চোখের জলে মসজিদের খতিবকে বিদায়


বন্দর করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:৫৫ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২১, শুক্রবার
চোখের জলে মসজিদের খতিবকে বিদায়

অবশেষে বন্দরের ঐতিহ্যবাহী সোনাকান্দা কিল্লা জামে মসজিদের ঈমাম মুফতী সাইফুল্লাহকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ৯ এপ্রিল বাদ জুম্মা সোনাকান্দা এলাকার স্থানীয় শতশত মুসল্লী চোখের পানি জড়িয়ে তাঁকে বিদায় জানানো হয়।

ওই সময়ে স্থানীয় মুসল্লীরা গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা মসজিদকে পবিত্র জায়গা হিসেবে জানি। কারণ এটা আমাদের ধর্মীয় স্থান, নামাজ আদায় করার শ্রেষ্ঠ জায়গা। অন্য ধর্মের লোকেরাও তাদের ধর্মীয় স্থানকে পবিত্র বলে বিশ্বাস করে। মসজিদ সবসময় পবিত্রতার মর্যাদা বহন করে কেননা তাতে আমরা আল্লাহকে ডাকি। আর এই পবিত্র জায়গায় একজন শিক্ষক থাকে। সেই শিক্ষক হচ্ছে মসজিদের ঈমাম। সেই ঈমামকে মসজিদ কমিটির কিছু অর্থলোভী মানুষ ষড়যন্ত্র করে অদৃশ্য শক্তির শেল্টারে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাড়িয়ে দেয়া হল। ঈমামের দোষ একটাই তিনি কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন না। অনিয়ম দেখলে প্রতিবাদমুখর হয়ে যান। আর এজন্যই সুমিষ্ট কন্ঠস্বরের অধিকারী মুফতী সাইফুল্লাহকে বিদায় হতে হল। আসলে এ সমাজে ভাল মানুষ টিকেনা।

তারা আরো বলেন, সাম্প্রতিকালে জুম্মার বয়ানের সময় জাপানেতা উশৃঙ্খল আজিজুল বাহিনী মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে ঈমামকে লাঞ্ছিত করার হীন উদ্দেশ্য নিয়ে স্থানীয় মুসল্লীদের সাথে তান্ডব সৃষ্টি করে। পরে গত সোমবার বন্দর উপজেলা পরিষদে সোনাকান্দা কিল্লা জামে মসজিদের কমিটির লোকজন মিমাংসায় বসে। ঈমামের পক্ষে ৯০ভাগ লোক থাকলেও মসজিদ কমিটির একাংশের তদবিরে বন্দর উপজেলা কর্তৃপক্ষ বিতর্ক এড়াতে ঈমামকে অব্যাহতি দিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলে শুক্রবার সকলের কাছে বিদায় নিয়ে সোনাকান্দা কিল্লা জামে মসজিদের ঈমাম মুফতী সাইফুল্লাহ চলে যান। এ সময় স্থানীয় শতশত মুসল্লীরা তাকে কান্নার নোলা জলে বিদায় দেন।

এর আগে ওই মসজিদে গত শুক্রবার দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক মারামারি হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানুসহ অন্তত ১০ জন। ওই সময়ে একজন রক্তাক্ত হয়।

জানা গেছে, বন্দর সোনাকান্দা কিল্লা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি সাইফুল্লাহকে নিয়ে কমিটির মধ্যে দুটি গ্রুপড বিভক্ত। একটি গ্রুপ সাইফুল্লাকে সরকারী বিরোধী আখ্যা দিয়ে বিতাড়নের চেষ্টা করে। অপর একটি গ্রুপ তার পক্ষে। পরে এক পর্যায়ে স্থানীয় এলাকাবাসী উল্লেখিত ইমাম সাইফুল্লাকে অব্যহতি প্রদানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ প্রদান করে একাংশের লোকজন। প্রতিবাদের মুখে পরে মসজিদ কমিটি মাওলানা সাইফুল্লাকে গত ৩ দিন পূর্বে তার পাওনা বেতন দিয়ে তাকে অব্যহতি প্রদান করে।

এমন সংবাদে সোনাকান্দা কিল্লা জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি এবাদুল্লাহসহ শতাধিক মুসল্লী গিয়ে ইমাম মুফতি সাইফুল্লাহ মিয়াকে অনুরোধ করে জুম্মার নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে নিয়ে আসে।

শুক্রবার জুমআর নামাজের বয়ানের সময়ে জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুলসহ ৩০/৪০জনের একটি সংঘবদ্ধ দল মসজিদে প্রবেশ করে হৈ চৈ শুরু করে দেয়। এ সময় ওই মসজিদ কমিটির সভাপতি এবাদুল্লাহ সহ কয়েকশত মুসল্লীদের মধ্যে পুনরায় তর্ক বিতর্ক শুরু হয়।

এক পর্যায়ে ঈমামের উপর মারমুখী আচরণ করার সময় স্থানীয় মুসল্লীদের মধ্যে আজিজুলের বাহিনীর হাতাহাতিতে রুপ নেয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিতে বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু এগিয়ে গেলে তাকে জাতীয় পার্টি নেতা আজিজুল তাকে লাঞ্ছিত করে।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহতরা হলো মসজিদের মোতয়াল্লী সিরাজ মুন্সি (৬৫), মুসল্লী আলতাফ (৫০), জালাল মিয়া (৫০) ফয়সাল (২৫) ও ফটো সাংবাদিক ইমরুল কায়েস সোহেল (৪০) প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর