কবরস্থানের মতোই মসজিদ কমিটি নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিলেন চেয়ারম্যান


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৪৫ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার
কবরস্থানের মতোই মসজিদ কমিটি নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিলেন চেয়ারম্যান

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৭নং ওয়ার্ডের কুড়িপাড়া কাদ্রিয়া কবরস্থান উন্নয়ন কমিটির মতোই কুড়িপাড়া বাজার ও মহল্লা জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটি দখলের চেষ্টা করেছিলেন বিতর্কিত চেয়ারম্যান মাকসুদ। মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হলেও দীর্ঘদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৭নং ওয়ার্ডের কুড়িপাড়া এলাকাতে বিভিন্ন সেক্টর দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন রাজাকারপুত্র হিসেবে খ্যাত এই চেয়ারম্যান মাকসুদ। কয়েক বছর আগে একই কায়দায় কুড়িপাড়া কবরস্থান কমিটি করে দেওয়ার কথা বলে নিজেই সভাপতি বনে যান মাকসুদ এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। কবরস্থানটির জায়গা যিনি দান করেছেন তাদের প্রতিনিধিদেরই বাদ দেওয়া হয়েছে কবরস্থান উন্নয়ন কমিটি থেকে। অথচ কবরস্থান উন্নয়ন কমিটির দায়িত্বে থাকার কথা স্থানীয় অধিবাসীদের।

জানা গেছে, কয়েক বছর আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৭নং ওয়ার্ডের কুড়িপাড়া কাদ্রিয়া কবরস্থান উন্নয়ন কমিটির সভাপতি বনে যান মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মাকসুদ হোসেন। ওই কবরস্থানটির জায়গা যারা দান করেছিলেন তাদের কিংবা তাদের মনোনীত প্রতিনিধি কমিটিতে রয়েছে নামেমাত্র। ওই কবরস্থান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি পদে মো: ওমর হোসেন হলেন চেয়ারম্যান মাকসুদের ভাই। সহসভাপতি মো: মহিউদ্দিন মহিন, সাধারণ সম্পাদক জামাল আহাম্মেদ ও কোষাধ্যক্ষ তাওলাদ হোসেন চেয়ারম্যান মাকসুদের ঘনিষ্ট বন্ধু। সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ মিয়া চেয়ারম্যান মাকসুদের চাচাতো ভাই। ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ আব্দুল বাতেন চেয়ারম্যান মাকসুদের ভগ্নিপতি। প্রচার সম্পাদক মো: আক্তারুজ্জামান চেয়ারম্যান মাকসুদের সৎ মামাতো ভাই। সদস্য এশহাক মিয়া চেয়ারম্যান মাকসুদের বিয়াই। অপর সদস্য বিল্লাল হোসেন চেয়ারম্যান মাকসুদের ভাগ্নে ও কিলার সেলিমের শ্যালক। অপর দুই সদস্য ইকবাল হোসেন ও তাওলাদ হোসেন চেয়ারম্যান মাকসুদের চাচাতো ভাই। কবরস্থান উন্নয়ন কমিটির ১৩ সদস্যের মধ্যে ১০-১১ জনই চেয়ারম্যান মাকসুদের স্বজন ও ঘনিষ্টজন।

এদিকে কুড়িপাড়া কাদরিয়া কবরস্থান উন্নয়ন কমিটির মতোই কুড়িপাড়া বাজার ও মহল্লা জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটিও নিজের নিয়ন্ত্রনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল রাজাকারপুত্র হিসেবে খ্যাত মাকসুদ চেয়ারম্যান। যে কারণে সে নিজেই মসজিদের এডহক কমিটির স্বঘোষিত আহবায়ক বনে গিয়েছিল। কুড়িপাড়া বাজার ও মহল্লা জামে মসজিদে মিটিং না বসে দূরবর্তী এলাকার চাপাতলী নামিরা জামে মসজিদে মিটিং করেন। মসজিদ পরিচালনা কমিটিতে নিজের অধিন্যস্ত ব্যক্তিকে অধিষ্ঠিত করার অভিপ্রায়ে পূর্বতন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো শাহজালাল ভূইয়াকে ডিমোশন দিয়ে সহ সাধারণ সম্পাদক করে ২য় সহ সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ওরফে জামানকে সাধারণ সম্পাদক পদে বসাতে চান। একই ভাবে নিচের দিকে সহসভাপতি থাকা শফিকুল ইসলাম ও মো: শরিফুল ইসলামকে সিনিয়র সহসভাপতি পদে বসাতে চান। গত ১১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুলকে সঙ্গে নিয়ে নিজের মনগড়া কমিটি ঘোষণা করতে ব্যর্থ হওয়ায় ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমআর নামাজের সময়ে নিজের বাহিনীর লোকদের মসজিদে জড়ো করেন বিতর্কিত চেয়ারম্যান রাজাকারপুত্র মাকসুদ। শুক্রবার জুমআর নামাজের সময়ে তার বাহিনীর সদস্য সালাউদ্দিন, বিল্লাল, সমরাট, রবিন, মোহন, এসহাক, ইকবাল, প্রণয়, হৃদয়, জামাল, তাওলাদসহ অনেকেই উপস্থিত ছিল। যাদের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমআর নামাজের পরে স্থানীয় কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুলকে সঙ্গে মাকসুদ চেয়ারম্যান নিজের মনগড়া কমিটি ঘোষণা করতে চাইলে তখন তুমুল হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এসময় মুসুল্লীদের সঙ্গে মাকসুদ চেয়ারম্যান অনুগামীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির উপক্রম হয়। তবে বন্দর থানার ওসি ফখরউদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকায় তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে মসজিদের মোতয়াল্লীর আজিমউদ্দিন ট্রাষ্টের চেয়ারম্যান শাহজাহান মসজিদের পূর্বতন কমিটি ও এডহক কমিটির সমস্ত কার্যক্রম বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। তিনি মুসুল্লীদের মতামত নিয়ে ২ মাসের মধ্যে নতুন কমিটি গঠন করে দিবেন বলে ঘোষণা দেন। পরে বন্দর থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর