সন্ধ্যার পরেই মশার জ্বালা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫১ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০২১ সোমবার

সন্ধ্যার পরেই মশার জ্বালা

সন্ধ্যার পর থেকেই উৎপাত শুরু। কমবেশি সকলেরই হাত চলে। ঠাস্ ঠুস্ শব্দ হয়। কারো গালে। কারো নাকে। কামড় দেয় ছোট মশা। হাত পড়তেই ভোঁ। উড়ে চলে যায়। কখনো হাত লাল হয় রক্তে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শেখ মোস্তফা আলীর মতে, শুষ্ক মৌসুমে মশার উৎপাত বাড়ে। কেননা, এ সময়টায় বাড়ির পেছনে ঝোপঝাড়ে , ছাদে কিম্বা বাগানে পানি জমে নোংরা হয়ে যায়। শীতে বৃষ্টি হয়না বলে সেই জমে থাকা পানিটা আর বদলায় না। তাছাড়া শীতে ড্রেনেও পানির প্রবাহে তেমন গতি থাকে না। এ কারণে বদ্ধ বা আবদ্ধ পানিতে মশা জন্ম নেয়। বছরের এই সময়টায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যায়। আমাদের সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মশক নিধন অভিযান চলে।

এনসিসির স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে আরো জানা গেছে, ‘গত বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কাজ করবে এনসিসি। কোথায় এডিস মশা বংশবিস্তার করে, ঘনত্ব বেশি, কোন বয়সের মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয় বেশি এ তথ্যগুলো এখন আমরা জানি। এসব তথ্য-উপাত্ত কাজে লাগিয়ে বছরের শুরু থেকে কাজ করলে মশার উপদ্রব থেকে বাঁচা যাবে।’ গত বছর এনসিসির ‘চিরুনি অভিযান’ পরিচালনার ফলে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। সংস্থার উদ্যোগে বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিমালিকানাধীন বিভিন্ন জলাশয়, ডোবা, পুকুরের জলজ আগাছা ও কচুরিপানা পরিষ্কার করা হয়েছে। এ কাজ এখনো চলছে।

নগরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। বিশেষ করে এলাকায় মশার উপদ্রব বেশি বলে জানিয়েছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা। এদিকে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে নাগরিকদের সচেতন করতে চায় সিটি করপোরেশন (এনসিসি)। মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা আফরোজা খানম বলেন, ‘বাসার ছয়তলায় থাকি, কিন্তু মশার যন্ত্রণা থেকে নিস্তার নাই। সিটি করপোরেশন কাজ করে বললেও সে কাজের ফল আমরা পাচ্ছি না।’

দেওভোগ দাতা সড়কের সিরাজ বলেন, ‘মশার সাংঘাতিক উপদ্রব। আবাসিক এলাকা। আমরা আশা করেছিলাম হয়তো মশার উপদ্রব থেকে স্বস্তি পাব।’ তিনি বলেন, এ এলাকায় সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কাজ আছে। কিন্তু মশার উপদ্রব ঠেকাতে সে কাজ যথেষ্ট নয়। সিরাজ আরও বলেন, ড্রেনগুলো ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। এতে মশার ওষুধ দিলেও তা কাজ করে না।

ভূঁইয়ার বাগ এলাকায়ও আছে মশার উপদ্রব। সেখানকার বাসিন্দা শহীদ উদ্দিন বলেন, গত এক সপ্তাহে তিনি এলাকার মশার ওষুধ ছিটাতে দেখেননি।

জানাগেছে, শীত কমার সঙ্গে সঙ্গে সারা জেলায় বাড়ছে মশার উপদ্রব। এখনই মশক দমনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আবারও দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে এডিস মশার উপদ্রব তেমন ছিল না। তবে এবার জানুয়ারি মাস থেকেই নগরীতে এডিস মশার উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে। এখন উপস্থিতি কম থাকলেও তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্চ-এপ্রিলের দিকে এর আরো প্রকপ বাড়বে। তাই বৃষ্টি হওয়ার আগে আগেই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন থেকে এখনই মশার লার্ভা জন্মানো স্থান পরিষ্কারে বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। তা ধ্বংসে মাঠে নামতে হবে।

এদিকে সিটি করপোরেশন মশক নিয়ন্ত্রণে নানা কার্যক্রম চালানোর কথা থাকলেও নগরবাসীর অভিযোগ, তেমন কোনো কার্যক্রম চালাচ্ছে না তারা। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মশার উৎপাতে থাকা যাচ্ছে না। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাইফুল ইসলাম শিপলু জানান, সন্ধ্যা হলেই মশার জন্য বাইরে বের হওয়া মুশকিল হয়ে যায়। অন্যদিকে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, ‘বিকাল হলেই মশা হাত দিয়ে সরিয়ে রাস্তায় হাঁটতে হচ্ছে। এমন মারাত্মক অবস্থা আগে কখনো দেখিনি।’

অন্যদিকে স্প্রে না করে লার্ভিসাইডিং প্রয়োগ করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদেরা। এদিকে, সিডিসির সার্ভিল্যান্স চিকিৎসা কর্মকর্তা খাদিজা সুলতানার দেয়া তথ্যে দেখা যায়, ১২৬টি দেশে ইতিমধ্যে ডেঙ্গু জ্বর ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ২৫০ কোটির বেশি মানুষ ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে আছে। এতে আরও বলা হয়, গত আগস্টে দেশে ডেঙ্গু রোগী ছিল প্রায় ৫৩ হাজার। যা অতীতের সব সময়ের চেয়ে বেশি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ বছরও একই সময়ে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও