প্রতিবাদী মুনা আর একা নয়

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০১ পিএম, ৬ অক্টোবর ২০২০ মঙ্গলবার

প্রতিবাদী মুনা আর একা নয়

শিক্ষার্থী ফারহানা মানিক মুনা নারায়ণগঞ্জ শহীদ মিনারে যে একক ধর্ষণবিরোধী অবস্থান কর্মসূচী শুরু করেছিলেন তা শেষ পর্যন্ত আর একক রয়নি। ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ৯ টা থেকে সন্ধা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দিনের মতো আয়োজিত হলো শিক্ষার্থী ফারহানা মানিক মুনার কর্মসূচী।

কেউ পাশে থাকুক আর না থাকুক, অন্যায়ের প্রতিবাদে আগের দিন একাই শহীদ মিনারে সকাল-সন্ধ্যা ধর্ষণবিরোধী এ পদক্ষেপ নেয় সরকারী তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী মুনা। তখন তিনি ভাবেননি সকল জড়তা কাটিয়ে কেউ এমনি এমনি তার পাশে এসে বসবে। তবুও মনে কিঞ্চিৎ আশা ছিল যে, শেষ অব্দি সকলেই ধর্ষণবিরোধী সুস্থ্য সমাজ চায় বিধায় মানুষ তার পদক্ষেপে সংহতি জানাবে।

আর সেই আশা হলোও সত্যি। মুনার এ অবস্থান কর্মসূচীতে প্রথম সংহতি জানিয়ে পাশে ছিলেন তার বড় বোন ফারজানা। ধীরে ধীরে শহরের সকল সাধারণ মানুষ তার পাশে এসে বসলেন। হয়তো তা স্বল্প সময়ের জন্য, তবুও বসলেন। ছোট কন্যা সন্তানের নিরাপত্তার দাবিতে তার হাত ধরেই অংশগ্রহন করলেন এক মা। মুনার সাথে বসার জন্য মেয়েকে পৌছে দিয়ে গেলেন বাবা। আবার একজন স্বামী তার স্ত্রীকে ফোন করে ডেকে আনলেন মুনার সাথে নিজের নিরাপত্তা ও অধিকারের দাবিতে বসতে। আরও ছিল শিল্পী কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, আইনজীবি, সাধারণ নারীরা।

এদিন বিকাল সাড়ে ৫টায় ‘নারায়ণগঞ্জ নারী উদ্যোক্তা সংগঠন’র ডাকে মুনার সাথে সংহতি জানাতে মুখে কালো কাপড় বেঁধে উপস্থিত হন ২৫ থেকে ৩০ জন নারী।

দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচী শেষে ফারহানা মানিক মুনা বলেন, ‘আমি একক অবস্থান কর্মসূচী শুরু করলেও তা আদোতে আমার একক কর্মসূচী ছিল না। আমি জানতাম যে আমার যে দাবি, যে চাওয়া তা আমার একার নয়। এ দাবি, এ চাওয়া, ক্ষোভ, অভিযোগ সবার। নিজে উপস্থিত থেকে আমার পাশে কেউ না দাঁড়ালেও মানসিক ভাবে সকলেই আমার পাশে থাকবে। তার ফলাফল হিসেবে আমি দেখি যে আমাকে একাও বসতে হচ্ছে না।’

সে আরও বলেন, ‘আমরা ছোট বেলায় দেখেছি ক্লাসে পড়া বলতে যখন দাঁড়াতে বলা হতো, তখন কেউ দাঁড়াতো না। কিন্তু একজন শিক্ষার্থী যখন সাহস করে দাড়িয়ে যেত, তখন পরপর সকল শিক্ষার্থী দাড়িয়ে যেত। আমার এই কর্মসূচীতেও আমি তাই লক্ষ এবং উপলব্ধি করছি।’

মুনার সাথে শুরু থেকেই নিজের কন্যা সন্তানকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন পপী রানী দাস। তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকের প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি চাই আমার মেয়ে ছোট থেকেই এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানুক। সে জানুক তার নিরাপত্তার অধিকার সম্পর্কে। সে জানুক যে এই সমাজে সে কতটা অনিরাপদ। যেখানে একটি ২ বছরের শিশুও নিরাপদ নয়, সেখানে আমি কি করে আশা করি যে আমার ১২ বছরের মেয়ে নিরাপদ? আজকের এই অবস্থান কর্মসূচী তার জন্যও।’

শিল্পি অমল আকাশ বলেন, ‘আজ যে সকল ছেলেদের আমরা ধর্ষণের সাথে জড়িত দেখি, তারা সকলেই অনুর্ধ্ব ২৫ বা ৩০ বছর বয়সী। বর্তমান সরকার ১ যুগ ধরে ক্ষমতায় আছে। এই সরকার ক্ষমতায় আসার সময় এই ছেলেগুলো বয়স ছিল অত্যন্ত কম। ধর্ষণের মতো বিষয় তাদের তখনও বোঝার ক্ষমতা হয়নি। তাদের মনস্তাত্বিক বিষয়ে এই ধর্ষণের বিষয়টি এসেছে এই সরকার আমলে। ফলে এই সরকারকে বর্তমান পরিস্থিতির সকল দায় নিতে হবে।’

নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইন্সটিটিউটের শিক্ষিকা সুমনা বলেন, ‘আমরা ভয় পেয়ে চুপ থাকলে আর হবে না। আমাদের চিৎকার করে সকলকে সজাগ করতে হবে। আসুন এক সাথে চিৎকার করে সকলকে সজাগ করি।’


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও