পিস্তল দিয়ে গুলি করেছিল কিন্তু ভাগ্যক্রমে লাগে নাই : আইভী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:২৩ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২০ বুধবার

পিস্তল দিয়ে গুলি করেছিল কিন্তু ভাগ্যক্রমে লাগে নাই : আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, শহরের ফুটপাতে শান্তিপূর্ণ হাঁটতে গিয়েই আমি আক্রমনের শিকার হয়েছিলাম। সেদিন আমি মারাও যেতে পারতাম। সরাসরি পিস্তল উঁচিয়ে মারতে আসলো। গুলি করলো। গুলিটা ভাগ্যক্রমে লাগে নাই তাই বেঁচে আছি। আমার বাবা আলী আহাম্মদ চুনকা পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকা সময়েই একটি হকার্স মার্কেট করেছিল। আমি তৎকালীন পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও ৬০০ হকারদের জন্য একটি মার্কেট করে দিয়েছিলাম। কিন্তু তার পরেও এখন শহরের ফুটপাতে হকার বসে।

আইভী বলেন, ‘হকারদের পক্ষ কেন অবলম্বন করতে হবে সেটাও সামনে প্রশ্ন। হকার সহ সব ধরনের নি¤œ আয়ের মানুষের প্রতিই আমাদের সহমর্মিতা আছে। সিটি করপোরেশনেরও আছে। নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধানতম বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতেই বসতে চায় হকাররা। হকাররা যে দল ক্ষমতায় আসে সে দলের সঙ্গেই আঁতাত করে। রাজনৈতিক নেতাদের সভা সমাবেশে যেখানে যায়। আর হকাররা মনে করে ফুটপাতে বসলেই কাস্টমার পাবে। তাদের মদদ দিচ্ছে রাজনীতিবিদ। আর হকারদের কাছ থেকে তো চাঁদা তোলা হয়। অনেকেই চাঁদা তুলে। সিটি করপোরেশনের কয়েকজন জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন আর তারা জড়িত না। আমরা সিটি করপোরেশন, ডিসি ও এসপি মিলে একাধিকবার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম হকার ফুটপাতে বসবে না। কিন্তু এত বড় ঘটনা ২ বছর আগে আমাদের মারধর করা হলো তার পরেও ফুটপাতে বসে হকারররা। গত সপ্তাহে হকাররা থানা ঘেরাও করে। এতেই তো প্রমাণিত হয় প্রশাসন কিংবা প্রভাবশালী কেউ এর পেছনে কাজ করছে। পুলিশ তো হকার বসতে দিতে চায় না। অথচ হকাররাও ঠিকই বসছে। তাদের খুটির জোর নিশ্চয় শক্ত।

আইভী বলেন, যার যে কাজ সে সেটা করলেই তো হয়ে যায়। সিটি করপোরেশনের কাজ সিটি করপোরেশনকে করতে হবে। কিন্তু এখানে যদি কেউ এসে বলে হকার ফুটপাতে বসবে তাহলে তো সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

বেসরকারী টেলিভিশন মাছরাঙ্গার ‘নগর ভাবনা’ বিষয়ক একটি টক শো অনুষ্ঠানে মেয়র আইভী এসব কথা বলেন। ২৭ অক্টোবর রাত ১১টায় এটা প্রচারিত হয়।

উল্লেখ্য ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে শহরেরর ফুটপাত হকারমুক্ত থাকে। পরে হকাররা টানা আন্দোলন শুরু করে। ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে সমাবেশ করে শামীম ওসমান। তিনি ঘোষণা দেন হকারদের পুনর্বাসনের আগে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত মঙ্গলবার বিকেল ৫টা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত হকার বসবে।

কিন্তু ওই সময়ে আইভী এও ঘোষণা দেন কোনভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। ঘোষণার প্রেক্ষিতে পরদিন ১৬ জানুয়ারি বিকেল ৪ টা ১৮ মিনিটে নগর ভবনের সামনে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও কাউন্সিলরদের নিয়ে অবস্থান নেন মেয়র আইভী। ওখান থেকে অনুগামী নেতাকর্মীদের নিয়ে আইভী মিছিল নিয়ে ফুটপাতের উপর দিয়ে চাষাঢ়ার দিকে আসতে থাকে। অপরদিকে চাষাঢ়া শহীদ মিনারে হকারদের কয়েকটি গ্রুপ বিকেল সোয়া ৪টার দিকে অবস্থান নেন।

বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে আইভীর নেতৃত্বে মিছিল চাষাঢ়া সায়াম প্লাজার সামনে আসে। সেখানে কয়েকজন হকারকে ফুটপাত থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে ব্যাপক বাকবিতন্ডা ঘটে। এছাড়া আইভীর মিছিলটি পুলিশ আটকে দেয়। পরে সায়াম প্লাজার সামনে ফুটপাতে মেয়র আইভী সহ তার সমর্থকেরা অবস্থান নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময়ে মেয়র আইভীকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মত ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুরো শহরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু শহরে যান চলাচল ও আশেপাশের সকল দোকানপাট।

১৬ জানুয়ারীর পর থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ হলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। বরং পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ১৬ জানুয়ারির হামলার ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়। অপর দুই সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান ও র‌্যাব-১১ এর সহকারী পরিচালক (এএসপি) বাবুল আখতার। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও চার দফায় সময় বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু আজও পর্যন্ত সেই প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও