জবাবদিহিতার অভাবে যত অপরাধ

|| নিউজনারায়ানগঞ্জ২৪.নেট ০১:০১ এএম, ১ জানুয়ারি ২০১৫ বৃহস্পতিবার

জবাবদিহিতার অভাবে যত অপরাধ
মাসুমুজ্জামান : ক্রমাগত অপরাধ বৃদ্ধির জন্য খুব বেশি না ভেবেই বলা যায় সমাজ ও রাষ্ট্রে জবাবদিহিতার অভাব বিদ্যমান। তিনটি বিষয়ের জবাব খুঁজলে এবং তদানুযায়ী বিচার করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসতে বাধ্য। কে করেছে, কী কারণে করেছে, কার সহায়তায় করেছে? এসব বিষয়ে খোঁজ নেয়ার কারণ হচ্ছে মাটি উর্বর না হলে ফসল ফলে না। তাই অপরাধ সংগঠনে উর্বরতা সৃষ্টি কর্তারা প্রধান দায়ী।   আমাদের চারিত্রিক প্রথা দাঁড়িয়েছে যেকোনো ঘটনায় কাউকে জড়িয়ে বক্তব্য দেয়া। অথচ যিনি বক্তব্য দিচ্ছেন তিনি ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। দায়িত্বহীন বক্তব্যের কারণে তদন্তকারী পড়ে বিপাকে এবং ভুক্তভোগীরা পায়না বিচার। অনেক নৃশংস ঘটনা দেশে ঘটেছে যার কুলকিনারা আজও হয়নি। চিকিৎসক না হয়ে ওষধ দেয়া যেমন ভয়ংকর তেমনই না জেনে কথা বলা আরও বেশী ক্ষতিকর।   অপরাধ সংগঠণের জন্য তাত্ত্বিকরা প্রায়ই দায়ী করে থাকেন সামাজিক অবক্ষয়কে। এই অবক্ষয়ের জন্য দায়ী কে? উত্তরনের জন্য দায়িত্ব কার? কার অবহেলায় এমনটি হচ্ছে? দায়িত্বহীনদের কী শাস্তি হচ্ছে? রাষ্ট্র ব্যবস্থা কী কারণে? এসবের সদুত্তোর পাওয়া গেলে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব। হঠাত করেই কোন অঘটন ঘটেন। পূর্ব শত্রুতার জের বলেই ঘটনাকে তদন্তের দায়হীন করা যায় না। সমাজে শত্রুতা সৃষ্টি হওয়ার পেছনে অনেক গুলো কারণ কাজ করে। এসব কারণ সৃষ্টির জন্য মূলত দায়ী সামাজিক দায়িত্বহীনতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া।   সামাজিক দায়িত্বহীনতা কিভাবে এলো? স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় গলদ ও রাজনৈতিক প্রভাব ভয়ংকারভাবে এর কাঠামো ভেঙ্গে দিয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও সমাজপতিরা কোনভাবেই সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। অপরাধ নিয়ন্ত্রনে বাড়ছে কেবল পুলিশ নির্ভরতা। তাদের রয়েছে জনবল স্বল্পতা ও সীমাবদ্ধতা। নৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অবক্ষয় অপরাধ সৃষ্টির মূল কারণ। আর্থিক প্রতিযোগিতায় অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন অপরাধ জন্মের আরেক কারণ। যেভাবে যা কিছুই ঘটুক তা তদারকি করার দায়িত্ব সরকার ও রাষ্ট্রের।   জনগণ প্রতিবাদ করলে অপরাধ কমবে এমন ধারনাও প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু কীভাবে করবে প্রতিবাদ? মাদক, ইভটিজিং, ভূমি সন্ত্রাসের প্রতিবাধ করতে গিয়ে অনেকেই খুনের শিকার হয়েছে। তারপরও সাহস করে অনেকেই অপকর্মের প্রতিবাদ করে থাকেন। জীবনের নিরাপত্তা বোধ করেন না তারা। ব্যক্তি উদ্দ্যোগ নিতে পারেন যেকোন অন্যায়ের বিদ্ধে রাষ্ট্র থাকে পাশে।   যেকোন তদন্ত শেষে জানা যায়না অপরাধের নেপথ্যে ছিল কারা? কার দায়িত্বে অবহেলার জন্য ঘটনাটি ঘটেছে? কি কারণে ঘটলো? দেশের দ-বিধিতে কি এসব ব্যক্তিদের শাস্তির ব্যবস্থা নেই? যদি থাকে তাহলে এধরনের অপরাধীরা রক্ষা পায় কোন কারণে? ইংরেজিতে বলছে মাস্টারমাইন্ড। যতদিন এদের শাস্তি দেয়া না যাবে ততদিন খুন,গুম,অপহরণ,মাদক ব্যবসা,জমি দখল সহ সর্ব প্রকার অপরাধ থাকবে অপ্রতিরোধ্য। অপরাধের মদদদাতা বড় অপরাধী। এরা কেন তাহলে শাস্তির বাইরে থাকবে। আমরা চাই নিরাপদ বাসস্থান। ব্যবস্থা করবে সরকার ও রাষ্ট্র। নাগরিক দায়িত্ব পালনে আছি বদ্ধ পরিকর। আইন হোক, আইনের প্রয়োগ হোক কঠোরভাবে। সকলকে আনতে হবে জবাবদিহতার আওতায়। দুর্নীতিবাজদের কাছে মাথা নত করা মানেই দুর্নীতিকে মেনে নেয়া। আর এভাবেই দুর্নীতিবাজরা পায় প্রশ্রয়। যে টাকা মাসিক বেতন পায় তার চেয়ে বেশী মাসিক বাড়ী ভাড়া দেয়। এতে কী প্রমাণ করে? রাষ্ট্রের মালিক হয়ে কর্মচারীর জুলুম সহ্য করি কেমনে? আইনের অপপ্রয়োগকারীর শাস্তি নিশ্চত হলে অন্যায়-অবিচার দূর হবে চিরতরে।   masumuzzamanলেখক: কবি ও সাংবাদিক। [email protected]

বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও