মারা গেলেন সেক্রেটারী, ফাঁসছেন সভাপতি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫২ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার

মারা গেলেন সেক্রেটারী, ফাঁসছেন সভাপতি

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩১জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বাকি ৫ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা শেখ হাসিনা মেডিকেল বার্ণ ইন্সটিটিউটে ভর্তি আছেন। তবে এই বিষ্ফোরণের ঘটনার নেপথ্যে গ্যাস লিকেজের কারণ বেরিয়ে এসেছে। এতে তিতাস গ্যাস, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এবং মসজিদ কমিটি - সব পক্ষেরই দায় রয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত। যেকারণে মসজিদ কমিটিও ফেঁসে যাচ্ছে। তবে ওই বিষ্ফোরণের ঘটনায় মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী হান্নান সাউদ মৃত্যুবরণ করায় সভাপতি আব্দুল গফুর ফেঁসে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মসজিদ কমিটির সভাপতি হয়ে দায়িত্বহীনের মত কাজ করেছেন আব্দুল গফুর। তিনি তিতাস গ্যাসের লিকেজ সারাতে কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ না করে সেক্রেটারীকে দিয়ে শুধুমাত্র মৌখিক অভিযোগ দিয়ে দায়সারা কাজ করেছেন। তাছাড়া তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের যখন অভিযোগ দেয়া হয় তখন তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন না। এতে করে সেক্রেটারীর অনুপস্থিতিতে সকল দায়ভার সভাপতির উপর বর্তাবে।

এদিকে মসজিদে বিস্ফোরণে যে ৩৭ জন দগ্ধ হয়েছেন তাদের প্রত্যেকের পরিবারকে এখই পাঁচ লাখ টাকা করে দিতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দগ্ধ হান্নান সাউদ মিয়া ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ণ ইন্সিটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওই দিন সন্ধ্যায় তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদের বিষ্ফোরণের ঘটনায় মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল গফুর মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের কর্মকর্তারা। মসজিদের সভাপতি আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আমাকে আসতে বলেছিল। আমরা ৪ জন এসেছি। এখন তারা একটা ফর্ম তৈরি করেছে। যেমন তিতাস গ্যাসের কারো সাথে আপনি কি যোগাযোগ করেছেন। তো আমিতো যোগাযোগ করিনি। তখন আমাকে লিখতে বলা হয়, ‘আপনি যোগাযোগ করেন নাই।’ যোগাযোগ করছে তো সেক্রেটারী। তারা বলে আপনি যেগুলো যেগুলো করেন নাই সেগুলো লিখেন। সেক্রেটারী যোগাযোগ করছে না করছে সেগুলো আপনার দরকার নাই। প্রায় ১০-১১ টা ঘর তৈরি করছে। এই ঘরগুলো ফিলাপ করাইছে। পূর্বে আপনাদের যে বক্তব্য দিয়েছি এখানেও সেই বক্তব্য দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমি যখন তাদের বললাম আমি না আসলেও সেক্রেটারী আসতে তখন তারা বলেন, আপনি আসেন নাই এবং লিখিত কোন অভিযোগ দেন নাই, দিয়েছেন ? এটা লিখেন। সেক্রেটারী বা অন্য কেউ আসছে কিনা সেটা দেখার বিষয় না আপনে আসছেন কিনা সেটা লিখেন-এমনটাই বলেছেন গ্যাস কর্মকর্তারা। আমি তিতাস গ্যাস অফিসে আসি নাই কমিটির সেক্রেটারী আসছে। সে কার সাথে কথা বলেছে কন্ট্রাকটার নাকি কোন অফিসারের সাথে কথা বলেছে আমি জানিনা। তিনি শুধু বলেছিল অফিসের লোকজনের সাথে কথা বলেছি। তারা ৫০ হাজার টাকা চায়। এই টাকা দিলে কাজ করবে। তখন আমরা এই টাকা ম্যানেজ করতে পারি নাই। ফান্ডে এতো টাকা ছিলনা।

বিষ্ফোরণের পরে ঘুষের বিষয় উল্লেখ করে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল গফুর মিয়া জানান, কয়েকদিন আগেও আমাদের একজন লোক সাঈদ সাহেব তিতাসকে গিয়ে লিকেজের কথা জানায়। তখন তিতাস থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করা হয়। কিন্ত টাকা যোগাড় করা যায়নি। ফলে আমাদের এত হতাহতের ঘটনা ঘটলো।

বাইতুস সালাত জামে মসজিদ কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আল আমিন বলেন, ‘আমরা কমিটির সদস্য হলেও মসজিদের বড় বড় সব উন্নয়ন করেন সভাপতি সেক্রেটারী মিলেই। অনেক সময় এ বিষয়ে আমাদের অবহিত করা হয় না। কারণ মসজিদের ফান্ডও তারাই দেখাশোনা করে। সভাপতি সেক্রেটারী স্থানীয় হওয়ায় তারা এলাকায় বিচার আচার করে প্রভাব বিস্তার করে। আমরা কমিটির সদস্য হলেও এগুলো নিয়ে ঝগড়া হবে যার জন্য আমরা কখনো কিছু বলিনি। এখন যখন দুর্ঘটনা ঘটছে তখনই আমরা জানতে পারছি যে সেক্রেটারী তিতাসকে জানিয়েছে। তার আগে আমাদের সঙ্গে কোন কথা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুদি দোকানদার বলেন, ‘উপদেষ্টা সহ ৫১ সদস্যের মসজিদ কমিটি হলেও কাজ করেন সেক্রেটারী মো. হান্নান সাউদ। এসব নিয়ে সেক্রেটারী ও সভাপতির মধ্যে মনোমালিন্য আছে। কারণ প্রায় ৬ বছর ধরে নতুন কোন কমিটি হয় না।’

সূত্র বলছে, কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারী সব ধরণের উন্নয়নের কাজ করে থাকে। যেকারণে এই অজুহাত দেখিয়ে কমিটিতে থাকা বাকি পদধারী ও সদস্যরা অনায়াসে এই দায় এড়িয়ে যাবে। আর তাতে করে সব দায় সভাপতি আব্দুল গফুরের উপরে আসবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও