোন্দলের কারিগন। সেই সাথে সে অনেক জুনিয়র।

এসকল দিক বিবেচনায় মাজহারুল ইসলাম জোসেফ এগিয়ে রয়েছে। অতীতে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে। তিনি একসময় তুখোড় ছাত্রনেতা ছিলেন। সক যোগ্যতার এগিয়ে থাকায় আমরা মাজহারুল ইসলাম জোসেফকেই চাচ্ছি।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে সভাপতি, মনতাজ উদ্দিন মন্তুকে সাধারণ সম্পাদক, মনোয়ার হোসেন শোখনকে সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন শোখন, সাগর প্রধানকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রশিদুর রহমান রশোকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

সেই আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় ৫ মাস পরই নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে কখনই নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। আহবায়ক কমিটি দিয়েই নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কার্যক্রম পরিচালিত হত। তবে এবার মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের নেতৃত্বে সেই দীর্ঘ দিনে রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে।

কিন্তু এই কমিটি গঠনের পর থেকেই বিদ্রোহ দেখা দেয়। প্রথমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি পালন করলেও পরবর্তীতে তারাও আলাদা হয়ে যান। একদিকে সভাপতি মাকুসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক মনতাজ উদ্দিন মন্তু আলাদাভাবে পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করেন।

শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এই বিভক্তির ফলশ্রুতিতে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নীরব এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করে দেন। বর্তমানে সেই বিলুপ্ত অবস্থায়ই রয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল। এমতাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীদেরকে সরব রেখেছেন বিলুপ্ত কমিটির কয়েকজন নেতা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর