রামকৃষ্ণ মিশনে এবারও হবে না জীবন্ত প্রতিমায় কুমারী পূজা


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১২:১৫ এএম, ১১ অক্টোবর ২০২১, সোমবার
রামকৃষ্ণ মিশনে এবারও হবে না জীবন্ত প্রতিমায় কুমারী পূজা

করোনা মহামারীতে ভীড় এড়াতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এবারও নারায়ণগঞ্জ শহরের রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে দুর্গাপূজার প্রধান আকর্ষণ জীবন্ত প্রতিমায় কুমারী পূজা হবে না। তবে নিয়ম রাখতে শুধু ঘট বসিয়ে পূজা করা হবে বলে জানিয়েছেন রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী একনাথানন্দ।

৯ অক্টোবর শনিবার বিকেলে শহরের চাষাঢ়ায় রামকৃষ্ণ মিশনে গিয়ে দেখা গেছে, ‘ইতোমধ্যে মন্ডপে প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে। এখন চলছে সাজসজ্জা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজ। স্বাত্তিক পূজা হওয়ায় মন্ডপে তেমন কোন বাহারি সাজসজ্জা থাকে না মিশনে। তবে পূজার যাবতীয় ধর্মীয় সব কিছুই এখানে বহাল থাকে।’

রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী একনাথানন্দ বলেন, ‘কোভিড-১৯ সুরক্ষায় সরকার থেকে দিক নির্দেশনা দিয়েছে। দেশ ও জাতির মঙ্গলে আমরা ভক্ত দর্শনার্থীদের ভীড় এড়াতে জীবন্ত প্রতিমায় কুমারী পূজা স্থগিত করা হয়েছে। তবে ‘ঘট’ বসিয়ে মায়ের পূজা হবে। আশা করছি আগামী বছর পরিস্থিতি ভালো হলে অবশ্যই কুমারী পূজা হবে। এছাড়া ২০২০ সালেও একইভাবে ঘট বসিয়ে কুমারী পূজার নিয়ম পালন করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘কুমারী পূজা না হলেও ভক্ত দর্শনার্থীরা সবাই মন্দিরে আসে। এতে করে ভক্ত দর্শনার্থীদের বলা হয়েছে যাতে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসে। আর আমরা ভক্ত দর্শনার্থীদের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থারও আয়োজন করেছি। যেমন, হাত ধোয়া, অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার, হ্যান্ড স্যানেটাইজার স্প্রে ও তাপমাত্র দেখা ইত্যাদি স্বাস্থ্যবিধি পালন করা। এছাড়াও ভক্ত দর্শনার্থীদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থাও থাকবে।’

একনাথানন্দ বলেন, ‘কুমারী পূজা ছাড়াও রাতে সন্ধি পূজা হবে। সেসময় ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্জ¦লন করা হবে। ভক্তরা এতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তাছাড়া প্রত্যেকদিন মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলী দেওয়া সহ অন্যান্য কিছু ঠিকই থাকবে।’

‘করোনা ধুয়ে মুছে চলে যাক এটাই মায়ের কাছে আমাদের প্রার্থনা’ যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘১৯০৯ সালে নারায়ণগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম প্রতিষ্ঠা করা হয়। আর তখন থেকেই এখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। যার জন্য ভক্ত দর্শনার্থীদের আগমনও বেশি। ডিআইজি মহোদয় ফোন দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি খোঁজ খবর নিয়েছেন। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ প্রশাসন থেকেও খোঁজ খবর নিচ্ছে। আমরা বলেছি সব কিছু ভালো আছে।’

পঞ্চমী সম্পর্কে তিনি বলেন, ওই দিন দেবী মায়ের বোধন। যার মানে অনুভব করা। বোধ করা। বোধ থেকে বোধন। দেবী মাকে হৃদয়ে থেকে প্রমাণ করা। মুর্তি মাটির তৈরি কোন কিছু না। মুর্তি মানে মূর্ত। ভাগবান প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

ষষ্ঠী পূজা সম্পর্কে তিনি বলেন, ৬ষ্ঠী পূজার দিন কল্প করা হয়। যার মানে সংকল্প করা। মায়ের পূজার সংকল্প করা। ওই দিন বিকালে আমন্ত্রণ ও অধিবাস। অধিবাস মানে কাছাকাছি বসবাস করা। প্রাচীন কালে ঋষিরা বেল গাছের নিচে দেবী মাকে প্রথম অনুভব করেন তাই ওইদিন বেলগাছের নিচে প্রথমে মায়ের পূজা করা হয়।

সপ্তমী পূজা সম্পর্কে তিনি বলেন, সকালে সর্ব দেব দেবীর পূজা করা হয়। পরে মায়ের পূজা। পুষ্পাঞ্জলি দেয়া হয়।

অষ্টমী পূজা সম্পর্কে তিনি বলেন, সকালে সর্ব দেবদেবীর পূজা পরে কুমারী পূজা। পরে পুষ্পাঞ্জলি দেয়া হবে। অষ্টমী তিথির ২৪ মিনিট ও নবমী তিথির ২৪ মিনিট মিলে ৪৮ মিনিট সন্ধি পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

নবমী পূজা সম্পর্কে তিনি বলেন, সর্বদেবদেবীর পূজা, হোম বা আহুতি। বৈদিক মতে ঋষিরা আগুনের মধ্যে মায়ের অনুভব করে তাই নবমী পূজার দিন আগুনে আহুতি দেয়া হয়। পরে পুষ্পাঞ্জলি অনুষ্ঠিত হবে।

দশমী সম্পর্কে তিনি বলেন, দশমী মানে বির্সজন। বির্সজন মানে ফেলে দেওয়া বা পানিতে ডুবিয়ে দেয়া নয়। বির্সজন মানে মাকে বিশেষ ভাবে অর্জন। এতদিন প্রতিমা আকারে যে মায়ের পূজা করা হয়েছে সেই মাকে হৃদয়ে স্থান দেয়া। সেই জন্য সকালে দর্পণ বির্সজন দেয়া হয়। ভগবান সব সময় হৃদয়ে বসবাস করেন।

তিনি আরো বলেন, প্রতিটি মানুষ ধর্ম ধারণ না করলে ভালোভাবে মানুষ এগুতে পারবে না। ধর্মহীন মানুষ পশুর সমান। ধর্ম না থাকলে মানুষের বিবেক থাকে না। স্বামী বিবেকান্দ বলেছেন আহার, নিদ্রা, বংশ বিস্তার সকল জীব করে। একমাত্র মানুষ ধর্ম বিশ্বাস করতে পারে। জীবনের উদ্দেশ্য ঈশ্বর লাভ। প্রতিটি মানুষ হোঁচট খেয়ে এক সময় ধর্মের কাছে আসবে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর