জোর করে ঢুকে যাবো : আইভী

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৫ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ বুধবার

জোর করে ঢুকে যাবো : আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, আমাদের সিটি করপোরেশন এরিয়ায় প্রায় ৩৪টি কবরস্থান ও ৪টি শ্মশান আছে। সবগুলো শ্মশান ও কবরস্থানে কাজ চলমান আছে। এছাড়া আমরা সিটি এরিয়ার বাইরেও আমরা কবরস্থানের কাজ করেছি। আমি প্রচুর লাইট লাগিয়েছি। এক সময় কবরস্থান ও শ্মশানগুলো দেখার কেউ ছিল না। যার জন্য ভয়ে কেউ আসতো না। যখন আমি লাইট লাগানোর জন্য পিডি মহোদয়কে বলি তখন তিনি বলেন শ্মশান কবরে লাইট দিয়ে কি হবে। তখন আমি বলেছিলাম আলোকিত মানুষদের আলোকিত করে রাখবো বলেই লাইট দিব। পরে তিনি সেই লাইট দিতে দ্বিমত করেননি। যার ফলে এখন ধর্মীয় স্থানগুলো দর্শনীয় স্থান হয়ে গেছে।

৯ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে শহরের মাসদাইর এলাকায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে ‘অন্নপূর্ণা ভবন’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শ্মশানের জায়গা উদ্ধার করা হবে
শ্মশানের জায়গা উদ্ধারের বিষয়ে আইভী বলেন,‘এ জায়গা নিয়ে একটি মামলা করতে হবে। এছাড়া হাইকোর্টের সমস্যাও দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। এ সমস্যা হয়েছে মেননদের সঙ্গে। তাদের বলেছি আমাদের জায়গা আমাদের দিয়ে দাও আমরা তোমাদের জায়গায় যাবো না।’

মন্দির মসজিদের জায়গা বিক্রি করতে পারবে না
কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে মেয়র আইভী বলেন, ‘মেনন যে কবরস্থান দিয়েছে সেটাও আমাদের আওতায় আসা উচিত। কারণ অনেকেই মেননের জায়গা বিক্রি করে দিচ্ছে। আগের যেমন পুরোহিতরা জায়গা বিক্রি করে দিতো। পুরোহিতদের দায়িত্ব দেয়া থাকতো। অনেকেই সেই ক্ষমতা বলে অনেক জায়গা সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছে। সেই জায়গা আর কখনো উদ্ধার করা যাবে না। আমরা এখন থেকে চাই না মসজিদ মন্দিরের জায়গা কোন পুরোহিত বা কেউ বিক্রি করুক। যেই বিক্রি করবে সেখানেই সিটি করপোরেশন গিয়ে বাধা দিবে। আর সেই জায়গায় সিটি করপোরেশন নিজ দায়িত্বে কাজ করে দিবে। কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জায়গা, যতবড় পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়া থাকুক না কেন কেউ বিক্রি করতে পারবে না। কেউ যদি দেখেন বিক্রি করে তাহলে আপনাদের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন আছে। সিটি করপোরেশন সমস্ত কিছুর দায় দায়িত্ব নিয়ে করে দিবে।

‘শ্মশান কমিটিতে পদের বলে থাকবেন মেয়র ও কাউন্সিলর’
শ্মশান কমিটির নেতাদের উদ্দেশ্যে মেয়র আইভী বলেন, ‘আপনারা শ্মশানে কোন আলাদা করে উন্নয়ন করবেন না। তার চেয়ে বরং আমাদের সঙ্গে আলাপ করে করা হলে আমরা প্রকৌশলী দিয়ে সুন্দরভাবে সাজিয়ে করে দিবো। এর খরচ কিংবা অন্যান সব কিছু আপনাদেরই থাকবে। শুধু পরিবেশটা সুন্দর হবে। মনে রাখতে হবে এগুলোর মালিক সিটি করপোরেশন। আমি মেয়র থাকি কিংবার অন্য কেউ মেয়র আসুক। তিনিই পদের বলে কমিটিতে থাকবেন। এছাড়াও সিটি করপোরেশনের দুইজন কাউন্সিলর, দুইজন ইউনিয়নের মেম্বাররা থাকার পরে আপনার অন্যদের নাম দিবেন। কে কি ভাইয়ের লোক না বোনের লোক এগুলো আমি দেখবো না। সবাই একত্রি হয়েই কমিটি দিবেন। কারণ এখানে আমার হস্তক্ষেপ থাকবে।’

‘আমি সবার কথা শুনি, কিন্তু...’
মন্দির মসজিদ নয় শুধু মাঠ, খাল সব কিছুর উন্নয়ন করা হচ্ছে। আমি সবার কথা শুনি। যদি সেটা সঠিক হয়। অন্যথায় কোন কিছু বলেই আমাকে শোনাতে পারবেন না।

সাধু নাগ মহাশয় মন্দিরকে দর্শনীয় স্থান করা হবে
মেয়র আইভী বলেন,‘আপনারা সবাই মিলে সাধু নাগ মহাশয়ের মন্দির সিটি করপোরেশনকে দেন। আমি কথা দিচ্ছি দর্শনীয় স্থান বানিয়ে দিবো। কেন এটা অন্ধকারে পরে থাকবে। যার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের টান নেই, নারায়ণগঞ্জের প্রতি মহোব্বত নেই , যে এ করোনার সময় এখানে একটা বাতি জ্বালানোর মানুষ নেই। আমি ফোন করে সেখানে বাতির ব্যবস্থা করিয়েছি।

‘২৪ ঘণ্টা আল্লাহর নাম থাকতে হবে’
আইভী বলেন, যেখানে বাতি জ্বালানোর কেউ নেই সেটা আমাকে দেন। আমার কোন সমস্যা নেই। আমি মুসলমান। আমি বিশ্বাস করি সৃষ্টিকর্তা এক ও অদ্বিতীয়। ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি বহুরূপে বহু জায়গায় বিরাজমান। ধর্ম বর্ন নির্বিশেষ আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেছেন আমি বৈচিত্র পছন্দ করি। ২৪ ঘণ্টা আল্লাহর নাম থাকতে হবে, জপ থাকতে হবে, যে আকারেই হোক। সুতরাং আমি আপনে পার্থক্য করার কেউ না ধর্মীয় ভাবে।

তিনি আরো বলেন, ‘যেখানে একটা বাতি জ্বালানোর কেউ থাকবে না তাহলে আপনারা কেন দায়িত্ব নিবেন, আপনারা কেমন নেতা। কেমন পুরোহিত। বাতি জ্বালানোর লোক না থাকে। সন্ধ্যায় যদি বাতিই না জ্বলে তাহলে কেন দায়িত্ব নিবেন। আপনারা যদি আমাকে না দেন তাহলে আমি জোর করে সেখানে ঢুকে যাবো।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাসের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু, ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি নিরঞ্জন সাহা, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পরিতোষ সাহা, সদস্য রনজিৎ মোদক, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি শংকর সাহা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের মহানগরের সভাপতি লিটন পাল প্রমুখ।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও