জেলায় ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী ৪ হাজার


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:৪৪ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, শুক্রবার
জেলায় ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী ৪ হাজার

নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলার ৩৯ টি ইউনিয়নের ৩৫১ টি ওয়ার্ডে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। চায়ের দোকানগুলোতে বাড়ছে আড্ডা। ‘এই দিন দিন নয় আরো দিন আছে, এই দিনেরে নিবা তোমরা সেই দিনেরো কাছে।’এমন দিনবদলের জারি সারি গানও বেজে চলেছে। প্রতিটি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মেম্বার ও মেম্বার মিলে জেলায় কমপক্ষে মোট ৪ হাজারেরও বেশি প্রার্থী মাঠ গরম করতে প্রস্তুত। এখনো তফসিল ঘোষণা না করা হলেও জেলার নারায়ণগঞ্জ সদরের ৭টি ইউনিয়নে, বন্দরের ৫টি ইউপি, সোনারগাঁও এর ১০টি ইউপি, আড়াইহাজার এর ১০টি ইউপি ও রূপগঞ্জ উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নে নির্বাচনের বাতাস জোরেশোরেই বইছে। এবার জেলায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে মোট ২০ লাখ ৩৪ হাজার ৩৪২ জন ভোটার। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৩৪ হাজার ও নারী ভোটার ১০ লাখ ২১৩ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ৫টি উপজেলার মোট ৩৯ টি ইউনিয়নে প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫ জন থেকে ডজনখানেক চেয়ারম্যান প্রার্থীর কথা শোনা যাচ্ছে। সে হিসেবে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩৯০ জন। ৩৫১ টি ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী সাড়ে ৩ হাজার। সংরক্ষিত মেম্বার প্রার্থী ১১৭ জন।

সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জের ৫টি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিএনপি নির্বাচন করবেনা ঘোষনা দিলেও স্থানীয় নেতারা বেঁকে বসে আছেন। তারা বলছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচনের হাওয়া বইছে। তবে শেষ পর্যন্ত ফতুল্লা ইউনিয়নে নির্বাচন হবে কিনা -এ নিয়ে সকলেই শংকিত। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার মোট আয়তন ১১৩ বর্গ কিলোমিটার, মোট ভোটার ৮ লাখ ৬৪ হাজার ৪০৭ জন। বন্দর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার খবরে ভোটাররা উচ্ছসিত। বন্দর উপজেলার মোট আয়তন ৫৪ বর্গ কিলোমিটার, মোট ভোটার ২ লাখ ৩২ হাজার ৩০৮ জন। সোনারগাঁয়ের ১০টি ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনের হাওয়া। সোনারগাঁও উপজেলার মোট আয়তন ১৭১ বর্গ কিলোমিটার, মোট ভোটার ৩ লাখ ৩ হাজার ৮৭২ জন। আড়াইহাজারে ১০টি ইউনিয়নে গ্রামের মানুষগুলো মেতে উঠেছে নির্বাচনের আনন্দে। হাটেবাজারে চায়ের দোকানে রাত দিন চলছে আড্ডা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা সালাম জানাচ্ছেন। এই উপজেলার মোট আয়তন ১৮৩ বর্গকিলোমিটার, মোট ভোটার ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫২২ জন। রূপগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচন হবে ৭টি ইউনিয়নে। এই উপজেলার মোট আয়তন ২৩৪ বর্গ কিলোমিটার, মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮৮ জন।

জানাগেছে, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিলে তৃণমূলে ভোটের হাওয়া বইছে। তবে অনেকটাই একপক্ষীয়। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছাড়া অন্যদের ভোটে তেমন আগ্রহ নেই। নৌকা পেতে প্রতি ইউনিয়নে ৫ জন থেকে ডজনখানেক নেতার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। সম্প্রতি বিএনপি এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় ক্ষমতাসীন মনোনয়নকেই ভোটে জেতার নিশ্চয়তা মনে করা হচ্ছে। তাই নির্বাচনের মাঠে ভোটের চেয়ে বেশি লড়াই নৌকা পেতে। এতে তৃণমূলে সহিংসতার শঙ্কাও তীব্র হচ্ছে। দল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও ভোটে অংশ নিতে ইচ্ছুক অধিকাংশ বিএনপি নেতাকর্মী। কেউ কেউ রয়েছেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, কেউ চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোট করতে পারবেন। দলের বাইরে গিয়ে ভোট করে কতটা লাভ হবে, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে বিএনপির তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে। জাতীয় পার্টি এখনও নিশ্চিত করেনি তারা ইউপি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা।

শহরের কয়েকজন বামনেতা বলেছেন, গত কয়েক বছরে নির্বাচনের অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, তাতে নৌকা পেলেই জয় নিশ্চিত। এ কারণেই ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেতে এত তীব্র প্রতিযোগিতা। যে আওয়ামী লীগের টিকিট পাবে সে ভোট না পেলেও প্রশাসন তাকে জিতিয়ে দেবে- এমন একটি বদ্ধমূল ধারণা তৈরি হয়েছে একতরফা নির্বাচনগুলোর কারণে। আবার দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকার কারণে শাসক দলে পেশিশক্তির বহু নেতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সবার কপালে তো মনোনয়ন জুটবে না। এমন পেশিশক্তিধারী যদি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়, তাহলে দলের প্রার্থীর সঙ্গে সংঘাত অনিবার্য। নির্বাচন কমিশনের অবস্থা `কানে দিয়েছি তুলো, পিঠে বেঁধেছি কুলো`। তারা নীতি কথা বলা ছাড়া সহিংসতা বন্ধে আর কিছু করবে বলে বিশ্বাস হয় না।

জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের খবর অনুযায়ী, নির্দলীয় পদ্ধতিতে ইউপি নির্বাচন ভোটের চেয়েও বেশি ছিল গ্রামীণ উৎসব। রাজনীতির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেত গ্রাম, গোষ্ঠী ও আত্মীয়তার সমীকরণ। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন শুরুর পর তা পাল্টে গেছে। জাতীয় রাজনীতি ইস্যু হয়ে উঠেছে ভোটের নিয়ামক। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো কোণঠাসা থাকায় নির্বাচন একপেশে হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের আগ্রহও কম। একমাত্র জিজ্ঞাসা, কে পা”েছন নৌকা প্রতীক? দলের মনোনয়ন না পেলে কে হবেন বিদ্রোহী?

নৌকা পেলে জয় নিশ্চিত- এমন ধারণায় ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেতে জোর লবিং চলছে। এলাকা ছেড়ে মনোনয়নপ্রত্যাশী রাজধানী ও জেলা শহরে ছুটছেন দলের টিকিট পেতে। তবে সদস্য (মেম্বার) পদে নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় তা নিয়ে পাড়ায়-মহল্লায় যথেষ্ট আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

প্রতি ইউপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীর প্যানেল পাঠাতে তৃণমূলে চিঠি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সেখান থেকে একজনকে বেছে নেবে দলটির মনোনয়ন বোর্ড। শোনা যাচ্ছিল, বিএনপি ভোট বর্জন করায় নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি কঠোর নাও হতে পারে আওয়ামী লীগ। এ গুঞ্জন নাকচ করেছেন দলের সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুর রহমান। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ দলীয় শৃঙ্খলা বিষয়ে কঠোরই থাকবে। কেউ দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হলে তাকে বহিস্কার করা হবে। তিনি ভবিষ্যতে আর মনোনয়নের জন্য বিবেচিত হবেন না।

পৌর নির্বাচনে ব্যাপক জালজালিয়াতির অভিযোগ তুলে ইউপি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। প্রায় সব ইস্যুতে সরকারের কথা বলে `গৃহপালিত বিরোধী` দলের তকমা পাওয়া জাতীয় পার্টিও পৌর নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলেছে।

বিএনপি ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলেও দলের তৃণমূলের অনেক নেতাই নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। ২০১৯ সালে বিএনপি দলীয়ভাবে বর্জন করার পরও দলের অনেক নেতা উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। তবে এবার বহিস্কারের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেই। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত হলো বিএনপি ইউপি নির্বাচনে অংশ নেবে না। প্রার্থী মনোনয়ন দেবে না। কেউ যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন, তা তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর