সাতজনকে অপহরণের পর স্প্রে ও পলিথিন মুড়িয়ে কিলিং মিশনের রুহুল ৭ দিনের রিমান্ডে

|| নিউজনারায়ানগঞ্জ২৪.নেট ০১:০১ এএম, ১ জানুয়ারি ২০১৫ বৃহস্পতিবার

সাতজনকে অপহরণের পর স্প্রে ও পলিথিন মুড়িয়ে কিলিং মিশনের রুহুল ৭ দিনের রিমান্ডে
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় অপহরণের পর চেতনানাশক স্প্রে ও পরে পলিথিন মুড়িয়ে শ্বাসরোধ করে কিলিং মিশনে থাকা গ্রেপ্তারকৃত র‌্যাব সদস্য ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম শফিকুল ইসলামের আদালতে এ রিমান্ড শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।   জানা গেছে, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিনকে মঙ্গলবার সকালে পটুয়াখালীর বাউফল থানার সনেশ্বর গ্রাম থেকে পুলিশ ও ডিবির একটি দল গ্রেপ্তার করে। সে সাত খুনের ঘটনার সময়ে নারায়ণগঞ্জে র‌্যাব-১১ তে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি বাড়িতে গিয়ে আর ফিরে আসনি।   বুধবার সকালে সাত খুনের তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে রুহুল আমিনকে আদালতে পাঠায়। শুনানী শেষে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।   নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন জানান, সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার মধ্যে নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলামের দায়ের মামলায় রিমান্ড চেয়ে রুহুল আমিনকে আদালতে পাঠানো হয়। শুনানী শেষে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। এছাড়া সাত খুনের ঘটনায় নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জামাত বিজয় পালের দায়ের করা অপর মামলায় রুহুলকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে।   তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল জানান, ২৭ এপ্রিল দুপুরে সাতজনকে অপহরণের পর তাদের মুখে চেতনানাশক ওষুধ স্প্রে করে অচেতন ও পরে পলিথিন মুড়িয়ে শ্বাসরোধ করার কাজে ছিলেন রুহুল আমিন। ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেওয়া র‌্যাব সদস্যরা এ তথ্য জানিয়েছেন।   চাঞ্চল্যকর এ সেভেন মার্ডারের ঘটনায় এ পর্যন্ত র‌্যাবের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   গত ২৭ এপিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহৃত হন। ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠা ছয়জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ১ মে বাকি একজনের লাশ পাওয়া নদীতে।   অপহরণের পরপরই নজরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। নূর হোসেন ও তার সহযোগীরা র‌্যাবকে ছয় কোটি টাকা দিয়ে নজরুলসহ সাতজনকে হত্যা করিয়েছেন বলে নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন।   তার অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১ এর ওই সময়ের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম এম রানাকে অবসরে পাঠানো হয়। এরপর হাইকোর্টের নির্দেশে র‌্যাবের সাবেক ওই তিন কর্মকর্তা গ্রেফতার হন। হাইকোর্টের নির্দেশের পর গত ৭ মে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার।

বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও