আইভীর বক্তব্যের পরেই রাইফেল ক্লাবের সামনের স্ট্যান্ড সরলো

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০২:৪৪ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০২০ বুধবার

আইভীর বক্তব্যের পরেই রাইফেল ক্লাবের সামনের স্ট্যান্ড সরলো

নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সামনে অবৈধ স্ট্যান্ড নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কঠোর সমালোচনা করার পরের দিনেই বদলে গেছে দৃশ্য। রাইফেল ক্লাবের সামনে থেকে উঠিযে দেওয়া হয়েছে অবৈধ স্ট্যান্ড। এমনকি রিকশাও দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না।

১৪ অক্টোবর বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায় এমন দৃশ্য। চাষাঢ়া মোড় থেকে আজগর ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত রাইফেল ক্লাবের সীমানা সম্পূর্ণ ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। রাইফেল ক্লাবের সীমানায় একটি রিকশাও দাঁড়াতে দিচ্ছেন না। দির্ঘদিন ধরে রাইফেল ক্লাবের সামনের সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা লেগুনা ও সিএনজি স্ট্যান্ড সরিয়ে এখন আজগর ফিলিং স্টেশেনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যে কারণে যানবাহনের জপলা লেগে থাকা চাষাঢ়া মোড়ের বর্তমান চিত্র এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা। ফলে অনায়াসেই চলাচল করতে পারছে অন্যান্য যানবাহন।

এর আগে গত ১৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে রাইফেল ক্লাবের সামনে গড়ে ওঠা স্ট্যান্ড নিয়ে নাম প্রকাশ না করে কোনো এক এমপির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছিলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ শহরের যত্রতত্র স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হচ্ছে। শহরের খানপুরে সিটি করপোরেশনের রশিদ ছাপিয়ে টাকা আদায় করা হয়। অবৈধ রশিদসহ গোয়েন্দা সংস্থাকে একাধিকবার দেয়া হয়েছে। কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। চাষাঢ়া রাইফেল ক্লাবে এমপি সাহেব বসে থাকেন। সেখানে ক্লাবের সামনেই ২৪ ঘণ্টা অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। আমি চাই ট্রাক স্ট্যান্ড নির্ধারিত স্থানে থাকুক। কিন্তু অন্য একজন জনপ্রতিনিধি চান ট্রাক স্ট্যান্ড মন্ডলপাড়াতেই থাকবে। কারণ চাঁদাবাজি করতেই হবে। এই চাঁদাবাজির পেছনে কারা আছে তা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু মুখ খুলি না।’

তিনি আরো বলেছিলেন, ‘যারা ফুটপাত দিয়ে মানুষের হাঁটাচলা প্রতিবন্ধকতা করছে তাদের পৃষ্ঠপোশকতা করছে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি। তাদের প্রতি আমি ধিক্কার জানাই। এ ফুটপাত রক্ষা করতে গিয়ে আমরা মার খেয়েছি। রক্ত ঝরিয়েছি। আমরা সেইসব পৃষ্ঠপোশক জনপ্রতিনিধিদের ধিক্কার জানাই যারা শহরের ৫ থেকে ১০ লাখ মানুষকে জিম্মি করে রাখছে। আমাদের হাঁটার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

মেয়র আইভী বলেছিলেন, ‘হকাররা যদি থানা ঘেরাও করতে পারে তাহলে আমাদের যে মারবে না সেটার কি নিশ্চয়তা আছে। কাউন্সিলররা যদি হকার উচ্ছেদ করতে যায় তাহলে হয়তো সব কাউন্সিলরদের মারবে না। কিন্তু ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে দেখলে তো রাস্তায় মারধর শুরু হবে। তাদের এসব ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও সাহসের পেছনে কারা সেটা খুঁজে বের করা উচিত। তাঁকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে সাথে নিয়ে হাঁটতে চায় নারায়ণগঞ্জের মানুষ। কিন্তু তাঁর এলাকা নারায়ণগঞ্জ না। তাঁর এলাকা ফতুল্লা। সেখানে গিয়ে মাতুব্বীগিরী করুক, নারায়ণগঞ্জ শহরে না।’


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও