তৈমুরে অসন্তোষ কাজী মনিরের

|| নিউজনারায়ানগঞ্জ২৪.নেট ০১:০১ এএম, ১ জানুয়ারি ২০১৫ বৃহস্পতিবার

তৈমুরে অসন্তোষ কাজী মনিরের
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) সংসদীয় আসনে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের। তবে এ আসনটি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়ার অবস্থান তাদের চেয়ে অনেকটাই পোক্ত।   তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত হয় কাজী মনিরুজ্জামান নতুবা দিপু ভুইয়া এ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিবে কিন্তু এ আসনটি থেকে নজর সরাতে পারছেন না তৈমুর আলম। যে কারণে তৈমুর আলম হাতে গোনা তার কিছু আত্মীয়স্বজন নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সোমবার আদালতপাড়ায় একটি মামলায় হাজির শেষে বিএনপি পন্থী আইনজীবী ও নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কাজী মনির। সোমবার দুপুরে আইনজীবী সমিতির তথ্য কেন্দ্রে বসে কাজী মনির এক পর্যায়ে তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন।   ওই সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জাসাসের সহ-সভাপতি আনিসুল ইসলাম সানি, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানসহ বিএনপি পন্থী আইনজীবী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের কয়েকজন।   কাজী মনির বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আমাকে রূপগঞ্জ আসনে কাজ করতে বলেছেন। কিন্তু তৈমুর আলম খন্দকার একশ দেড়শ লোজজন রূপগঞ্জে গণসংযোগ করেন। রূপগঞ্জে তৈমুর আলমের কোন নেতাকর্মী নেই। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে কাজ করে তিনি রূপগঞ্জে বিরোধ সৃৃষ্টি করছেন। তৈমুর আলম খন্দকার নিজেই তার দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।   গত শুক্রবার রূপগঞ্জ এলাকায় গণসংযোগ করেছিলেন তৈমুর আলম খন্দকার। যেখানে স্থানীয় পদধারী কোন নেতা ছিলেন না। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব রহমান রয়েছেন তৈমুর আলমের সাথে। আর রূপগঞ্জে তৈমুরের পিএস আলাল ও রুপগঞ্জ থানা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আব্দুল মালেকসহ তার কিছু আত্মীয়স্বজন। তবে জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন কনক যিনি তৈমুর আলমের ভাগিনা। মূলত তৈমুর আলমের বৈদৌলতেই সাধারণ সম্পাদক বানানো হয়েছে। তার কোন নেতাকর্মীরা নেই।   এর পূর্বে রুপগঞ্জে তৈমুর আলমের স্থানীয় বাসভবনে পহেলা বৈশাখ পালন উপলক্ষে ভুড়িভোজের আয়োজন করা হয়। যেখানে রূপগঞ্জের নেতাকর্মীদের দেখা মিলেনি। তবে সেখানেও ছিলেন অন্যান্য এলাকার নেতাকর্মীরা। যেখানে বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দীন গিয়েছিলেন শো-ডাউন করে।   অন্যদিকে তৈমুর আলম খন্দকার রূপগঞ্জে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে কাজী মনিরকে নাজেহাল করেছিলেন। এছাড়াও ওইদিন তৈমুর আলমের আত্মীয়দের দ্বারা লাঞ্চিত হয়েছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। তাদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে এসেছিলেন নগর বিএনপির সহ-সভাপতি সুরুজ্জামান ও যুগ্ম সম্পাদক নুরুল হক চৌধুরী দিপু। ওইদিন নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসন থেকে তৈমুর আলম নির্বাচনে অংশ নিবে বলে ঘোষনা দেয়ার কথা বলে কাজী মনিরসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের ডেকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে কাজী মনির, জান্নাতুল ফেরদৌস, এটিএম কামাল, সুরুজ্জামান, নুরুল হক চৌধুরী দিপুসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়। তখন তৈমুর আলম তার আত্মীয়স্বজন দিয়ে কাজী মনিরের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়ায়। এসময় অন্যান্য নেতাদের লাঞ্চিত করায় তৈমুর। যার ইন্ধনে ছিলেন তৈমুর নিজেই।   উল্লেখ্য যে, বিগত আন্দোলন সংগ্রামে যখন তৈমুর আলম নারায়ণগঞ্জ মহানগরীতে আন্দোলন করছেন তখন রুপগঞ্জে বিএনপির হাল ধরার মত কেউ ছিল না। সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে কাজী মনির ছিলেন উদাও। এমন সময় রুপগঞ্জ থানা বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে আন্দোলন করেন মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইয়া।

বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও