শকু খোরশেদের চোখে আইভী সাহসী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৮ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ বুধবার

শকু খোরশেদের চোখে আইভী সাহসী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু বলেছেন, ‘২০০৩/০৪ এ যখন আমরা দায়িত্ব নিলাম তখন শ্মশানের অবস্থা অনেকটা (যদি ফিরে দেখি) উন্নয়ন হয়েছে। এটা মেয়র মহোদয়ের কারণেই সম্ভব হয়েছে। ওনার সাহসীকতার জন্য অবৈধ দখল করে থাকা জায়গাগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সীমনা দেওয়াল করে দেওয়া হয়েছে। এখানে সামনে যে চুল্লী চলছে সেটাও মেয়রের অবদান। আজকে ওনি এখানে তিন তলা ভবন উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন।’

৯ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে শহরের মাসদাইর এলাকায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে ‘অন্নপূর্ণা ভবন’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ আর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী।

শকু বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে এটা বিরল একটি দৃষ্টান্ত যে, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এবং আমাদের মুসলিমদের কবরস্থান পাশাপাশি। যেটা আর কোথাও নেই। এটা একটা সুন্দর অবস্থান। ওনি যে শুধু শ্মশানের উন্নয়ন করেন নাই আমাদের কবরস্থানের আমূল পরিবর্তন করেছেন এরজন্য ধন্যবাদ জানাই। এটা সুন্দর মসজিদ উপহার দিয়েছে, সুন্দর রাস্তা, আলোকবাতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যও আলাদা স্থান রেখেছেন। এসবের জন্য আপনাকে সেলুট জানাই আমার ওয়ার্ডবাসীর পক্ষ থেকে। আপনি আপনার এ কাজ চালিয়ে যান জনগন অতন্ত সন্তুষ্ট।

তিনি আরো বলেন,‘এ করোনা মহামারীর সময় আমাদের মেয়র মহোদয় আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমরা ঘরে বসে ছিলাম। ওনি কিন্তু আমাদের নামিয়েছেন। এখন নামার সময়, এখন মানব সেবার সময়, এখন ভয় পাওয়ার কিছু নাই। এখন একটা সুযোগ পেয়েছো, সুযোগটা কাজে লাগাও। আমরা আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্যই কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, ‘২০০৩ সালে পৌরসভা নির্বাচনের আগে কবরস্থান ও শ্মশান মানুষের ভয়ভীতির কারণ ছিল। অনেকের মনে ছিল কবরস্থান শ্মশানে গেলে সুস্থ ভাবে ফিরে আসা অসম্ভব। আমরা প্রথম নির্বাচিত হওয়ার পর দেখেছি এখানে শব যাত্রীরা আসলে তাদের ঘড়ি, মোবাইল মানিব্যাগ সহ মূল্যবান কিছু থাকতো না। তখন নারায়ণগঞ্জের কোথাও বাংলা মদ ও গাঁজা পাওয়া না গেলেও এ শ্মশানে পাওয়া যেতো। আমরা নির্বাচিত হওয়ার পরই মেয়র আমাকে এখানে কাজ করার জন্য সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আমার মনে হয়, যদিও এটা একটি ধর্মীয় স্থান কিন্তু আজকে এখানে দর্শনীয় স্থানে পরিনত হয়েছে। মাদক থেকে ছিনতাইকারী কবরস্থান ও শ্মশান থেকে মুক্ত হয়েছে। আমরা জানা নেই বাংলাদেশের আর কোথাও এমন আছে কিনা যে, আর কোথাও এমন সুন্দর শ্মশান ও কবরস্থান আছে কিনা।

তিনি বলেন, জায়গার বিষয়ে একটা ভুল করা হয়েছে। মেয়র মহোদয় প্রথম দিন থেকেই জায়গার বিষয়ে চেষ্টা করছিলেন কিন্তু আপনাদের কারণে জায়গা আজ এ অবস্থা। তাই আপনারা কমিটির গ্রুপিং বাদ দিয়ে যদি সিটি করপোরেশনকে একক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ দেয়া হয় তাহলে দ্রুত সমাধান হবে।ইতোমধ্যে মেয়র মহোদয়ের মাধ্যমে এখানের দুটি গ্রুপের লোকজনের সঙ্গে সমাধান হয়েছে। গুটি কয়েকজনের জন্য আজও পর্যন্ত জায়গাগুলো নেয়া হয়নি। অতিতি ভবিষ্যতে হয়তো আমরা থাকবো না কিন্তু যেহারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে শ্মশান কবরস্থানের জন্য জায়গা বাড়ানো দরকার। তাই সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব দিলে আমরা সেটা সমাধান করতে পারবো।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাসের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি নিরঞ্জন সাহা, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পরিতোষ সাহা, সদস্য রনজিৎ মোদক, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি শংকর সাহা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের মহানগরের সভাপতি লিটন পাল প্রমুখ।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও