এক বছর পর সেই মসজিদে জুমআর নামাজ


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১২:১৯ এএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, শনিবার
এক বছর পর সেই মসজিদে জুমআর নামাজ

ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার এক বছর পর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে জুমআর নামাজ আদায় করা হয়েছে। সেই সাথে এখন থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মসজিদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় মসুল্লিদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই নামাজ আদায় করা হয়। দীর্ঘ এক বছর পর মসজিদে নামাজ আদায় করতে পেরে ধর্মীয়প্রাণ মসুল্লিরা পেয়েছেন প্রশান্তি। নামাজ শেষে মোনাজাতে চোখের নোনাজলে নিহতদের স্মরণ করেছেন তারা। কণ্ঠে ছিল তাদের আহাজারি।

মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা ইছালউদ্দিন বলেন, দীর্ঘ এক বছর পর আমরা মসজিদে এসে নামাজ আদায় করতে পেরেছি। এটা আমাদের জন্য অনেক তৃপ্তির বিষয়। দীর্ঘ এক বছর হলেও মসজিদে এস নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এজন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করবো অতি শীঘ্রই যেন মসজিদের সকল সমস্যার সমাধনা করা হয়। আমরা চাই মসজিদটি নুতনভাবে নির্মাণ করা জন্য।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল গফুর বলেন, আল্লাহর কাজে শুকরিয়া দীর্ঘ এক বছর পর আমরা মসজিদে এসে নামাজ আদায় করতে পেরেছি। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয়প্রাণ মসুল্লিরা অপক্ষোয় ছিলেন কবে মসজিদে এসে নামাজ আদায় করতে পারবেন। তাদের অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়েছে। এখন থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নাামাজ মসজিদে আদায় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মসজিদে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতিই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা আমাদের কথা শুনেছেন। সেই সাথে বাকী সকল সমস্যার সমাধান করে দিবেন বলে আশা প্রকাশ করছি।

এর আগে দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ থাকা মসজিদ চালু করে দেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী। তারা মানববন্ধনও করেছিলেন। তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে নামাজ আদায়ের অনুমতি দেয়া হয়। গত ২৯ আগস্ট বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কয়েক দফা শর্তের ভিত্তিতে এই অনুমতি প্রদান করা হয়।

শর্তের মধ্যে বলা হয়েছিল, মসজিদে একাধিক দরজা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে এবং আপাতত মসজিদটিতে শীততাপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্রের ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিদ্যুতের প্যানেল বোর্ড মসজিদ ভবনের বাইরে অথবা বারান্দায় বসাতে হবে। প্রতি ৩ মাস পর পর অনুমোদিত প্রকৌশলী, এবিসি লাইসেন্সপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান দ্বারা পরীক্ষা করে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতে হবে। স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক মসজিদের বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রমের সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

মসজিদের নিচে বা পাশে গ্যাস লাইন নেই অথবা গ্যাস লাইন সঠিক আছে মর্মে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিশ্চিত করতে হবে। মসজিদের প্রতিটি তলায় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামাদি রাখতে হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথভাবে মনিটরিং করাসহ এসব শর্তাবলি পালন নিশ্চিত করতে হবে।

এসকল শর্তের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের অনুমতির পর গত ৩০ আগস্ট দুপুরে এলাকাবাসী উদ্যোগে মসজিদের ভিতরে জমে থাকা পানি নিস্কাসন করা হয়। সেই সাথে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার জমে থাকা ময়লা পরিস্কার করা হয়। সেই সাথে নামাজের জন্যও প্রস্তুত করা হয়।

এরপর সিদ্ধান্ত হয় এই মসিজেদ আর নামাজ আদায় করা হবে না। মসজিদের মসুল্লিদের নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদটি ভেঙ্গে আবার নতুন করে নির্মাণ করা হবে। সে লক্ষ্যে টেন্ডারের আহবান করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সে টেন্ডার বাতিল করা হয়। সেই সাথে জেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে ২৪ সেপ্টেম্বর জুমআর নামাজ আদায় সহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ফতুল্লার পশ্চিমতল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আর এই ঘটনায় দগ্ধ অবস্থায় ৩৭ জনকে জাতীয় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে একে একে ৩৪ জনই মারা গেছেন। আর এই ঘটনার পর থেকেই মসজিদ ব্যবহার সহ সকল ধরনের নামাজ আদায় বন্ধ ছিল।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর