দুইজনের মৃত্যুর আগে কিশোর গ্যাংয়ের ভিডিও প্রকাশ (ভিডিও)

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:২২ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ বুধবার

দুইজনের মৃত্যুর আগে কিশোর গ্যাংয়ের ভিডিও প্রকাশ (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ বন্দরের আলোচিত দুই শিক্ষার্থী হত্যাকান্ডের ঘটনার আগের সেখানে কিশোর গ্যাংদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে। এতে দেখা গেছে একদল কিশোর কিছু সময় পর পর হাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে।

বন্দরের ইস্পানী এলাকার কয়েকটি সড়কের গলিতে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা হতে এ ভিডিও সংগ্রহ করা হয়। স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন এটা ১০ আগস্টের ধারণা করা চিত্র।

জানা গেছে, ১০ জনের মধ্যে ছিল বড় শামীম, ছোট শামীম, শাকিল, শাওন, নাহিদ, বাবু, রনি, সুমন। তারাই মূলত একটি বড় গ্রুপকে নিয়ন্ত্রন করে। তাদের মধ্যে সকাল থেকে উত্তেজনা ছিল। দফায় দফায় তারা ইস্পানী ও পাশের খাদ্য গুদাম এলাকার বাইরে মহড়া দেয়। ইস্পানী ঘাট থেকে খাদ্য গুদাম (সিএসডি) একটি খাল পার হতে হয়।

বিকেলে আবারো ইস্পাহানী ঘাট এলাকায় বিকেলে স্থানীয় শামীম ও শাকিল নামের দুই কিশোর দলের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। বিকেল ৪ টার দিকে প্রিন্স প্রথম দফায় সংঘর্ষের ঘটনা না জেনে সেখানে হাজির হয়। সঙ্গে ছিল জিসান ও মিহাদ। সেসময় আরেক কিশোর গ্যাং লিডার সুমন বাহিনী সেখানে প্রবেশ করে। তখন সুমন, শামীম ও শাকিল এ তিনবাহিনীর গ্যাং স্টারদের মধ্যে ত্রিমুখী হাতাহাতি শুরু হয়। জিসান ও মিহাদ দখন পালানোর জন্য ইস্পানী ঘাট ও সিএসডি গুদামের মাঝে থাকা খালের মধ্যে থাকা নৌকায় উঠে। সেই নৌকা থেকে সরু ও গভীর খালে ঝাঁপ দেয়। সবার শেষে ঝাঁপ দেয় প্রিন্স। পরে ডুবুডুবু অবস্থায় সিড়ির কাছে পৌঁছতেই প্রিন্সের হাতে গ্যাসের পাইপ দিয়ে আঘাত করে ওই তিন কিশোর গ্যাংয়ের লোকজন। এরপর প্রিন্সকে উপরে তুলে প্রথমে মাথায় একাধিকবার আঘাত করে এতে তার মাথা ফেটে রক্ত পড়ে। পরে বাশ ও লাঠিসোঠা দিয়ে এ্যালেপাথারিভাবে তাকে পিটুনি দেয়। এর তাকে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে যায়। সেখান থেকে আকিজ সিমেন্টের সামনের একটি ক্লাবে নিয়ে বসানো হয়। সেখান থেকে তার বাবাকে খবর দেয়া হলে তার হাতে তুলে দেয়া হয়। তবে জিসান ও মিহাদ তীরে উঠতে পারেনি। রাতে নদীতে জেলে দিয়ে জাল ফেলে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে উদ্ধার হয় নিখোঁজ জিসান ও মিহাদের নিথর দেহ।

১০ আগস্ট বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে বন্দরের ইস্পাহানী ঘাট এলাকার বিকেলে কাজিমউদ্দিনের ছেলে জিসান (১৫) ও নাজিমউদ্দিন খানের ছেলে মিনহাজুল ইসলাম মিহাদ (১৮) নিখোঁজ হয়। রাতেই তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। রাতেই নিহত জিসানের বাবা বন্দর প্রেস ক্লাবের সাবেক সেক্রেটারী কাজিমউদ্দিন বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত ৬ আসামী সহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৮ জনকে আসামী করে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার এজাহারভুক্ত ৬ জন হলো আলভি (২০), মোকতার হোসেন (৫৭), আহমদ আলী (৪৫), কাশেম (২০), আনোয়ার হোসেন (৪৫), শিপলু (২৩)।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও