সভাপতিকে ড্যামকেয়ার সেক্রেটারীর


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৩৩ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, রবিবার
সভাপতিকে ড্যামকেয়ার সেক্রেটারীর

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে চলছে এলোমেলো অবস্থা। একই সাথে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদেরও মধ্যে চলে এসেছে ড্যামকেয়ার ভাব। কেউ কাউকে তেমন একটা পাত্তা দিতে চায় না। যে যার মতো করেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। এমনকি কেন্দ্রীয় নির্দেশনাকেও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপেক্ষা করে থাকেন।

সবশেষ কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ১৮ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১০ টায় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে সভা হয়নি। কি কারণে হয় তা জানা নেই কারও।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলের বিরোধের বিষয়টি বেশি সমালোচনা সৃষ্টি করে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই হাইব্রিডদের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থানে থাকলেও সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলের নমনীয় ভাব দেখা যায়।

একই সাথে এ নিয়ে বাদল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে উদ্দেশ্য করে ধমকের সুরে বক্তব্য প্রদান করেন। যা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

এরই মধ্যে গত ৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের সাথে সাক্ষাৎ করেন। আর সেখানে আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলের মধ্যে চলমান বিরোধের বিষয়টি অবগত হন মির্জা আজম। মির্জা আজমের সামনেই আব্দুল হাই ও বাদল পরস্পরের প্রতি নালিশ করেন এবং উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের ঘটনা ঘটে। তখন মির্জা আজম নির্দেশ দেন দেড় মাসের মধ্যে সম্মেলন করার জন্য।

জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা নালিশ করেন, তিন বছরের মধ্যে মাত্র ২ টা ওয়ার্কিং কমিটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তখন মির্জা আজম কড়া ভাষায় বলেন ওয়ার্কিং কমিটির সভা করার জন্য। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে উদ্দেশ্য করে বলেন মিটিংয়ের ঘোষণা দেন। তখন সেখানে মির্জা আজম সহ সকলের সামনেই বাদল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ২৮ তারিখ শনিবার সকাল ১০ টা পার্টি অফিসে মিটিং হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই নির্দিষ্ট তারিখে মিটিং অনুষ্ঠিত হয়নি।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন শনিবার মিটিং করবেন। কিন্তু সেই মিটিং আজ হলো না। হলো না কেন? এটার কোনো কারণ নেই। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সভাপতিকে তোয়াক্কা না করেই হয়তো মিটিং এড়িয়ে গেছেন।

ওইদিন সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মামুনের সাম্প্রতিক সময়ে নৌকা প্রতিক নিয়ে দেয়া একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ উঠে আসে। সেখানে বক্তব্য শুনানো হয়। বক্তব্য শোনার মির্জা আজম সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ওকে তাৎক্ষণিক বহিস্কার করা উচিত ছিল। আপনি সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে কিভাবে এসব কথা বলে।

সে সময় বলা হয়েছিল ওয়ার্কিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কিন্তু মিটিং আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেছেন, বিশেষ কারণেই ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং অনুষ্ঠিত হয়নি। অতি শীঘ্রই মিটিং ডাকা হবে। মিটিং হলে সকল বিষয়েই আলোচনা করা হতো। না হলে আর কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় গোগনগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আর ওই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘ফজর আলীকে (গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী) আমরা আপনারা সকলে মিলে নৌকা পাইলেও পাশ করামো না পাইলেও পাশ করামো। যদি সম্ভব হয় ফজর আলী ভাইকে আমপাতা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করামো। ফজর আলী ভাইকে পাশ করিয়ে নিবোই। নৌকার দরকার নেই। নৌকা একটা মার্কা। ভোট দিবেন আপনারা। ভোট দিব আমরা। ফজর আলী ভাইয়ের দিকে দৃষ্টি রাখবেন।’

তার এই বক্তব্য নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অনেক সমালোচনা সৃষ্টি করে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর