প্রতিবাদ না প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, প্রয়োজনে মহাসড়ক অবরোধ

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:০৩ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০২০ শনিবার

প্রতিবাদ না প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, প্রয়োজনে মহাসড়ক অবরোধ

সাংবাদিক ইলিয়াস হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা এবং বিক্ষোভ মিছিল করেছে বন্দরে সম্মিলিত সাংবাদিক জোট। ১৭ অক্টোবর শনিবার সকাল ১০ টায় বন্দর প্রেসক্লাবের উদ্দ্যোগে এ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।

বন্দর প্রেসক্লাব`র সভাপতি মোবারক হোসেন কমল খানের সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় সংহতি প্রকাশ করে সাংবাদিক নেতারা বক্তব্যে বলেন, আমরা আর প্রতিবাদ জানাতে চাইনা। সময় এসেছে প্রতিরোধ করার। আমাদের লেখনী অস্ত্রের চাইতে শক্তিশালী। ইলিয়াসকে যারা হত্যা করেছে তারা মাদক ও গ্যাস চুরির সাথে জড়িত। হত্যাকান্ডের মূল হোতা মাসুদ প্রধানের অফিসে আসা যাওয়া ছিল স্থানীয় কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তার। শুধু মাসুদ প্রধানই নয় তাদের আশ্রয় দাতাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনুন। ইলিয়সের পরিবারের প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেই। তারা আজ বড় অসহায়।

সাংবাদিক নেতারা আরো বলেন, সন্ত্রাসীরা যেন আর কোন সাংবাদিকের উপর হামলা করতে সাহস না পায় তারজন্য ইলিয়াস হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবী করছি। এলাকা ভিত্তিক কিশোর অপরাধী ও মাদক বিক্রেতা এবং গ্যাস চোরদেরকে কারা সেল্টার দেয়? তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনুন।

বক্তারা আরো বলেন, সাংবাদিক হত্যা ঘটণায় পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক। তাদের কোন ভূমিকা নেই। ইলিয়াস হত্যার আসামীদেরকে জনতা ধরেছে। পুলিশ এখনও একজনকে ধরতে পারেনি। স্থানীয় প্রশাসন নিহতের পরিবারের কোন খোঁজ খবর নিচ্ছে না। খুনিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসামীরা বাদীসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে।

বক্তারা বলেন, আপনারা গ্যাস চুরি, মাদক বিক্রি করবেন আমরা প্রকাশ করলেই আমাদের উপর হামলা কিংবা হত্যা করবেন এভাবে চলতে পারে না।

বন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি কমল খান বলেন, প্রশাসনের ব্যার্থতায় বন্দরে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। শুধু প্রশাসনই নয় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যে ভাবে কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে তা বন্ধ করতে হবে। ইলিয়স হত্যাকান্ডের মামলার যে ধীরগতি তাতে আমরা সন্তুষ্ট না। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বাকী ৫ জনকে গ্রেফতার করুন। যারা খুনিদের সেল্টারদাতা তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিন।

কমল খান আরো বলেন, আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। তিন মাসের মধ্যে এ হত্যাকান্ডের বিচার করতে হবে। সাংবাদিকরা রাজপথে নামলে কাউকে লাগবে না। প্রয়োজনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ করা হবে। আগামী সোমবার বন্দর আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করবো। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করবো।

এসময় কমল খান সেক্রেটারী মহিউদ্দিন সিদ্দিকী ও সাংবাদিক সাব্বির আহম্মেদ সেন্টুর সমন্ময়ে নিহত সাংবাদিক ইলিয়াসের পরিবারকে সহায়তার জন্য একটি ফান্ড গঠন করেন। ফান্ডে কমল খান ১০ হাজার, বন্দর প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মহিউদ্দিন সিদ্দিকী ৫ হাজার ও আজকের নীরবাংলা পত্রিকার সহ সম্পাদহ শরীফ হাসান চিশিÍ ২ হাজার টাকা সহায়তা জমাদেন ফান্ডে।

মানববন্ধনে বক্ত্য রাখেন বন্দর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জি এম মাসুদ, সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান, কার্যকরী কমিটির সাধারণ-সম্পাদক মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, সহ-সাধারণ-সম্পাদক হাজী মোঃ নাসির উদ্দিন, সদস্য মাহফুজ জাহিদ, নিহত ইলিয়াসের মা এবং ছোট ভাই মোঃ সানোয়ার হোসেন, নাসিক ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সাল মোহাম্মদ সাগর, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ সুলতান আহম্মেদ, সম্পাদক ফয়েজ উদ্দিন লাভলু, ছায়ানুর তালুকদার, সম্পাদক তৌকির আহম্মেদ রাসেল, সহ সম্পাদক শরীফ হাসান চিশ্তি।

সাংবাদিক সাব্বির আহম্মেদ সেন্টুর সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় আরো বক্ত্য রাখেন সাংবাদিক নেতা জাহাঙ্গীর ডালিম, মোঃ শহীদুল্লাহ, সুলতান মাহমুদ, বি এম ইউনিয়ন স্কুল কলেজ গভর্নিং কমিটির সদস্য পনির ভূইয়া, স্থানীয় শ্রমিকলীগ নেতা মোঃ আলী হোসেন, সমাজ সেবক মোঃ নুরুল ইসলাম মিয়া, মোঃ শাহ আলম, মনির হোসেন, মাসুদুর রহমান দিপু, আব্দুর রহিম, শহিদুল্লাহ রাসেল, মোখলেছুর রহমান তোতা, অনিক, আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাবিবুর রহমান, মোমেন ইসলাম, সাইফুল্লাহ মাহমুদ টিটু, আনোয়ারুল হক, এম.আর. হায়দার রানা। উপস্থিত ছিলেন, বন্দর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কবির হোসেন, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মহিউদ্দিন সিদ্দিকি, যুগ্ম সম্পাদক হাজী নাছির উদ্দিন, বন্দর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা জি.এম. মাসুদ, বন্দর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান, নির্বাহী সদস্য জি এম মজনু, জি এম সুমন, মো: সহিদুল ইসলাম শিপু, শেখ আরিফ, দিপু, এস.এম আব্দুল্লাহ, শাহাজামাল, মেহদী হাসান রিপন, দ্বীন ইসলাম(১) দ্বীন ইসলাম (২)সহ জেলার প্রায় ৫ শতাধীক সাংবাদিক মানবাধিকারকর্মী এবং গন্যমান্য নারী পুরুষ মানববন্ধনে অংশ নেন। পরে বিক্ষোভ মিছিল খেয়া ঘাটে গিয়ে শেষ হয়।

প্রসঙ্গত ১১ অক্টোবর রাতে বাসায় যাওয়ার পথে উপজেলার আদমপুর এলাকায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা সাংবাদিক ইলিয়াসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। ওই রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তুষারকে আটক করে পুলিশ। এসময় তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ধারালো ছুরিও উদ্ধার করা হয়। পরে ভোরে জিওধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিন্নাত আলী ও মিসির আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত ইলিয়াসের স্ত্রী ৮জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে আসামি করা হয় গ্রেপ্তারকৃত তুষার (২৮), মিন্নাত আলী (৬০) ও মিসির আলী (৫৩)। আর পলাতক রয়েছে হাসনাত আহমেদ তুর্জয় (২৪), মাসুদ (৩৬), সাগর (২৬), পাভেল (২৫) ও হযরত আলী (৫০)।

নিহত ইলিয়াস উপজেলার জিওধরা এলাকার মজিবর মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় দৈনিক বিজয় পত্রিকার বন্দর সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করতো।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও