বলদেব জিউর আখরা পূজা মন্দিরে নতুন কিছু

|| নিউজনারায়ানগঞ্জ২৪.নেট ০১:০১ এএম, ১ জানুয়ারি ২০১৫ বৃহস্পতিবার

বলদেব জিউর আখরা পূজা মন্দিরে নতুন কিছু
সনদ সাহা সানি : ঐতিহ্যবাহী দূর্গাপূজায় থিম বা ভাবনার লড়াইয়ে কমতি নেই নারায়ণগঞ্জে। দেশীয় সংস্কৃতির সাথে ধর্মীয় সংমিশ্রণের মাধ্যমে নতুন কিছু উপহার দেয়ার চেষ্টায় নারায়ণগঞ্জের বলদেব জিউর আখড়ায় সার্বজনীন ম-পের প্রবেশ দ্বার নির্মাণে এসেছে ট্যাপা পুতুলের ভাবানার কারুকাজ। ম-পের প্রবেশ দ্বার তৈরি করা হচ্ছে প্রচানীন কালের ট্যাপা পুতুলের আদলে ৪ রঙয়ের ট্যাপাপুতুল দিয়ে। আর মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার কারণে ইচ্ছা থাকলেও প্রতিমায় কোন প্রকার কারু কাজ না করে প্রতিমার পোষাকে আনা হচ্ছে বাহারি ডিজাইনের শাড়ি ও ধুতি পড়ানোর কলা কৌশল। এ পোষাক সাজ্জসজ্জার কাজ করবেন ফ্যাশান হাউজ রঙয়ের  চিফ ডিজাইনার সুমি ও তার সহকর্মীরা।   দুর্গাপূজার আরো সংবাদ পড়তে নিচে ক্লিক করুন    নারায়ণগঞ্জ বলদেব জিউর আখড়া দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, বহুকাল আগে ট্যাপা পুতুল (হাতে কাঁদা মাটি টিপে টিপে যে পুতুল তৈরি করা হয়) ভারতে ট্যাপা পুতুল তৈরি করতো। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নবেরা নামে এক শিল্পী বাংলাদেশে ট্যাপা পুতুল তৈরি করে এবং বাংলাদেশর মানুষ ব্যাপক ভাবে জানতে পারে। তারপর হিরণ নামে এক শিল্পী এ ট্যাপা পুতুলের ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। এসব গুলোর শিল্পীর কারুকাজের থেকে কিছু কিছু অংশ নিয়ে আমরা কর্কশীট দিয়ে টেপা পুতুল তৈরি করেছি। আমাদের ব্যতিক্রম হচ্ছে এ ট্যাপা পুতুলগুলোতে চারজনে মিলে তুলি দিয়ে রঙ করা হয়েছে। রঙ দিতে কোন প্রকার মেশিনের ব্যবহার করা হয়নি। অতীতের ট্যাপা পুতুলের মুখ পরিবর্তন করে আনা হয়েছে দেব দেবীদের মুখ আকৃতি স্বরূপ। যেসকল দেবদেবীদের মুখ আকৃতি আনা হয় ট্যাপা পুতুলে সেই সব দেবদেবীর পূজা বলদেব জিউর আখড়ায় অনুষ্ঠিত হয়।   তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জ বলদেব জিউর আখড়া পূজার আয়োজন সব সময় একটু ব্যতিক্রম করা চেষ্টা করা হয়। তাই দেশীয় সংস্কৃতির সাথে ধর্মীয় সংমিশ্রণের মাধ্যমে নতুন কিছু উপহার দেয়ার চেষ্টায় এ আয়োজন করা হয়েছে। এ কাজটা আসলে ট্যাপা পুতুল বললে ঠিক হবে না কারণ এটা সম্পূর্ণ ট্যাপা পুতুল না। ট্যাপা পুতুলের আধলে তৈরি করা হয়েছে। আমাদের ইচ্ছা থাকলেও মন্দিরের দেবী মায়ের প্রতিমায় কোন কারুকাজ করা সম্ভব হয় না। ভক্তদের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিমা ধর্মীয় নিয়ম নীতি অনুযায়ী করতে হয়। মূলত্য এটা একটি মন্দিরের পূজা। তাই প্রতিমা বিসর্জন করা হয় না। ১২ মাস মায়ের প্রতিমা রাখা হয় এবং পূজা করা হয় এজন্যই আমরা তেমন কিছু করতে পারি না। শুধু প্রতিমার পোষাক পড়ানোর কলা কৌশল পরিবর্তন করা হয়। বিভিন্ন ভাবে শাড়ি পড়ানো হয়। সবগুলো প্রতিমার পোষাক পড়ানো হয়। এ বছর সকলের মাঝে তেমন একটা পূজার আমেজ দেখা যাচ্ছে না। সকলেই নিজ নিজ কাজ নিয়ে অনেক ব্যস্ত। আমাদের পূজা ম-পের ব্যায় ধরা হয়েছে ৭ লাখ টাকা। যার মধ্যে সরকারি অনুদান পেয়েছি ৯ হাজার টাকা। পূজা ব্যায়ের সিংহভাগ টাকা ব্যায় হয় মন্দিরের প্রবেশ দ্বার নির্মাণ করতে। যা নারায়ণগঞ্জের যে কোন পূজা ম-পের থেকে ব্যক্তিক্রম। চিরুকারু শিল্পীদের দিয়ে এ প্রবেশ দ্বার তৈরি করতে হয়। তাই ব্যায়ের পরিমান অনেক বেশি। এছাড়া তেমন কোন আলোকসজ্জা করা হয় না। মন্দিরের পবিত্রা রক্ষা করার জন্যই অনেক কিছু বাদ দিতে হয়।   সাধারণ সম্পাদক প্রদিপ রায় ও কোষাধ্যক্ষ সুব্রত সাহা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, দুর্গাপূজার পূজা অর্চনা, অঞ্জলীদেয়াসহ ৩দিনব্যাপী প্রসাদ বিতরণ করা হবে। সপ্তমী দিন থেকে শুরু করে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন প্রসাদ বিতরণ করা  হবে। নারায়ণগঞ্জে অনেক পূজা ম-প আছে যা পূজা উপলক্ষ্যে তৈরি করা হয় তাই তারা বির্সজন করে ফেলে। বলদেব জিউর আখড়া মন্দির হওয়ার কারণে এবং দেবী দূর্গার আলাদা স্থান থাকায় প্রতিমা বির্সজন করা হয় না। দেবী বিসর্জনের পরিবর্তে সিধুর খেলা হয়। মায়ের আশীর্বাদ স্বরূপ একজন নারী আরেক জন নারীর মাথায় সিধুর দিয়ে দেয়।

বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও