নিজে দগ্ধ হয়েও অন্যদেরকে উদ্ধার করেছিলেন মুয়াজ্জিন

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২০ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার

নিজে দগ্ধ হয়েও অন্যদেরকে উদ্ধার করেছিলেন মুয়াজ্জিন

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা নারায়ণগঞ্জ সহ সারাদেশবাসীর হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। শোকে ভাসছে নারায়ণগঞ্জ সহ পুরো দেশ। ঝড়ে গেছে ২৮টি প্রাণ। আর এমনই এক ভয়াবহ ঘটনার স্বাক্ষী হয়ে রয়েছেন মসজিদের ইমাম আব্দুল মালেকের বড় ছেলে নাঈমুল ইসলাম।

৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে পশ্চিম তল্লা বোমারু মাঠে হতাহত পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে নাঈমুল ইসলাম বলেন, আমি ওইদিন ইশার নামাজ আদায় করে তাড়াতাড়ি করে বাসায় চলে আসি। বাসায় আসার পর শুনি মসজিদে আগুন লেগেছে। তাড়াহুড়ো করে মসজিদের কাছে গিয়ে মসজিদের ভিতরে সবাই আগুনে দগ্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। আমার বাবা দাঁড়ানো অবস্থায় ছিল। কেউ ভয়ে ঢুকছিল না। কারণ মসজিদের ভিতরে বিদ্যুতের লাইন ছিল। আমার সেদিকে কোনো হুঁশ ছিল না।

মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে বাবাকে উদ্ধার করি। কারও শরীরে কাপড় ছিল না। এসময় দেখি মুয়াজ্জিন নিজে দগ্ধ হয়েছেন। অন্যদেরকে বাঁচাতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি তিনি দগ্ধ হয়েছে। তার ছেলে দগ্ধ হয়েছে। কিন্তু তারপরেও তিনি নিজে অন্যদেরকে উদ্ধার করছেন। এভাবে অনেককে উদ্ধার করে পরে তিনি নিজে বের হয়েছেন। পরে অন্যরা এগিয়ে এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এই ছিল এখানকার ঘটনা।

নাঈমুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ। প্রত্যেকেরই শ^াসনালী পুড়ে যায়। এমতাবস্থায় প্রত্যেকেই বলছিলেন অন্যদের কথা। প্রত্যেকেই বলছিলেন আমার তেমন কিছু হয়নি ওদের বাঁচান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কেউই বাঁচলেন না। আল্লাহ তাদেরকে নিয়ে গেছেন। আমরা সকলেই তাদের জন্য দোয়া করবেন।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও