‘মা বাবাহীন’ শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চাইলেন মেয়র আইভী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪৯ পিএম, ৫ অক্টোবর ২০২০ সোমবার

‘মা বাবাহীন’ শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চাইলেন মেয়র আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘আমি অনুরোধ করব আমাদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পুলিশ দেওয়া হোক। আমরা বেতন দিব। অন্তত ২০০ বা ১০০ পুলিশ আমাদের হস্তান্তর করা হোক। আমরা তাঁদেকে বেতন দিব এবং আমরা যেভাবে বলব শহরটাকে তাঁরা সেভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, সহযোগীতা করবে। এর বাইরে আর কিছু দেখছি না। নারায়ণগঞ্জতো একেবারে নিশ্চুপ হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে শহরের কোনো মা বাপ নাই।’

৫ অক্টোবর সোমবার বিকেলে গঞ্জে আলী খালের সৌন্দর্য বর্ধণের জন্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেছেন।

এসময় তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন আমাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। আমাদরে পুলিশ নাই ম্যাজিস্ট্রেট নাই। রাস্তায় বের হলে মাইর খেতে হয়। এই ভাবে এক সময় আমরা চলতেও পারব না। এটার একটা সুরাহা হওয়া উচিৎ।’

মেয়র আইভী বলেন, ‘এখন শহরে অটোরিকশা ঢুকছে আমরাও একটু ছাড় দিচ্ছি। কারণ কোভিড-১৯ এর জন্য। আপনারা জানেন যে প্রায় ৫ থেকে ৬ মাস অতিবাহিত হচ্ছে। অনেকে কাজকর্ম ঠিক মত করতে পারছে না। কিন্তু এখন অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত যেহেতু হয়ে যাচ্ছে আমরা গতকালকেই এগুলো ধরার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘অটো যেমন বেড়েছে তেমিন অবৈধ স্ট্যান্ডের সংখ্যাও বেড়েছে। আমরা কিন্তু কয়েকবার পুলিশ সুপারের কাছে চিটি দিয়েছি অবৈধ স্ট্যান্ডের ব্যাপারে, অবৈধ গাড়ির ব্যাপারে। রিকশা আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। ধরলাম আর ভেঙ্গে ফেললাম। কিন্তু এগুলো গরিব মানুষের জিনিস। এছাড়া বাস লেগুনা সিএনজি এগুলো কে নিয়ন্ত্রণ করবে? এগুলো তো আমি লাইসেন্স দেই না। সেই ব্যাপারেও আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা উচিৎ। আমি তো মনে করি নারায়ণগঞ্জ শহরটা এখন বাস এবং ট্রাকের নগরী হয়ে গিয়েছে। মানুষের হাঁটার পথ নাই।

তিনি আরো বলেন, ‘চাষাঢ়াতে সড়কের উপর যে বাঁশটি দেওয়া হয়েছিল ওইটা কে সরিয়েছে বলতে পারব না। সেটা ট্রাফিক তত্ত্বাবধায়ন করতো। ট্রাফিক বলতে পারকে কেন তাঁরা ট্রাফিক উঠিয়ে দিল। আমাদের কাছে যখন যে ধরণের সহযোগীতা চায় ট্রাফিক কিংবা পুলিশ। আমরা কিন্তু সেই সহযোগীতা সবাইকে করে থাকি। অবৈধ স্ট্যান্ডগুলোর দায় দায়িত্ব হলো ট্রাফিকের।’

তিনি আরো বলেন, ‘হাঁটার জন্য যুদ্ধ করেছি মৃত্যু হতে পারতো সেদিন। আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনাদের দোয়ায় বেঁচে গিয়েছি। এখনো যে আমি আসলাম বঙ্গবন্ধু সড়ক দিয়ে। দেখে মনটা ভীষণ ভীষণ খারাপ হয়। দুইপাশে যে ভাবে মানুষের হাঁটার অধিকার কেঁড়ে নিয়ে হকার বসেছে। একই ভাবে দুইপাশে সিএনজি অটো লেগুনা বিভিন্ন ধরণের স্ট্যান্ড। চাষাঢ়া, মেট্রো সিনেমা হলসহ সব জায়গায়। আমার মনে হয় এই জায়গায় আমরা অনেক বার মিটিং করেছি ডিসি অফিসন এসপি অফিস। কিন্তু কয়েকদিন কাজ চালু থাকে এরপর আবার ভেস্তে যায়।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু, ১০, ১১ ও ১২নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর মিনোয়ারা বেগম, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সামসুজ্জামান ভাসানী প্রমুখ।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও