নারায়ণগঞ্জের মডেল মসজিদ গ্যাঁড়াকলে


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৩১ পিএম, ১০ জুন ২০২১, বৃহস্পতিবার
নারায়ণগঞ্জের মডেল মসজিদ গ্যাঁড়াকলে

সারাদেশে নির্মাণ করা ৫৬০টি মডেল মসজিদের মধ্যে ৫০টি উদ্বোধন করা হবে হয়েছে বৃহস্পতিবার ১০ জুন। প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনা ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব মসজিদের উদ্বোধন করেন।

প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ‘মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে সর্বমোট ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথম অবস্থায় ৫০টি মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে নেই নারায়ণগঞ্জ।

ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগ প্রাচ্যেরডান্ডি নারায়ণগঞ্জকে গণিকালয়ের কলঙ্ক থেকে মুক্ত করতে পেরেছিল। এবার অনৈক্যের কারণে সেই আওয়ামীলীগ নারায়ণগঞ্জকে কলঙ্কের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘মডেল মসজিদ’ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। কেবল বন্ধ হয়ে আছে নারায়ণগঞ্জের জিমখানা এলাকার মসজিদের কাজ। এর কারণ নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের মধ্যকার অনৈক্য ও দ্বন্দ্ব।

অতএব, এখানে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে থামিয়ে দেয়া হল মসজিদ নির্মাণ কাজ। এমনটাই চাইছেন তথাকথিত ওয়াকফা কমিটি। এমন স্বার্থান্ধ লোকজনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুধীমহল ও সাধারণ জনগণ।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সারা দেশে মোট ৫৬০টি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মডেল মসজিদ নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা মডেল মসজিদ নিমার্ণের ‘অধিক উপযোগী’ আখ্যা দিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষে জিমখানা এলাকার মীর শরীয়ত উল্লাহ (মন্ডলপাড়া জামে মসজিদ) ওয়াক্ফ এস্টেটের একটি জমি নির্ধারণ করা হয়েছিল এক বছর আগে। ওই এস্টেটের দান করা মোট ৪৩ শতাংশ জমিতে মডেল মসজিদ নির্মাণ হবে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে- এমনটাই সিদ্ধান্ত হয়েছিল ওই মসজিদ কমিটি, জেলা প্রশাসক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে। কিন্তু গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে মসজিদ কমিটি’র অভিযোগ, মীর শরীয়ত উল্লাহ ওয়াক্ফ এস্টেটের মোট ৮৩ শতাংশ জায়গার মধ্যে জেলা মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে দেয়া ৪৩ শতাংশ জমির বাইরে বাকি ৪০ শতাংশের ওপর পার্ক এবং বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে সিটি করপোরেশন।

এ নিয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মসজিদের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ ৪র্থ সহকারী বিচারিক হাকিমের আদালতে নাসিক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীসহ ৪ জনকে আসামি করে মামলাও করা হয় মসজিদ কমিটির পক্ষে।

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, সিটি করপোরেশন কারও জায়গা দখল করেনি। মসজিদ কমিটির সঙ্গে সিটি করপোরেশনের একাধিক বৈঠক হয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনার পরই মসজিদের পুকুর সংস্কার করে সেখানে ঘাটলা করে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

যদিও বিষয়টি অস্বীকার করে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন তারেক ও মসজিদের মোতয়াল্লি সাখাওয়াত উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আমাদের এমন কোনো বৈঠক বা চুক্তিই হয়নি।

এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসাইন বলেন, প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের বাস্তবায়নে রয়েছি আমরা এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর। তবে পুরো কাজটি করবে গণপূর্ত অধিদপ্তর। আমরা শুধু তদারিক করব।

প্রসঙ্গত: গত ১২ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। নামফলকে লেখা রয়েছে নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর।

পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, সবকিছুর পর এখন শুধুমাত্র ওয়ার্ক অর্ডার বাকি। ওয়ার্ক অর্ডার আটকাতে যারপর নাই চেষ্টা করে যাচ্ছেন একাংশের লোকজন। তাঁরা ওয়াকফা এস্টেট এর স্বজন ও মসজিদ কমিটির লোকজনকে তাল দিয়ে নাচাচ্ছে। স্বপ্ন দেখাচ্ছে মসজিদ করবে ৪৩ শতাং, জায়গায়। বাকি ৪০ শতাংশ জায়গা তোমাদের। তোমাদের এতবড় সম্পত্তি তোমরা ছাড়বে কেনো। তোমরা মামলা ঠুকে দাও। মসজিদ নির্মাণ কাজ হবে না। তোমরা জিতে যাবে। এমন নস্ট বুদ্ধি বা উস্কানী দিয়ে যারা মসজিদ নির্মাণ কাজ বন্ধ করিয়ে দিয়েছে তাঁরা আর যাইহোক নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন চান না। অন্ততপক্ষে মুখে উন্নয়নের কথা বললেও এরা অন্তরে তা কোনভাবেই চান না। তা এই মডেল মসজিদ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার জন্য মুখোশদারীদের মুখোশ উন্মোচন হতে চলেছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক কালচারাল সেন্টার ৪ তলা ভবন ও ৪ তলা ফাউন্ডেশন দেয়া হবে। এখানে কয়েক হাজার নারী, পুরুষ এক সঙ্গে নামাজ পড়তে পারবেন। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি উননব্বই লাখ টাকা। এখানে নিচতলায় হবে ইমাম ট্রেনিং সেন্টার, প্রতিবন্ধীদের জন্য নামাজের স্থান, মরদেহ গোসল করার স্থান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বই ও পাঠাগার থাকবে। প্রথম তলায় প্রধান নামাজের স্থান ও অযুখানা থাকবে। দ্বিতীয় তলায় পুরুষ ও নারীদের জন্য নামাজের স্থান, সভা কক্ষ ও অযুখানা। তৃতীয় তল্লায় শুধু মাত্র নারীদের জন্য নামাজের স্থান, হেফজখানা, ইমাম, শিক্ষক, খাদেম ও অতিথিদের জন্য রুম ও নারীদের অযুখান। আর মসজিদটির জন্য ২০০ কেভিএ সাব স্টেশনের যন্ত্রাংশ, একটি ৪০ কেভিএ জেনারেটর, ৭৫টন এসি, সিসিটিভি, সোলার, বিএইচপি পাম্প মটোর থাকবে।’

এর আগে ১২ জানুয়ারি সিটি করপোরেশনের জিমখানা এলাকায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর