আন্দোলনের বিপরীতে অগোছালো বিএনপি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৪০ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, শনিবার
আন্দোলনের বিপরীতে অগোছালো বিএনপি

দলের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে বারবার তোলা হচ্ছে আন্দোলনের কথা। বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে না গিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে আসার কথা তুলে ধরছেন নেতৃবৃন্দরা। একই সাথে জনসম্পৃক্ত নেতাদের মাধ্যমে রাজপথের আন্দোলনে সরব হওয়ারও কথা উঠে এসেছে। যদিও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোন দিক নির্দেশনা প্রদান করেননি। তবে অধিকাংশ সিনিয়র নেতাদের মতামতকে যে গুরুত্ব দেয়া হবে তা একেবারেই নিশ্চিত।

তবে এই বৈঠকের আগ থেকেই দলকে গোছানোর চিন্তা করছিলেন তারেক রহমান। সারাদেশে জেলা, মহানগর পর্যায়ের সকল কমিটি পূর্নগঠনে মনোযোগ দিয়েছেন তিনি। দলকে সুসংগঠিত করতে পুরোনো কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন করে কমিটি প্রদানের জন্য ভরসাযোগ্য নেতাদের হাতে দায়িত্ব অর্পন করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জেও ৪৬ সদস্য বিশিষ্ট জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করে দেন তৈমূর আলম খন্দকার ও মামুন মাহমুদের নেতৃত্বে।

সময় দিয়েছিলেন মাত্র ৯০ দিন। তবে এর ভেতরে যে দল পুনর্গঠন বাস্তবে সম্ভব নয় তা সকলেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলো। আর সেই কারনেই নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় ইউনিট কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছিলো যাতে যোগ্য এবং পরিচ্ছন্ন নেতাকর্মীদের তুলে আনা যায়। কিন্তু কোনটিতেই সুফল পায়নি কেন্দ্র। উল্টো জেলা কমিটির হর্তাকর্তাদের কমিটি বাণিজ্যের কারনে লেজেগোবরে অবস্থা বিরাজ করছে আহবায়ক কমিটিতে। দলের এমন অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন খোদ আহবায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দরাই।

অথচ খুব বেশীদিন আগের কথা নয়। গত বছর থেকেই চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলে আসছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি নয়, আহবায়ক হতে চান তিনি। কারণ নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে গুছিয়ে দিয়ে সুসংগঠিত একটি দল তৈরী করে দিতে চান। কেন্দ্রে লবিং আর সিনিয়রিটি বিবেচনায় সেই মনোবাসনা অবশেষে পূর্ণ হয়েছে এই বছরের শুরুতেই। কিন্তু ৩ মাসের কাজ ৯ মাসেও সমাপ্ত করতে পারেননি তিনি। উল্টো কমিটি প্রনয়ণ নিয়ে সদস্য সচিবের সাথে মনোমালিন্য তৈরী হয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে এর কার্যক্রম।

বিএনপির বর্তমান আহবায়ক কমিটি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে সম্প্রতি কমিটির সদস্য মাসকুল ইসলাম রাজীব বলেছিলেন, বর্তমান কমিটি নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। বর্তমান কমিটি সুন্দর সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হবে সেই শর্ত দিয়েই কমিটির যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু যেভাবে নির্দেশনা ছিল সংগঠনকে ঢেলে সুন্দর করে সাজাতে হবে সেটা হয়নি। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান যেভাবে গাইডলাইন দিয়েছিলেন তার বাস্তব প্রতিফলন হচ্ছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। প্রথম মিটিংয়ে বলেছিলাম আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। এখন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা দূরের কথা পূর্বের মতো আমার একটা তোমার একটা। দুই এক জায়গা উনাদের নিজেদের সাথে মিলে নাই। নাহলে এতদিনে কমিটি হয়ে যেত।

এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কর্মসূচীর ডাক দেয়া হলে তা কতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। কারন জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়ার পর বেশ কয়েকটি কর্মসূচী ঘোষিত হয়েছিলো কেন্দ্র থেকে। কিন্তু তার কোনটিতেই স্বউদ্যোগে কোন নেতাকর্মী মাঠে নামেননি। এই বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে কমিটি না থাকায় মাঠে নামেননি বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। অর্থ্যাৎ কমিটি ছাড়া দলের প্রতি তাদের দায় নেই একেবারেই। তবে কমিটি থাকা অবস্থায় বিএনপির কার্যক্রম ও কর্মসূচী পালন কতটা দৃশ্যমান ছিলো তা সকলেরই অবগত আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকার সবচেয়ে কাছের অঞ্চল নারায়ণগঞ্জ। আন্দোলন সংগ্রামে এর ভূমিকা ছিলো সর্বদাই অগ্রগামী। কিন্তু যেভাবে সক্রিয় নেতাদের অবমূল্যায়ন আর নিস্ক্রিয়দের পদায়ন করা হচ্ছে তাতে আগামীতে বিএনপির অস্তিত্ব থাকবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ তৈরী হয়েছে। এছাড়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেই প্রত্যাশা নিয়ে দায়িত্ব অর্পন করেছিলেন আহবায়ক কমিটির প্রতি সেটি এভাবে তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়বে তা সকলের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত। দলের এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতাদের হস্তক্ষেপে দ্রুত জেলা বিএনপিকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর