দুই পক্ষকেই দোষারোপ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫১ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার

দুই পক্ষকেই দোষারোপ

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লা এলাকায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদের বিস্ফোরণের ঘটনায় মসজিদ কমিটি ও তিতাস উভয়কেই দায়ী করছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, মসজিদ কমিটি যেমন তিতাসের পাইপের উপরে মসজিদ করে অন্যায় করেছে তেমনি তিতাসও বিষয়টি বিগত দিনে তদন্ত করে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়েছে।

নিহতের স্বজনদের মতে, মসজিদ কমিটি দোষ করেছে মুসল্লিদের কাছে। কারণ তারা মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। ৩১ টি প্রাণতো আর ফিরে আসবেনা। মৃতের আত্মারাও তিতাস গ্যাস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিশাপ দিবে। ওদের জীবনযাত্রায় নেমে আসবে দুঃসহ যন্ত্রণা। কত মায়ের বুক ওরা খালি করেছে। মসজিদ কমিটি দোষী। তবে পুরো দায়ভার তিতাসের। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। যাতে ঘুষের জন্য এমন অঘটন না ঘটে।

ব্রিফিংয়ে তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পরিকল্পনা আবদুল ওহাব বলেন, মসজিদের উত্তর পাশে বর্ধিত করা হয়েছে। সেখানে ফাউন্ডেশন দেওয়ার সময়ে মসজিদের চার নাম্বার কলাম স্থাপনের সময়ে নিচে আমাদের পাইপ লাইন ছিল। ফাউন্ডেশনের কলাম বসাতে গিয়ে পাইপ লাইনের র‌্যাপিং নষ্ট করে ফেলে। এ র‌্যাপিং নষ্ট করার কারণে গ্যাসের পাইন মাটির সঙ্গে সংস্পর্শে এসে ছিদ্র হয়েছে। সে কারণেই পরে লিকেজ করে ছড়িয়েছে। ওই একটি কলামের ফাউন্ডেশনের নিচেই লিকেজগুলো পাওয়া গেছে। অন্য কোথাও কোন সমস্যা নাই। সে স্থানে লিকেজ বন্ধ করার পরে আর মসজিদের ভেতরে কোন গ্যাস পাওয়া যায়নি। এতেই প্রতীয়মান হয় একটি কলাম বাড়ানোর সময়ে ফাউন্ডেশন দিতে গিয়ে নিচে থাকা গ্যাসের পাইপের র‌্যাপিং নষ্ট করে ফেলে।

তিনি আরো জানান, বুধবার সন্ধ্যায় খোঁড়াখুঁড়ির পরে পুরো মসজিদের ভেতরে পানি দিয়ে ভরে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে কোন গ্যাস পাওয়া যায়নি। এখন পরীক্ষা করে দেখা হবে কিভাবে গ্যাস মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করেছ।

তিনি বলেন, মসজিদ করার সময়ে ইউনিয়ন, পরিষদ, সিটি করপোরেশন কিংবা রাজউকের কোন অনুমোদন নাই। বিদ্যুতের দুটি লাইন আছে মসজিদে। একটি বৈধ আরেকটি অবৈধ। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময়ে আরেকটি লাইন পরিবর্তন করার সময়ে স্পার্ক করেই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

সার্বিক ঘটনা প্রবাহে নারায়ণগঞ্জের সকলের কাছে এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে যে, ঘটনার জন্য মসজিদ কমিটি দোষী। আর দুর্ঘটনার পুরো দায়ভার বর্তায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর। এর ব্যাখ্যা এখন ঘরে ঘরে সাধারণ মানুষ জানে। সবার জানা হয়ে গেছে।

তল্লাবাসী ও নিহতের স্বজনরা তিতাস কর্মকর্তার বক্তব্যকে গ্রহণ করতে রাজি নয়। তারা বলছেন, প্রথমত মসজিদ কমিটি দোষী। কারণ তাদের দাবী তারা ঘুষ দিয়েও সমস্যার সমাধান করেননি। যেকোন ভাবেই তাদের উচিৎ ছিল গ্যাস পাইপ লিকেজের ঝামেলা দূর করা। এটা করলে এতবড় দুর্ঘটনা ঘটতোনা এবং এত প্রাণহানি হতোনা। মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ হয়তো ঘুষের টাকাটা যোগাড় করতে পারেনি। যার দরুন নিরীহ মানুষের প্রাণ গেল। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ কিভাবে দায় এড়াবেন। তারা সরকারি চাকরি করেন। কিন্তু জনগণকে সেবা দিতে চান না। অফিসে কাজের জন্য গেলে মোটা অংকের ঘুষ দাবি করে। ঘুষ না দিলে কাজ হয়না। সরকারি বেতন নিয়েও তারা ঘুষের আশায় বসে থাকেন। তল্লায় মসজিদ ট্রাজেডি এর জ্বলন্ত উদাহরন। মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি অভিযোগ করেছিলেন। সেক্রেটারিও এই দূর্ঘটনায় প্রাণ হারান। যিনি ছিলেন তিতাস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ দাবি করার রাজসাক্ষী।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও