আন্দোলনে না থাকলেও সিদ্ধান্তে সাবেক এমপিরা

|| নিউজনারায়ানগঞ্জ২৪.নেট ০১:০১ এএম, ১ জানুয়ারি ২০১৫ বৃহস্পতিবার

আন্দোলনে না থাকলেও সিদ্ধান্তে সাবেক এমপিরা
আন্দোলন সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্যর মাঠে না থাকলেও দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে কেন্দ্র থেকে তাদের মতামতকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ ছাত্রদলের বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের ব্যাপারে বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি সাবেক সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও আলোচনা করে কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা।     বিএনপির জামায়াত জোট সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে আবদুল মতিন চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে আতাউর রহমান আঙ্গুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনে রেজাউল করিম, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। তাদের মধ্যে আবদুল মতিন চৌধুরী ইতোমধ্যে মারা গেছে। তাঁর আসনে ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে গিয়াসউদ্দিনের স্থলে জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে আঙ্গুরের স্থলে বদরুজ্জামান খান খসরু প্রতিদ্বন্ধিতা করেছিলেন।     সাবেক এসব এমপিদের মধ্যে আতাউর রহমান খান আঙ্গুর রাজনীতিতে অনেকটাই নিস্ক্রিয়। আন্দোলন সংগ্রামে তাকে দেখা মিলছে না। তাঁর বড় ভাই বদরুজ্জামান খান খসরু ও নতুন করে রাজনীতিতে শক্ত ভীত গড়ে তোলা যুবদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের কারণে অনেকটাই কোনটাসা আঙ্গুর।     রেজাউল করীমের সোনারগাঁয়ে প্রচুর নেতাকর্মী থাকলেও তাকে রাজপথে দেখা মিলে না। গত বছর সোনারগাঁয়ে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হলেও এর বাইরে ছিলেন রেজাউল করিম। রাজনীতিতে নিস্ত্রিয় থাকবে মুচলেকায় তিনি পুলিশের সঙ্গে গোপন আতাত করেন।     আবুল কালামে সাবেক তিনবারের এমপি হলেও তাঁর রাজনীতি এখন ড্রয়িংরুম কেন্দ্রীক। কোন হরতাল কিংবা অবরোধে তাকে রাজপথে দেখা যায় না। দেখা মিলে না কোন কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীতেও।     একই অবস্থা আলোচিত সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনের ক্ষেত্রে।     যদিও গতবছর নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগে চারুকলা ইনস্টিটিউটে বিএনপির এক সভায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ এর উপস্থিতিতে সাবেক এমপিদের বসানো হয়েছিল বসার নিচের সারিতে।     নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজিব জানান, কেন্দ্র থেকে ছাত্রদলের উপজেলা কমিটি গঠনের ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি ও উপজেলার চেয়ারম্যান সাথে আলোচনার মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে বলা হয়েছে। সবার সাথে আলোচনা ও সমন্বয় করে সঠিক নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হবে।     জানা গেছে, গত ২ অক্টোবর মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজল কর্তৃক নারায়ণগঞ্জ কলেজ শাখা, সরকারী তোলারাম কলেজ শাখা, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, বন্দর উপজেলা ও বন্দর থানা ছাত্রদলের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এ নিয়ে কমিটির অন্যান্য যুগ্ম আহবায়করা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেই সাথে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল কাদির ভূইয়া জুয়েল জানান কমিটির অনুমোদন দিতে গেলে আহবায়কের পাশাপাশি সিনিয়র যুগ্ম আহবায়কের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কমিটি অনুমোদন দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই কমিটি গুলো বাতিল করা হয়েছে বলে ঘোষণা দেন অনুমোদন দেওয়া মনিরুল ইসলাম সজল।     আর এ কমিটি গঠনের পেছনে মনিরুল ইসলাম সজলের উপর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের চাপ ও ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ ছাত্রদলের নেতাদের। তৈমুর আলম খন্দকারের বাসায় বসেই ওই সকল কমিটি গঠন করা হয়ে ছিল বলে তারা জানান।     ছাত্রদলের কমিটি গঠন ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই কমিটি বাতিল ঘোষণার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তৈমুর আলম খন্দকার বলে ছিলেন, দীর্ঘ ১ বছর ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও ছাত্রদলের জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা থানা ও কলেজ শাখার কমিটি গঠন করতে পারেনি। এতে করে শুধু জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নেতারাই ব্যর্থতার পরিচয় দেননি ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কারণ কেন্দ্রের উচিত জেলা ও মহানগর কমিটিকে নার্সিং করে কিন্তু তারা সেটা করেনি।     এ ঘটনার পর থেকেই ছাত্রদলের বিভিন্ন উপজেলা ও থানা কমিটি নিয়ে নড়েচড়ে বসে মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা। সেই লক্ষ্যে কেন্দ্র থেকেও তাদেরকে কমিটি গঠনের ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও