হাইব্রীড ও নীলাদের কদর


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:১২ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, শনিবার
হাইব্রীড ও নীলাদের কদর

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সভা সমাবেশে হাইব্রীড কাউয়াসহ বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের বক্তব্য দিয়ে আসলেও তাদের উপস্থিতিতেই বিভিন্ন সভা সমাবেশে দেখা মিলছে হাইব্রীড ও বিতর্কিতদের। হাইব্রীড কাউয়া বিতর্কিত ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে প্রভাবশালী ওসমান পরিবার ও তাদের অনুগামীরা। বিভিন্ন সমাবেশে তাদের উপস্থিতিতে হাইব্রীড ও বিতর্কিতদের দেখা যাচ্ছে। যা নিয়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ওসমান পরিবারের অনুগামী নেতাদের পাশে হাইব্রীড হিসেবে খ্যাত ফজর আলী, আব্দুল মতিন প্রধান ও বিতর্কিত সাবেক কাউন্সিলর নীলাকে দেখা গেছে। যে কারণে খোদ আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরাই বলছেন ওসমান পরিবারের কাছে এখন হাইব্রীড ও নীলাদেরই কদর বেড়েছে।

জানা গেছে, সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জে নাসিকের ৫নং ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগের কর্মী সভা প্রগতি সংসদে অনুষ্ঠিত হয়। যা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও বিভক্তি ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে। কর্মী সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা, মহানগর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের কেউ উপস্থিত না হওয়ায় গুরুত্ব হারিয়েছে ওই কর্মীসভা।

জানা গেছে, প্রগতি সংসদে অনুষ্ঠিত কর্মী সভার ব্যানারে লেখা ছিলো সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের নির্দেশনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অথচ এ সভায় থানা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা যোগ দেননি। তবে সভায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদিকা ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম উপস্থিত হলেও অতিথির আসনে স্থান পাননি। উল্টো বিতর্কিত সাবেক নারী কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস নীলাকে অতিথির আসনে স্থান দেয়ায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আবার অনেকে প্রতিবাদ স্বরুপ সভাস্থল ত্যাগ করেন।

এদিকে এর আগে ওসমান পরিবারের আর্শিবাদপুষ্ট মহানগর আওয়ামীলীগের একাংশের কর্মীসভায় আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের পাশে হাইব্রীড হিসেবে খ্যাত বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগে যোগদানকারী বিলুপ্ত সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক প্রশাসক আব্দুল মতিন প্রধানকে দেখা গেছে। অপরদিকে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হাইব্রীড ইস্যুতে জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ দুই নেতা সভাপতি আব্দুল হাই ও সেক্রেটারী আবু হাসনাত মুহাম্মদ শহীদ বাদলের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে। দুইজনই বিবৃতি পাল্টা বিবৃতি দিয়েছেন। বিশেষ করে আওয়ামীলীগ নেতা দাবিদার হাইব্রীড ফজর আলীকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দেয়। জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী আবু হাসনাত মুহাম্মদ শহীদ বাদলের সঙ্গে একমঞ্চে হাইব্রীড ফজর আলীকে দেখা গেছে।

এদিকে প্রভাবশালী ওসমান পরিবার সিটি মেয়র আইভীর মনোনায়ন ঠেকাতে নানা ধরনের নীলনকশা আকছেন। যার অংশ হিসেবে ২৭টি ওয়ার্ডে কর্মীসভা করছে ওসমান পরিবারের অনুগামীরা। যদিও এর মধ্যে কয়েকটি ওয়ার্ডে কর্মীসভা করতে গিয়ে তারা হোচট খেয়েছে। আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকর্মী ওসমান পরিবারের অনুগামী নেতাদের ডাকে সারা দিচ্ছেনা। কর্মীসভার বেশীরভাগ আসনই খালি থাকছে। এছাড়াও অনেক নেতা কর্মীসভায় শিশু কিশোরদের দিয়ে আসন ভরছে। যে কারণে এখন মতিন প্রধানের মতো হাইব্রীড ও বিতর্কিত নীলাদের কদর বেড়েছে ওসমান পরিবারের অনুগামীদের কাছে।

তবে দলটির ত্যাগী নেতাকর্মীরা মনে করছেন এসব হাইব্রিড নেতাকর্মীদের কারনেই ত্যাগী নেতাকর্মীরা দল ছেড়ে ঘরমূখী হয়ে পড়েছে। এতে সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়ছে আওয়ামীলীগ। যার প্রমাণ কর্মী সভায় প্রকৃত আওয়ামীলীগারদের অনুপস্থিতি এবং শিশু কিশোর ও হাইব্রীডদের উপস্থিতি। যারা অন্য দলের হয়ে সুবিধা নিয়ে দিনের আলোতে নৌকা রাতের অন্ধকারের অন্যদলের নামে রাম রাম করে বেড়ায়।

উল্লেখ্য বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপির সুবিধাভোগীদের একজন ছিলেন আব্দুল মতিন প্রধান। পরে ভোল পাল্টে আওয়ামীলীগে যোগ দিলেও সাংগঠনিকভাবে তাকে খুব একটা আওয়ামীলীগে দেখা যায়না। অপরদিকে আলোচিত ৭ খুন মামলার আসামী নূর হোসেনের বান্ধবী সাবেক কাউন্সিলর নীলা ছিলেন নানা ঘটন অঘটনে বিতর্কের বেড়াজালে। মাদক ব্যবসার বিরোধে একটি হত্যা মামলারও আসামী এই সাবেক কাউন্সিলর নীলা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর