বেপরোয়া মনাবাহিনী আগুন দিল লক্ষ্মী নারায়ণের শেয়ারহোল্ডারদের বসতঘরে!

|| নিউজনারায়ানগঞ্জ২৪.নেট ০১:০১ এএম, ১ জানুয়ারি ২০১৫ বৃহস্পতিবার

বেপরোয়া মনাবাহিনী আগুন দিল লক্ষ্মী নারায়ণের শেয়ারহোল্ডারদের বসতঘরে!
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১০ নং ওয়ার্ডের গোদনাইলে অবস্থিত নিউ লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলসের আন্দোলনরত শেয়ারহোল্ডারদের বিতাড়ন ও মিলটি দখলে নিতে বেপরোয়া মনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এবার আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনরত শেয়ারহোল্ডারদের বিরুদ্ধে। সোমবার দিনগত গভীর রাতে ঘুমন্ত শেয়ারহোল্ডারদের বসতবাড়িতে বাহিরের থেকে তালা লাগিয়ে দাহ্য পদার্থ দ্বারা আগুন লাগিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। আগুনে পুড়ে গেছে শেয়ারহোল্ডার স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক মোহাম্মদ হোসেন, আব্দুর রশিদ, নিরঞ্জন দাস ও সুশীল বাড়ৈ এর ঘর। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ওই ৪টি ঘরে থাকা লোকজন। তবে পুলিশ বলছে, আগুনের ঘটনাটি নাশকতা কিনা অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। অপরদিকে মনির হোসেন মনার দাবি, তাদেরকে ফাঁঁসানোর জন্যই শেয়ারহোল্ডাররা নিজেরাই আগুন লাগিয়েছে।   আন্দোলনরত শেয়ারহোল্ডাররা জানান, রাতে হামলার আশঙ্কায় আন্দোলনরতরা পালাক্রমে ঐতিহ্যবাহী গোলকাবের সামনে পাহাড়া দেন। সোমবার দিনগত রাত পৌনে ১ টার দিকে শেয়ারহোল্ডার স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক মোহাম্মদ হোসেনের বসতঘরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে বাহিরের থেকে তালাবদ্ধ করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এসময় ধোঁয়া দেখতে পেয়ে শেয়ারহোল্ডার জাহাঙ্গীর আলম ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন যুবক ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান আগুন জ্বলছে। পরে তারা তালা ভেঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের পরিবারের সদস্যদের বের করে আনেন। এসময় তারা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ঘটনার ১০ মিনিটের মাথায় হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসলেও মেইনগেট খোলা নিয়েও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে অবৈধ পরিচালনা পর্ষদের নিয়োজিত নৈশপ্রহরীরা। আধাঘন্টা পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রন আনে। তবে আগুনে পুড়ে গেছে ৪ জন শেয়ারহোল্ডারের ঘরের মালামাল।   আন্দোলনরতরা আরো জানান, শেয়ারহোল্ডারদের বিতাড়ন ও মিলটি দখলে নিতে বেপরোয়া হয়ে পড়েছে মিলটির দূর্নীতিবাজ পরিচালনা পর্ষদ। আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাতের আধাঁরে মিলটির স্থাপনা ভেঙ্গে ও যন্ত্রাংশ লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন ও নিট কনসার্নের মালিক জয়নাল আবেদীন মোল্লার ছোট ভাই মনির হোসেন মনার নিয়োজিত ক্যাডার বাহিনী। সোমবার রাত পৌনে একটার দিকে আগুন লাগার কিছু সময় পূর্বে বহিরাগত কিছু যুবককে দৌড়ে চলে যেতে দেখা গেছে। সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক মোহাম্মদ হোসেনের বসত ঘরটি মিলের সীমানার দেয়াল ঘেষা হওয়ায় তার ঘরেই প্রথমে আগুন দেয় দুর্বত্তরা। তাদের ধারনা মনা বাহিনীর লোকজনই এই আগুন লাগানোর ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ৭০০ কোটি টাকা মূল্যের মিলটি মাত্র ৩৫ কোটি টাকায় নিট কনসার্নের মালিক জয়নাল আবেদীন মোল্লার নিকট হস্তান্তরের চক্রান্তের অংশ হিসেবে তাদেরকে উচ্ছেদের অভিপ্রায়ে উদ্দেশ্যমূলক আগুন লাগানো হয়েছে। কারণ এক বছরের বেশী সময় ধরে শেয়ারহোল্ডারদের বসতবাড়িতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।   এ বিষয়ে জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ পরিচালক মোমতাজ হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এখনো নিরূপন করা হয়নি। তবে কেউ নাশকতার উদ্দেশ্যে আগুন লাগিয়েছি কিনা তা তদন্তের পরে জানা যাবে।   সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আলাউদ্দিন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, রাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে কেউ নাশকতার উদ্দেশ্যে আগুন লাগিয়েছে কিনা তা অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে।   মনির হোসেন মনা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, তাদেরকে ফাঁসানোর জন্যই শেয়ারহোল্ডাররা নিজেদের ঘরে আগুন লাগিয়েছে। তারা যদি আগুন লাগাতেন তাহলে সবার ঘরেই লাগাতেন। দু’একটি ঘরে নয়। এছাড়া কয়েকদিন পূর্বে পরিচালনা পর্ষদের সাবেক নেতা বাবুলের সঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের ঝগড়া হয়েছিল। এরই জের ধরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যখন আগুন লাগানো হয়েছিল তখন ঘরে কেউ ছিলনা। এছাড়া আগুনে পরিচালনা পর্ষদের সাবেক নেতা বাবুলের ঘরও আগুনে পুড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।   উল্লেখ্য ২০০১ সালে ২১ মার্চ ৫১০ জন শেয়ার হোল্ডারদের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের নিকট থেকে মিল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোঃ শামসুদ্দিন প্রধান ও পরিচালক রোস্তম আলী গাজী দায়িত্ব গ্রহন করেন। তাদের নেতৃত্বাধীন মিলটির পরিচালনা পর্ষদ মিলের ৪/৫ কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রাংশ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেয়। পরিচালনা পর্ষদ তাদের দূর্নীতি ধামাচাপা দিতে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ৫১০ জন শেয়ারহোল্ডারকে ডেকে একজন যৌথ বিনিয়োগকারীর কথা বলে তাদের সম্মতি নেয়। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ধারনা ছিল যৌথ বিনিয়োগ হলে মিলটি পুনরায় চালু হবে এবং তারা পরিবার পরিজন নিয়ে ঠিকমতো চলতে পারবেন। তবে এর কিছুদিন পরে দেখা যায় অন্য চিত্র। সাধারণ শেয়ার হোল্ডাররা বুঝে ওঠা আগেই ২ লাখ ৫ হাজার টাকায় শেয়ার ক্রয় করে রেখে দেয়া হতে থাকে এবং তার বদলে কাগজপত্রে ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হতে থাকে। অনেককে শেয়ার বিক্রি করতে চাপ সৃষ্টি করা হতে থাকে। যারা বিক্রি করতে রাজী হচ্ছিল না তাদের বসতঘরের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। মিলের শেয়ারহোল্ডাররা উচ্চ আদালতে দু’টি রিট পিটিশন দায়ের করলেও মিলটি দখল নিতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে মিলটির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। নিট কনসার্ন গ্রুপের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন মোল্লার ভাই পরিচালক মনির হোসেন মনার নেতৃত্বে ঘটছে একের পর এক হামলার ঘটনা। এছাড়া শেয়ারহোল্ডারদের বিরুদ্ধে অন্তত অর্ধডজন মামলাও দায়ের করেছে প্রভাবশালী পরিচালনা পর্ষদ। lokkhinarayan-agun-23

বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও