ফতুল্লার ওসির বিরুদ্ধে ডিআইজিকে নালিশ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৩৮ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০২১ সোমবার

ফতুল্লার ওসির বিরুদ্ধে ডিআইজিকে নালিশ

অপরাধীরদের সাথে হাত মিলিয়ে ব্যাবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ এনে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধে পুলিশের ঢাক রেঞ্জ ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একজন ব্যবসায়ী।

১১ জানুয়ারী রোববার বিকালে ইসলাম গ্রুপের কর্ণধার ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম এ অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন যাবত ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন চাঁদাবাজ, ঠকবাজ, বিশ্বাস ঘাতক, দুশ্চরিত্র লোকদের সাথে আঁতাত করে। ওসি আমার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে আমাকে হয়রানি করছে। আর আমার ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতি ও সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য ওঠে পড়ে লেগেছে।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, আমরা যদি প্রশাসনের রক্ষকদের কাছে বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হই তাহলে প্লিজ দয়া করে থানার দরজা আমাদের জন্য বন্ধ করে দিন। তা না হলে আমার পরিবারে সকলকে হত্যা করুন।

প্রসঙ্গত গত ২৫ ডিসেম্বর ফতুল্লা মডেল থানায় মারধরের অভিযোগে মামলা করেছিলেন ইসলাম গ্রুপের কর্ণধার ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলামের বাড়ির দারোয়ান আবু তাহের। এরপর ২৯ ডিসেম্বর একই থানায় চেক ডিজঅনারের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন মনিরুল ইসলামের মালিকানাধীন ইসলাম গ্রুপ কোম্পানির ম্যানেজার (এডমিন) শফিকুল ইসলাম। প্রথম মামলা ও পরের জিডিতে বিবাদী করা হয়েছিল শহরের টানবাজারের এইচ এম এন্টারপ্রাইজের মালিক মেহেদী হাসান ও সুজন আহাম্মেদ মহসিনকে।

এদিকে বিবাদীদের পিতা শফিউদ্দিন গত ৪ জানুয়ারি ফতুল্লা থানাতেই তার দুই ছেলেকে আটকে রেখে চাঁদা আদায় করার লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে গত ২৯ ডিসেম্বর করা জিডিতে উল্লেখ সেই চেকেরই বরাত দেওয়া হয়। ছয়দিন আগে করা জিডি থাকা সত্ত্বেও একই চেকের মূলে মামলাও নেয় পুলিশ। এ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শফিকুল ইসলামের করা জিডি সূত্রে জানা যায়, মেহেদী হাসান (৩৫) ও মহসিনের (৩২) কাছে ওয়েস্টিজ ফেব্রিক্স ও বাতিল সুতা বিক্রি বাবদ প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার একটি একাউন্ট (নম্বর: ০০১১১০০০০২৪৪১) এর ৬ লাখ টাকার একটি চেক (৮৪৫৩০৯৩) প্রদান করে। গত ২৭ ডিসেম্বর চেক নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার পর ওই একাউন্টে কোনো টাকা নেই বলে জানা যায়। ওইদিনই মেহেদী ও মহসিনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তারা শফিকুল ইসলাম ও তার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে।

এদিকে জিডিতে উল্লেখ ওই একাউন্ট ও চেকের কথা উল্লেখ করে পাল্টা অভিযোগ দেন মেহেদী ও মহসিনের পিতা শফিউদ্দিন। থানায় দেওয়া লিখিত ওই অভিযোগে শফিউদ্দিন উল্লেখ করেছেন, গত ২৩ ডিসেম্বর রাতে তার দুই ছেলেকে ডেকে নিয়ে তাদের মারধর করে আটকে রাখা হয়। পরে ২৫ লাখ টাকা ও ৬ লাখ টাকার ওই চেকটি চাঁদা হিসেবে আদায় করা হয়। এই অভিযোগে বিবাদী করা হয় ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম, তার কোম্পানির ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম (জিডির বাদী) ও মনির হোসেনকে। এই অভিযোগটি পরে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে ফতুল্লা থানা পুলিশ।

এদিকে একই চেকের বিষয়ে থানায় সপ্তাহখানেক পূর্বে জিডি করা সত্ত্বেও মামলা নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে পুলিশের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী। সুনামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্যবসা করে আসছেন। ব্যবসায়ীকভাবে তাকে হেয় করার জন্য একটি চক্র তার পিছু লেগেছে।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে চক্রটি। এমন বিষয় আঁচ করতে পেরে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার শরণাপন্ন হই। উনি বিষয়গুলো বিস্তারিত শুনে নোট করে রাখেন। আমাকে আশ্বাস দেন কোনো জিডি কিংবা অভিযোগ করা লাগবে না। এখন দেখি ওসি তাদের সাথে মিলে অথনৈতিক সুবিধা নিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে হয়রানি করছে।’


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও